শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোতোয়ালী থানার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  » «   জগন্নাথপুরে ছাত্রদল নেতাকে ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক করায় ১১ সদস্যের পদত্যাগ !  » «   খাদিমনগরে ইউপি সদস্য দিলুকে জড়িয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন  » «   কারবালার আত্মাদান হলো জালিমের সামনে আল্লাহর বাণী প্রচারে সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত: রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী  » «   খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চালিয়ে যাওয়া ন্যায়বিচার পরিপন্থি: ফখরুল  » «   বিশ্বনাথে নারীদের ত্রি-মাসিক সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন  » «   সিলেটে শিশু অপহরণ ও ধর্ষণ : ৬ দিনপর রংপুর থেকে উদ্ধার  » «   সিলেট আদালতে স্বীকারোক্তি : ধর্ষণের পর পানিতে চুবিয়ে রুমিকে হত্যা  » «   ওসমানীনগরে প্রানীসম্পদ ও ভেটেনারি হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন উদ্ভোধন  » «   ছাতকে সেচ্ছাশ্রমে কাঁচা সড়ক সংস্কার  » «  

বিএনপিকে বাঁশ, আ‘লীগ কে পাশ করানোর মিশনে সিলেট জামায়াত !



ফয়সাল আমীন:: সিলেট থেকে শুরু সিলেট থেকে শেষ হয়তো জামায়াত-বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের সংসার ! সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে জামায়াতের রহস্য ঘেরা অনড় অবস্থান এমন শংকা এখন সচেতন মহলে। সিটি নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটে ২ বিদ্রোহী প্রার্থী। জামায়াত ও খোদ বিএনপির এই দুইজন। তাদের বাগে আনতে সকল চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি তথা জোটের। তারা নির্বাচন করবেন এটাই চুড়ান্ত। তাই গোটা বিষয়টি এখন নানা প্রশ্নে তোলপাড়।

জেলা বিএনপির সেক্রেটারী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিমকে বহিস্কার করা হয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী গলার কাঁটা হয়ে গেছে এখন বিএনপির। স্থানীয় রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে বাঁশ, আ‘লীগকে পাশ করানোর মিশনে জামায়াত তাদের প্রার্থীতা নিয়ে সিলেটে অবিচল। তারা নির্বাচনে থাকবে-ই এমন জেদি মনোভাব জামায়াতের দীর্ঘ কৌশলী পথ চলার বিপরীত চরিত্র বলে মনে করছেন অনেকে।

প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্তি চালাকি জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের বৈশিষ্ট্য বল্ওে অনেকের ধারনা। তবে জামায়াতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, জামায়াতের হারানোর কিছু নেই, জোটে থাকলেই কি, না থাকলেই কি ? বরং বিএনপি দাদাঘিরী অবস্থানের বিরুদ্ধে, এই নির্বাচন হবে তাদের জন্য একটি শিক্ষা । তবে তিনি এ্ও শংকা প্রকাশ করে বলেন , বিএনপির সাথে সর্ম্পক অবনতির মধ্যে দিয়ে দেশের রাজনীতির মাঠে বন্ধুহীন হয়ে যাবে জামায়াত।

দেশের আলেম সমাজ সহ ধর্মীয় রাজনীতিক দল তথা বিভিন্ন পীর বুর্জুগদরবারের সাথে জামায়াতের সর্ম্পকের দুরত্ব স্বীকৃত। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নামকরন বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে গাঁ-ঝাড়া দিয়ে উঠে জামায়াত। সখ্যতা গড়ে রাজপথে বিএনপির সাথে।

একই সাথে নামকরন ঘটনা, ধমীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক হ্ওয়ায় পীর বুর্জুগ সহ সর্বস্তরের আলেম উলামার সমর্থন পায় বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্বে নামকরন বিরোধী আন্দোলন। এক পর্যায়ে এই আন্দোলন দেশব্যাপী ঝড় তোলে। সরকার বিরোধী আন্দোলন্ও বেগবান হয়ে উঠে। এপর্যায়ে সরকারের পতন হয়, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের নেতৃত্ব গঠিত ৪ দলীয় জোট ভূমি ধ্বস বিজয় ছিনিয়ে নেয়। তারপর সরকার গঠনে শরিক হয়েই, স্বার্থপর হয়ে উঠে জামায়াত।

এক পর্যায়ে জামায়াতের প্রভাবে কোনঠাসা হয়ে পড়ে জোটের শরিক সমমনা দলগুলো। বিশেষ করে ইসলামী বিভিন্ন সংগঠন। জামায়াতের কর্তৃত্বে তারা মান অভিমানে দুরত্ব সৃষ্টি করেন সরকার তথা বিএনপির সাথে। কিন্ত বিএনপি জামায়াতের ঐক্যে থেকেই যায় নানা বাঁকে। তাদের সর্ম্পকের প্রকাশ্যে শক্র আ্ওয়ামীলীগ, একই সাথে বিএনপি শুভাকাংখি অন্যান্য রাজনীতিক দলগুলো ও। কারন একটিই বিএনপির জামায়াত নির্ভরতা। যেই সিলেট থেকে বিএনপি-জামায়াত সর্ম্পক দৃড়তা পেয়েছিল, সেই সিলেট থেকে বিএনপি-জামায়াতের সর্ম্পকের অবনতি এখন প্রকাশ্যে ঘটছে সিটি নির্বাচকে কেন্দ্র করে। কোনভাবেই নির্বাচনে বিএনপিকে ছাড় দিতে রাজি হয়নি তারা। অতি কৌশলী জামায়াত রাজনীতির এমন অনমনীয়ত নিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রার্থীতার পেছনে দলের কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমানের ভূমিকাই মূখ্য। জনশ্রুতি রয়েছে স্থানীয় জামায়াত -আ্ওয়ামীলীগের কতিপয় নেতাদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক পরীক্ষিত সর্ম্পক। তাদের এ সিন্ডিকেট নিয়ে অতীতে সংবাদ মাধ্যমে ছিল সরব্ও।

এমনকি আ্‘লীগের ওই নেতাদের ব্যাপারে দলের সভানেত্রীর নিকট তথ্য রয়েছে। সেই দিন পুরোনো হল্ওে হালে সর্ম্পকটা শাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে আ্ওয়ামীলীগের জন্য। সেকারনে ব্যবসায়িক সর্ম্পক রক্ষায় কৌশলে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দাড় করিয়েছেন জামায়াতের ব্যবসায়িক বির্তকিত কতিপয় নেতা। ব্যবসায়িক নেতাদের মধ্যে একটি সুনামধন্য বেসরকারী হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাওলানা উপাধির একজন ।

২০ দলীয় জোটের একাধিক নেতা বলেন, জোটের প্রার্থীতা নিয়ে স্থানীয় এক বৈঠকে সব চেয়ে কঠোর ভাবে কথা বলেছেন ওই ম্ওালানা জামায়াত নেতা। সেদিন তিনি ঘোষনা দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীতা থাকবেই। একজন সদ্য বিদায়ী মেয়রকে বাদ দিয়ে জামায়াত প্রার্থীকে মনোনয়ন দ্ওেয়ার দাবী যে ফিক্সড মিশন ছিল ্এমন কথাও বলেন বিএনপির ওই নেতা।

এব্যাপারে নেজামে ইসলাম পাটির সভাপতি ্ও বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যেেজাটে চেয়ারম্যান এডভোকেট ম্ওালানা আব্দুল রকিব বলেন, জামায়াত ১৯৯১ সালে বিএনপি, ৯৬ সালে আ্ওয়ামীলীগের সাথে বিএনপি বিরোধী হয়ে উঠে। স্বার্থ যেখানে তারা যে সেখানে যাবেনা, তা অবিশ্বাস্য নয়। তিনি বলেন, গোপনে আ্‘লীগের সাথে স্বার্থগত কোন লিয়াজোঁ করলেও প্রকাশ্যে বন্ধুত্ব দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, নি:স্বার্থ অনেক রাজনীতিক দল ও ধমীয় সমমনা সংগঠন রয়েছে যারা বিএনপির সাথে সর্ম্পক উন্নয়নে আগ্রহী। কিন্তু জামায়াত কারনে তারা দুরে। তাই জামায়াত সরে গেলে তারাই বিএনপির সহযোগী হয়ে উঠবে।
মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু বলেন, বিএনপির পাশে থেকে দেশের রাজনীতিতে নিজদের অস্তিত্ব ছড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত । বিএনপি সরে দাড়ালে , তারা এক ঘরে হয়ে যাবে। তিনি বলে বিএনপির জন্য জামায়াতের কোন দরকার নেই, তারা সব সময় স্বার্থপর। বিএনপির প্রয়োজনে একাই একশ। জামায়াত রাজনীতিক স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় যে মরিয়া সিলেটের সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থীতাই প্রমান। জামায়াতকে চিনতে দেরী হয়ে গেল বলে আফসোস করেন তিনি।