বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঘুরে আসুন ‘মিনি কক্সবাজার’ হাকালুকি হাওরে



রুমেল আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে:: উত্তাল ঢেউ আঁছড়ে পড়ছে তীরে। ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করে মাছ ধরতে ব্যস্ত জেলেরা। উত্তাল ঢেউ কাটিয়ে নৌকা নিয়ে ছুঁটছেন মাঝি-মাল্লা। বর্ষায় এমন রূপ দেখা যায় হাকালুকি হাওরে।

বর্ষা আর হেমন্ত এই দুই মৌসুমে প্রকৃতির বুকে দুই ধরনের চিত্র ধারণ করে হাকালুকি হাওর।

ভরা যৌবনে হাকালুকির স্বচ্ছ জলরাশির শান্তভাব যেন প্রকৃতির বুকে শীতল পাটি বিছিয়ে দেয়। এ দৃশ্য দেখে বিমোহিত হন পর্যটকরা। স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটেন অনেকে। সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনার স্থান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা তীরবর্তী ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্ট। এখান থেকে সাগরের ন্যয় বিস্তৃত হাকালুকি হাওরকে এক পলকে দেখা যায়।

বর্ষায় হাকালুকির উত্তাল ঢেউয়ের তরঙ্গের গর্জন যেন আরেক সমুদ্র। সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। হাকালুকির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশে অবস্থান করতে হয়। এই উপজেলার ঘিলাছড়ার জিরো পয়েন্ট থেকে উপভোগ করা যায় হাকালুকির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এখানে প্রতিদিন ভীড় জমান হাজারো পর্যটকরা। এক-দুশ টাকায় স্থানীয়রা ছোট ট্রলারে করে পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখান হাকালুকির তীলবর্তী এলাকা।

সিলেটের সবুজ পাহাড় বেষ্টিত স্বচ্ছ জলদারা বিছনাকান্দি, জলারবন, রাতারগুল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা জাফলং-লালাখাল আর সবুজ গালিচায় মোড়ানো চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগের আরেক অনুষঙ্গ হতে পারে ‘মিনি কক্সবাজার হাকালুকি হাওর’। প্রতিদিন বন্ধু-বান্ধব পরিবার নিয়ে নানা জায়গা থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে খ্যাত হাকালুকি হাওরে।

সকাল থেকে রাত অবদি হাজারো মানুষের কোলাহলে উৎসব মুখর হয়ে থাকে ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্ট এলাকা। স্থানীয়রাও আনন্দের সাথে পর্যটকদের নানান সাহায্য করে থাকেন। দেশের নানা স্থান থেকে আসা পর্যটকরা থৈ থৈ হাওরে ভাড়ায় চালিত নানা ধলনের নৌ যান নিয়ে ঘুরছেন এই ‘মিনি কক্সবাজারে’। এডভেঞ্চার প্রিয়রা স্পিড বোট, জেটস্কি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন হাওরে।

সিলেট থেকে ঘুরতে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন হাকালুকি হাওরের ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্টে অনেক আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে মধ্যবিত্তরা অল্প খরচে কক্সবাজারের স্বাদ নিতে পারবেন। পর্যটক ব্যবসায়ী আব্দুল মুমিন বলেন, ভ্রমণপিপাসুরা যাতে নিজের ইচ্ছা মতো আনন্দ করতে পারেন তাই হাওর বিলাসে থাকা খাওয়া রান্নার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সবাই যাতে সাধ্য মতো নৌ ভ্রমণ করতে পারেন সে জন্য নানা ধরনের বোট রাখা আছে। আছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।