মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ পালিত হলো পবিত্র হজ  » «   কমলগঞ্জে পরকিয়ার জেরে পাষন্ড স্বামীর হাতে প্রাণ গেল এক গৃহবধুর !  » «   বিয়ানীবাজার থানায় বিত্তশালীদের মামলা রেকর্ড, দিনমজুরের মা লাঞ্ছিত!  » «   ধর্মপাশায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  » «   সেই গোপন অস্ত্র প্রদর্শণ করল হিজবুল্লাহ  » «   জগন্নাথপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার  » «   ওসমানীনগরে পশু জবাই করার সরঞ্জামাদী তৈরীতে ব্যস্ত কামারিরা  » «   হা‌সিনা সরকার আবারো বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার নীল নকসা করছে: মিজানুর রহমান চৌধুরী  » «   জগন্নাথপুরে নব-বধূকে এসিড খাইয়ে হত্যার চেষ্টা  » «   সিলেটের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু নামাচ্ছে চোরাকারবারী সিন্ডিকেট  » «  

সরকারি জায়গায় স্থায়ী বাঁধ: ভোগান্তিতে দুই জেলার লক্ষাধিক মানুষ



বিপ্লব রায়, সুনামগঞ্জ:: নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ী উপজেলার লিপসা বাজার কাঠের বাজার নামে পরিচিত। প্রায় ৫০বছর আগে থেকে এই বাজারে কাঠ ক্রয় বিক্রয়ের হাট বসে।

কাঠের বাজার নামে পরিচিতি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের ৪টি উপজেলার মানুষ লিপসা বাজারেই কাঠ ক্রয় করেন।

হেমন্তে যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায় শুধু বর্ষা মাসেই বাজার জমজমাট রুপ লাভ করে। দিরাই শাল্লা এই দুই উপজেলার মানুষ লিপসা বাজারে যাতায়াতের জন্য এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অন্যদিকে নেত্রকোনা জেলার মদন ও খালিয়াজুড়ী উপজেলার মানষেরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে।

বর্ষায় এই দুই জেলার যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা হল শাল্লা উপজেলার মামুদনগর খাল। এই খালটিতে অপ্রয়োজনীয় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় নৌকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার এবছর হাওড় রক্ষা বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

হাওড় রক্ষা বাঁধের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে স্থায়ী এবং অপ্রয়োজনী বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়নি। কিন্তু শাল্লায় বেশির ভাগ বরাদ্দ অপ্রয়োজনীয় বাঁধে। আর এরই ধারাবাহিকতায় মামুদনগর খালে অপ্রয়োজনীয় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পাউবো। এই বাঁধ নির্মাণের ফলেই দুই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে নেত্রকোনা এবং সুনামগঞ্জ জেলার যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা মামুদনগর খাল। এই খালের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ করলে দুই জেলার লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মামুদনগর খালে বাঁধ নির্মাণ করে বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তারা সরকারি টাকা লোপাট করেছে। উপজেলার ভাটি মোহাম্মদনগর মৌজার জেএল ১২ নং এবং দাগ নং ২৭৩৪ ও ২৬৩০ প্রায় ৫একর জায়গায় নিয়ে এই অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

মামুদনগর গ্রামের ইলিয়াস মিয়া জানান, বহু বছর ধরেই মামুদনগর খাল দিয়ে মদন থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় নৌকা চলাচল করে। আর খালিয়াজুড়ী ও লিপসা বাজারে চলাচলের একমাত্র রাস্তা এই খালটি। কিন্তু এবছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ আসলে এই খালের মধ্যে দিয়ে প্রকল্প তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই খালে বাঁধের কোনো প্রয়োজন নেই। যার ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় দুই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এড. অবনী মোহন দাস জানান, পুর্বে থেকেই দিরাই শাল্লা ও মদন, লিপসার সঙ্গে নৌকায় যোগাযোগের বন্ধন রয়েছে। পূর্ব পুরুষেরা এই খাল দিয়েই কাঠ ক্রয়ের জন্য লিপসা বাজারে যাওয়া আসা করতেন।

এখন দেখা গেছে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরী করে খালের মধ্যে দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে দুই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাটা বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পায়নি। ফলে স্থায়ী এই বাঁধ নির্মাণের জন্য দুই জেলার লক্ষাধিক মানুষেরা পড়েছে যোগাযোগের দুর্ভোগে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুম বিল্লা’হর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি। কারন উনি ফোন রিসিভ করেননি।