মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

জোয়ারে ভাসছে নৌকা



শেখ আব্দুল মজিদ:: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকী। পুরোদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নৌকায় ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন নগরীর আনাচে কানাচে। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে নৌকার পক্ষে কমর বেধে মাঠে নেমেছে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগসহ

অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর থেকে ঐক্যব্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে সিলেটের আওয়ামীলীগ।

যে কোন মূল্যে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে সিলেটের নির্বাচনী মাঠে নিমেছেন কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে সিলেটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহলায় স্থানীয় নেতাদের নিয়ে দিন রাত অবিরাম প্রচার-প্রচারণা, আলোচনা, পথসভা, গণসংযোগ করে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

সিসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয় চেয়ে ৭ প্রার্থী কেন্দ্রীয় আবেদন করেন। পরবর্তীতে নির্বাচন নিয়ে সিলেটের নেতাদের ডাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন দলীয় সিন্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নাম ঘোষনা করেন। ওই দিন তিনি বলেন, সকল বেদাভেদ ভূলে গিয়ে নৌকার পক্ষে সবাইকে ঐক্যব্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তোমাদের কাছে কিছু চাইনা, আমি শুধু নৌকার বিজয় চাই। যেমন কথা তেমন কাজ।

মেয়র প্রার্থীতায় সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা পর ওই দিন দিবাগত রাতেই ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন নৌকার পক্ষে আমাদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

চায়ের দোকান থেকে সবত্র এখন নির্বাচন নিয়ে চলছে হিসাব নিকাশ, জল্পনা কল্পনা। চলছে নানান সমিকরণ। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বিএনপির মনোনিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম কে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে যে দ্বিধাবিভক্তি ছিল তা দূর হয়ে গেছে।

সে কারণে কিছুটা সুবিধাজন অবস্থানে রয়েছেন আরিফ। সে কারণে কিছুটা ব্যাকফুটে কামরান। তবে জোট থেকে বের হয়ে জামায়াত প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বেকায়দায় ফেলেছে বিএনপিকে।

জানা গেছে, দেশের ১২টি সিটির মধ্যে ১১টিতে ছাড় দিয়ে কেবল সিলেটে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এ জন্য তারা মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে সবার আগে মাঠে নামে। একইসঙ্গে তারা ২০ দলীয় জোটের সমর্থনও চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি সিলেটে জামায়াতকে ছাড় না দিয়ে আরিফুল হককে প্রার্থী ঘোষণা করে। এতে জামায়াত ক্ষুব্ধ হয়। ২০১৩ সালের নির্বাচনে হেফাজত-জামায়াত ধানের পক্ষে কাজ করেছিল। বড় অবদান ছিল জামায়াতের।

কিন্তু এবারের নির্বাচেন তা সর্ম্পন ভিন্ন। রাজনীতিক বিশ্লক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় প্রার্থীর ভোট ধানের ধস নামিয়ে দিতে পারে। তার পরও আরো জটিল হিসাব-নিকাশ রয়েছে, হেফাজতে ইসলাম, ও বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’কে নিয়ে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন ধান কিংবা নৌকার পক্ষে এ দু’দলের সমর্থন যার পক্ষেই থাকবে সেই দল অনেকটা এগিয়ে থাকবে। কামরান-আরিফের জয় পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর এখন এই দু’দল। ওই দু’দলকে যারাই কাছে নিতে পারবে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।
স্বভাবে বিনয়ী কামরান এখনও সাধারণ মানুষের বেশ জনপ্রিয়। মাঠ জরিপে নৌকার জুয়ারে ভাসছেন কামরান। ভোটের আগেই সব জরিপে নৌকাকেই এগিয়ে রাখছেন সাধারণ ভোটারা। ভোটের আগেই কামরানে পক্ষে যে সুর উঠেছে সেই জোয়ারেই ভাসছে নৌকা।
২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আরিফের সাথে বড় ব্যবধানে পরাজিত হোন কামরান। নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যান কামরান। পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলতে নিজের পরিবারকে সাথে নিয়ে রাত দিন একাকার করছেন কামরান। সাতেই রয়েছে ঐক্যবদ্ধ, সিসিক নির্বাচনের সবচেয়ে শক্তিশালী সিলেটের আওয়ামীলীগ। সে কারণে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন কামরান।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক। সিলেটের উন্নয়নের স্বার্থে ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সিলেটের কৃতি সন্তান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের উন্নয়নের স্বার্থে সিলেটবাসীর প্রিয় নাম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে সিলেটের মানুষ বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলে আমি দৃঢ় আশাবাধী।