মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

কমলগঞ্জের লাঘাটা নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি ও কারেন্ট জালে সয়লাব



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে::মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাঘাটা নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা এবং নানা জাতের জলজ প্রাণী ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। এছাড়া লাঘাটা ও পলক নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে সয়লাব হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পর একশ্রেণীর অসাধু মাছ শিকারী চক্র লাঘাটা ও পলকি নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বাঁশের খাঁটি স্থাপন করে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এতে নানা জাতের জলজ প্রাণী ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এভাবে জলাধারকে কেন্দ্র করে শত শত বাঁশের খাঁটি ও কারেন্ট জাল ফেলে মাছ শিকার করছে। মাছের সাথে কারেন্ট জালে ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। স্থানীয় হাটবাজার সমুহে অবাধে নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে। পতনঊষার ইউনিয়নের লাঘাটা সেতুর নিচে সেতু সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বাঁশের খাঁটি (বেড়া) ও পলক নদীর উপর বাঁশের খাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ এসব বাঁশের খাঁটি স্থাপন করার ফলে পানি নিস্কাশন ও মাছের অবাধ গতিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ট হচ্ছে। বাঁশের খাঁটির সাথে স্থাপিত মাছ ধরার খাঁচায়ও (পারন) কুচিয়া, সাপসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণি ধরা পড়ছে এবং মারা যাচ্ছে। হাওর ও নদী রক্ষা কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান তবারক. পতনঊষারের সমাজকর্মী আনোয়ার খানসহ স্থানীয়রা বলেন, সাম্প্রতিক বন্যার পর পরই লাঘাটা ও পলক নদীতে অসংখ্য বাঁশের খাঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া লাঘাটা ও পলক নদীর বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে সয়লাব হয়ে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও তারা কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধভাবে বাঁশের খাঁটি ও কারেন্ট জাল এর বিষয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।