সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
জোয়ারে ভাসছে নৌকা  » «   টরোন্টোতে এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ আহত ৯, বন্দুকধারীর আত্মহত্যা  » «   সিলেটে গ্রেফতার শুরু  » «   নগর জুড়ে টেবিল ঘড়ির সমর্থনে গণসংযোগ  » «   সংবাদ সম্মেলনে: এমপি মানিক রাজাকারের সন্তান তার ভাই সকল অপকর্মের হোতা  » «   মানুষ তাঁর সৎকাজ ও সদাচরণের মাধ্যমে অন্যের মনে স্থায়ী আসন করে নিতে পারে  » «   বিয়ানীবাজারের বালিঙ্গা বাজারে এনআরবি ব্যাংকের আউটলেট এজেন্টের উদ্বোধন  » «   কামরানের বিরুদ্ধে ফের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আরিফের  » «   ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের স্বার্থেই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান ব্যবসায়ীদের  » «   বখাটের উত্যক্ত অতিষ্ঠ কলেজ ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি  » «  

ডিআইজি মিজানের সম্পদ বিবরণী চাইবে দুদক



ডেস্ক: পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় তার সম্পদ বিবরণী চাওয়া হচ্ছে।

কমিশন সভায় সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের গণসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৩ মে দুদকের পক্ষ থেকে ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এরপর জিআইজি মিজানের বক্তব্য ও তার দাখিল করা সহায় সম্পদের যাবতীয় নথি পর্যালোচনা করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

তিনি তার প্রতিবেদনে ডিআইজি মিজানের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারির সুপারিশ করেন। কমিশন সোমবার তাতে অনুমোদন দেয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের অনুমোদন পাওয়ায় অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আজ-কালের মধ্যেই ডিআইজি মিজানের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠাবেন।

এ বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান রেখে আরেক নারীকে জোর করে বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই এক নারী সংবাদ পাঠিকাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ ওঠার পর তাকে ডিএমপি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি ফেব্র“য়ারিতে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ৩ মে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে ডিআইজি মিজানকে ৭ ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম ও উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই দিনই তাকে নিজের অর্জিত সম্পদের পক্ষে নথিপত্রসহ যাবতীয় তথ্য দুদকে দাখিল করতে বলা হলে পরে তিনি তা জমা দেন।

ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে নানা উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আসে দুদকের কাছে। সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য ১০ ফেব্র“য়ারি দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

এরই মধ্যে দুদক জানতে পারে, ডিআইজি মিজান তার এক ভাগ্নের নামে সেগুনবাগিচায় দুই হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া দিয়েছেন। তার এক ভাইয়ের নামে বেইলি রোডে কিনেছেন আলিশান ফ্ল্যাট। উত্তরায় স্ত্রীর নামে আছে ফ্ল্যাট ও প্লট। হবিগঞ্জে রয়েছে তার বাগানবাড়ি।

এভাবে তার সম্পদের একটা লম্বা তালিকা পায় দুদক। তিনি তার দুই সন্তানের পেছনে কানাডায় লেখাপড়ার খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৪-৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তিনি দুদকের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

যদিও তিনি দুদক কর্মকর্তাদের বলেছেন, তার যা সম্পদ আছে, সবই তার আয়কর নথিতে দেখানো আছে। দুদকের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সম্পদের বিবরণী দাখিলের পর ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে শুরু হবে মূল অনুসন্ধান।