মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

কণ্ঠহীন মানুষের কণ্ঠস্বর হতে চান রুমেল



ডেস্ক রিপোর্ট:: বৃহস্পতিবার (১৯শে জুলাই) প্রকাশ করা হয় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ফেঞ্চুগঞ্জ বিজনেস ম্যানজমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে সফলতার সাথে জিপিএ-৪.৬৭ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জের তরুণ, উদীয়মান সাংবাদিক রুমেল আহমদ।

কথায় কথায় রুমেল জানালেন, পঞ্চম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গল্পের বই পড়তেন। পাশাপাশি দৈনিক পত্রিকাও পড়তেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন একদিন সাংবাদিক হবেন।

১০ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় স্থানীয় এক অনলাইন পত্রিকা ড্রীম সিলেট ডটকমে উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করার সুযোগ পান। সুযোগ পেয়ে এবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন একদিন বড় সাংবাদিক হবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখনো নানা বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

তাঁর জন্ম ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামে। বাবা মোস্তাক আলী পেশায় একজন কৃষক আর মা আখাতুন নেছা গৃহিণী। চার ভাই-এক বোনের মধ্যে চতুর্থ তিনি। প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে আসা এই তরুণ সাংবাদিক এরই মধ্যে সিলেটের দৈনিক সবুজ সিলেট পত্রিকায় উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

রুমেল পরিবার থেকে লেখালেখিতে তেমন উৎসাহ পাননি। তারপরও দমে যাননি তিনি। সাংবাদিকতাকে ভালোবেসে ফেলেন। এ প্রসঙ্গে রুমেল বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলে খুশি হয়ে বাবা ক্যামেরা কিনে দিয়েছিলেন। যদিও এসএসসি পরীক্ষায় রেজাল্ট আশানুরূপ হয়নি। ফলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে থাকতাম।

সেই সময়টাতে আমার সঙ্গী ছিল বই। বই পড়ে সময় কাটাতাম। পরিবার থেকে ধরেই নিয়েছিল আমার দ্বারা কিছু হবে না। বাবা স্থানীয় বাজারে একটি দোকানও ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন ব্যবসা করার জন্য। প্রায় সময়ই আমার জন্য বাবার কাছে অভিযোগ আসতো। স্থানীয় অনেকের বিরুদ্ধে অনলাইন পত্রিকায় লিখলেই বাবার কাছে অভিযোগ চলে আসতো। অনেক বাধা পেরিয়ে সংবাদ করেছি । কিন্তু ভয় পাইনি। এলাকায় মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করেছিল এসব কারণে।’

শুধু সাংবাদকিতা নয় এর ফাঁকে ফাঁকে সামাজিক কর্মকান্ডেও অংশ নিয়েছে এই তরুণ সাংবাদিক। ‘হিউম্যান রাইটস্ মনিটরিং অর্গানাইজেশন’ নামে মানবাধিকার সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় সদস্য তিনি।

রুমেল আহমদ সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে ভবিষ্যত স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন,‘প্রান্তিক এলাকার ছিন্নমূল শ্রমজীবী মানুষের কষ্টের কথাগুলো সংবাদের পাতায় তুলে ধরতে চাই। যাঁরা অবহেলিত,উপেক্ষিত সেই সকল কণ্ঠহীন মানুষদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করে যেতে চাই।