বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন চায় ইইউ  » «   ছাতকে পানিতে ডুবে দু’বোনের মৃত্যু  » «   বিমানবন্দরে গণসংবর্ধনা: যুক্তরাজ্যে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে দেশে ফিরলেন মিসবাহ সিরাজ  » «   জৈন্তাপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ উপজেলা কমিটির সভা  » «   প্রচন্ড গরমে পুড়ছে জগন্নাথপুর  » «   সিলেটে কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা : আহত তিন  » «   নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা: উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় সিলেট নগরবাসী  » «   এইচএসসি পরীক্ষায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ’র ধারাবাহিক সাফল্য  » «   কামরানের নৌকার সমর্থনে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সভা  » «   আদালতপাড়া ও আখালীয়া এলাকায় টেবিল ঘড়ির সমর্থনে গণসংযোগ  » «  

ধলাই নদীর নতুন বাঁধ নির্মাণের ৩ মাসেই নদীগর্ভে, আতংকে কয়েক হাজার পরিবার



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মণিপুরী অধ্যুষিত হিরামতি গ্রামের ধলাই নদীর বন্যা প্রতিরক্ষার ৮শ ফুট লম্বা বাঁধটি নতুন ভাবে নির্মিত হওয়ার ৩ মাসের মধ্যেই প্রায় ৫শ ফুট বাঁধটির ফাটলসহ অধিকাংশ চলে গেছে নদী গর্ভে। হিরামতির বাঁধটি হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপুর্ণ।

এছাড়া ছয়ছিড়ি, শিমুলতলা, কাটাবিলসহ আরো কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধগুলো ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় হিরামতি গ্রামসহ আতংকে রয়েছেন চা বাগান ও কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। সম্প্রতি মাধবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু, ও স্থানীয় ইউপি সদস্য রনজিৎ কুমার সিংহ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিরামতির বাঁধ এলাকায় গত ২ জুলাই মানববন্ধন করে সরকারী মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

তারা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম কাছে জরুরী ভিত্তিতে বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কার এবং নদীর মধ্যে অপরপাশে জেগে উঠা চর কাটার জোর দাবী জানিয়েছেন। অন্যথায় টানা বৃষ্টি শুরু হলে যেকোন মুহুর্তে তলিয়ে যেতে পারে বেশ কয়েকটি গ্রাম। নদী ভাঙ্গনের আতংকের মধ্যে ও ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছেন কয়েক হাজার পরিবার।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানান, যথাসময়ে ধলাই নদীর হিরামতির বাঁধটি স্থায়ীভাবে ব্লক দিয়ে মেরামত না করা গেলে আর নদীর পানি বাড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতভাগ। কারণ বাঁধটি সামান্য একটু জায়গা বাকি রয়েছে ভাঙ্গতে। কারণ ৩ মাস পূর্বে দেয়া ধলাই নদীর বাঁধটি অধিকাংশ নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বাঁধ ভাঙ্গলে মাধবপুর, ভানুগাছ বাজারসহ কমলগঞ্জ, ও মুন্সিবাজার পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবার বন্যার পানিতে পানিবন্দী সহ চরম দূর্ভোগে পড়বে। এদিকে স্থানীয় রাজনীতিবিদ সৈয়দ শফিকুর রহমান, শ্যাম কুমার সিংহ, রামহরি নুনিয়া, হিরামতি গ্রামের শিক্ষক পুর্ণচান সিংহ, বাবুল সিংহ, ব্যবসায়ী বদন সিংহ, মাধবপুর বাজারের প্রেমচাঁন কানু, তপন কালোয়ার অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন পূর্বে হিরামতি নতুন বাঁধের কাজ করা হয়, এ সময় ঠিকাদার ধলাই নদীর পুরনো বাঁধের ভেতরের অংশের মাটি কেটে নতুন বাঁধ তৈরী করায় ৩ মাস যেতে না যেতেই বাঁধটি চলে গেছে নদী গর্ভে।

আবারো এ এলাকার মানুষ পড়েছে চরম ঝুঁকির মুখে। তারা আরো বলেন ,পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার গত ৩ মাস আগে হিরামতি এলাকায় প্রায় ৮ শত ফুট লম্বা নতুন বাঁধ দেয়ার ৩ মাসের মধ্যেই তা আবার চলে গেছে নদী গর্ভে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তীকে জানালে, তার নির্দেশে ঠিকাদার হিরামতি বাঁধের পিছনের অংশে কিছু বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধটিকে সাপোর্ট দিয়েছেন।

কিন্তু আবার পানি বড়লেই বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আলাপকালে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, এ ইউনিয়নের হীরামতি, শিমুলতলা, ছয়ছিড়ি, কাটাবিলসহ কমপক্ষে ৭/৮ টি স্থানে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কমলগঞ্জে সাম্প্রতিক কালের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে আকস্মিক বন্যার পানি বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ঢুকে বেশ কিছু এলাকার ফসলী জমি তলিয়ে গিয়ে বীজতলা বিনিষ্ট করেছে।

এদিকে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বেশ কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ধলাই ও মনু নদের ওপর সার্বক্ষনিক নজরদারি করছে। ইতিমধ্যে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার করিমপুর, মাধবপুর ইউনিয়নের কাটাবিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধগুলোর কাজ করা হয়েছে। বাকীগুলো জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগে গ্রহণ করা হবে। এজন্য সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন একটি টিম কমলগঞ্জ সফর করে গেছেন। শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।