বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : আত্মতৃপ্তি নাকি আত্মশুদ্ধি



সদ্য সমাপ্ত সিলেট বরিশাল রাজশাহী এবং কিছুদিন পূর্বে অনুষ্টিত খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে বাহ্যিক আপাত দৃষ্টিতে ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগের জয় জয়কার এবং বিএনপির ভরাডুবি ঘটেছে।নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ পরিস্তিতি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন না হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ বিদেশে গোটা নির্বাচনী চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন বক্তব্যেও নির্বাচনের হালচিত্র জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়েছে।শেষ ধাপের তিন সিটি নির্বাচনে বিভিন্ন স্হানে বিভিন্ন প্রার্থীর উদ্বেগ আশঙ্কার জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহ নির্বাচন কমিশনারদের ‘গাজীপুর এবং খুলনা মার্কা নির্বাচন আর হবেনা’ এমন আশ্বাসের বাণীতে গাজীপুর এবং খুলনার নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে বিএনপির দাবী করার পক্ষে পরোক্ষ ভাবেই সমর্থন করা হয়েছে।
তারপরও সদ্য সমাপ্ত তিন সিটি নির্বাচনে নজির বিহীন অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটের মহোৎসব এবং আইন শৃঙ্খলা বাহীনির সরাসরি একচোখা ভূমিকা গোটা নির্বাচন ব্যবস্হাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আর নির্বাচনে তিনটি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে দুটিতে নিজেদের রূপরেখা মত এক তরফা বিজয়ে ক্ষমতাসীনরা আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তীরে এসে নৌকা ডুবিতে নেতা এবং কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, দোষাদোষী করে সামাজিক মিডিয়ায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে স্পষ্টত প্রমাণিত হয় সিলেটে নৌকার পরাজয়ে ক্ষমতাসীন দলের সব কলাকৌশলের প্রয়োগের পরও বিএনপির বিজয় একটি মিরাকল ঘটনা। দিনব্যাপি নিজেদের অনুকূলে সবকিছু একতরফা নিয়ন্ত্রিত থাকার পরও আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ভরাডুবিতে আওয়ামীলীগের প্রতি জনসর্মথনের কি ধরনের অবস্থা সেটি নিশ্চয় দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত স্বস্তির না হয়ে মারাত্মক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।এতকিছুর পরও এই নির্বাচন বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের জন্য আত্মশুদ্ধির একটি পথ দেখিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা যায়।
নিজেদের পক্ষে নিরব জনসমর্থন এবং আওয়ামীলীগের অধিনে অবাধ সুষ্ট নির্বাচন সম্ভব নয় বলে বিএনপির করা দাবী ইতিমধ্যে দেশের জনগণ তথা আর্ন্তজাতিক মহলের কাছে এই সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করতে সক্ষম হলেও বিএনপি এতে আত্মতৃপ্তিতে ভোগলে সেটা নিজেদের জন্যই আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হবে।কারণ সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক অবস্হার ত্রুটি বিচ্যুতি এবং ঘাটতি নির্ণয় করে আগামী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী আদায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে করণীয় কৌশল নির্ধারণে বিএনপি জোট এটিকে একটি মোক্ষম সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে পারে।
পক্ষান্তরে প্রায় সবকটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিজয়ী হয়ার আত্মতৃপ্তিতে না ভোগে বরং সিলেটের নির্বাচন থেকে ক্ষমতাসীনদের অতিমাত্রায় প্রশাসন নির্ভরতা এবং জনবিচ্ছিন্নতায় জনগণের মনভাব সম্পর্কে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে পারলে নিজেদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে অজানা আশঙ্কা এবং দেশের ভবিষ্যত নিয়ে একটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের শঙ্কা থেকে গোটা দেশ ও জাতি মুক্তি পেতে পারে।
কারণ অস্ত্রের বলপ্রয়োগ কিংবা প্রশাসনযন্ত্রের ব্যবহার করে ক্ষমতা অস্থায়ী হলেও জনগণই যে সকল ক্ষমতার মূল উৎস সেটা বারবার প্রমানিত।
আশা রাখি সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

(লেখক: দিদার ইবনে তাহের লস্কর, রাজনীতিক ও সংগঠক)