বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বর্ষাকালে ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করছে কোমলমতি শিশুরা



বিপ্লব রায়, সুনামগঞ্জ থেকে:: চারদিকে থৈ থৈ পানি। কিছু দুর পর পর একখ- উঁচু ভূমি ছোট দ্বীপের মতো একেকটা গ্রাম।

পানির কারণে ঘর থেকে বের হওয়ার জো নেই। হাওর আর নদীর বড় বড় ঢেউয়ে ভেঙে পড়ছে ঘরবাড়ি। হাওরের মানুষেরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেই কাটান বর্ষার ৬টি মাস।

স্থানীয়দের একটি প্রবাদ আছে ‘বর্ষা নাও হেমন্তে পাও ‘ এই হচ্ছে ভাটির হালচাল। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এই হাওরাঞ্চলের মানুষদের। এমনকি হাওরের মধ্যে অবস্থানরত বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। নড়বড়ে বাঁশের সাকোই হচ্ছে একমাত্র ভরসা। হাওরের ঢেউয়ের গর্জন ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর জন্যই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হচ্ছে ৮০ ভাগ শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ে রাস্তা না থাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের জন্যই শিক্ষার্থীরা অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। শিশুদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে অভিভাবকরা থাকেন ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে। বর্ষা হলেই প্রতি বছর এমন ঝুঁকিতে বিদ্যালয়ে আসতে হয় কোমলমতি শিশুদের। ঝুঁকিপূর্ণ এই দৃশ্যটি দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের গরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয় মাঠটি ডুবন্ত হওয়ায় এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিশুরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। স্থানীয় এমপি আশ^াস দিয়েছিলেন রাস্তা নির্মাণের জন্য। তবে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। গরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিউলী আক্তার জানায়, স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ওই সাঁকো। সাঁকো পার হওয়ার সময় নড়ে ওঠে। তখন ভয় করে। অনেকে পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়। বই-খাতা, জামা-কাপড় নষ্ট হয়।

ক্লাস না করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। আব্দুল আওয়াল জানান, প্রতিদিনই আমার মেয়েটিকে স্কুলে পাঠাতে হয়। তখন কাঁধে ব্যাগ, এক হাতে স্যান্ডেল এবং অন্য হাত দিয়ে বাঁশ ধরে পা টিপে টিপে একটা বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন মেয়কে নিয়ে যাওয়া আসা করি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল নাহার বলেন, স্থানীয় এমপি এবং ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানিয়েছি রাস্তা নির্মাণের জন্য। শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীরাই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে।

জগদল ইউপি চেয়ারম্যান শিবলী বেগ জানান, বিদ্যালয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য আবেদন করেছে। স্থানীয় এমপির সাথে পরামর্শ করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হালীম জানান, গরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করা একেবারে ঝুকিপূর্ণ। তবে এই ঝুকিপূর্ণের কারনে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থির হার বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) সাহিদুল ইসলাম জানান, গরমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঝুঁকিপূর্ণের বিষয়টি আমি প্রথম শুনেছি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব। আর রাস্তা নির্মাণের জন্য কেউ কোনো আবেদন করেননি। তবে খোঁজ নিয়ে এর একটা বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।