বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পুলিশের সহযোগিতায় নৌকায় সিল মারছে ছাত্রলীগ: রিজভী



জাতীয় ডেস্ক:: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পুলিশ ও ডিবির সহযোগিতায় ছাত্রলীগ নৌকা মার্কায় সিল মারছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ ছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, কেন্দ্র দখল ও ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে আমরা এ পর্যন্ত অনেক অনিয়ম, গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর পেয়েছি।

এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. সোহরাব উদ্দিন রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলেও জানান তিনি।

বিএনপির এ নেতার অভিযোগ, নির্বাচনে পুলিশ ও ডিবির সহযোগিতায় ছাত্রলীগ নৌকা মার্কায় সিল মারছে। কাশিমপুর ইউনিয়নের মাধবপুর কেন্দ্রে সরকারদলীয় মেয়রের ব্যালটে সিল মারার জন্য ভোটারদের নির্দেশ দিচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ বিভিন্ন কেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ঢুকতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ডিবি পুলিশ ধানের শীষের এজেন্ট ও কেন্দ্র কমিটির সদস্যদের গণহারে গ্রেফতার করছে। সকাল ৬টা থেকেই শুরু হয় পুলিশের এই গণগ্রেফতার।

বহিরাগতরা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, গতকাল সোমবার রাত ৮টায় ২নং ওয়ার্ড কাশিমপুর ইউনিয়নের পানিশাইল এলাকায় সাভার পৌরসভার আওয়ামী লীগদলীয় মেয়র আব্দুল গণি দুই শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

মুন্সিপাড়া ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেসে সারারাত ব্যালট পেপার ছাপিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে গেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, আজ শ্রমিক দলের জেলা দফতর সম্পাদক বজলুর রহমান বাদল, বালু চাকুলী ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. ফজলুকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

‘এ ছাড়া ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড আঞ্জুমান হেদায়েতুল উম্মতকেন্দ্রের এজেন্ট হাবীবুর রহমান, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড টিডিএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রের এজেন্ট ফারুক, ৩১নং ওয়ার্ড ধীরাশ্রম জিকে আদর্শ উচ্চ বিদ্যলয়কেন্দ্রের এজেন্ট সেলিম রেজা, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মানিক, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড সাহারা খাতুন কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রের এজেন্ট মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র থেকে সাবেক কমিশনার শরিফ মিয়া, ৩৪নং ওয়ার্ড শরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র থেকে মনির হোসেন মোতাহার, ৩৬নং ওয়ার্ডের গাছা উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট গাজীউল হক ও মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’

রিজভী বলেন, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড বনমালা এলাকা থেকে বিএনপিকর্মী জাকির, টঙ্গী থানা ছাত্রদল সহসভাপতি শাহাব উদ্দিন, ধূমকেতু স্কুলকেন্দ্রের এজেন্ট ডা. আব্দুল হামিদকে কেন্দ্রের ভেতর থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। ৫৬নং ওয়ার্ড আরিচপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র কমিটির সদস্য কাজী শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বাড়ির কেন্দ্র নোয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রে প্রবেশের সময় এজেন্ট আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএনপির এ নেতা আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের বাড়ির সামনে নোয়াগাঁও এমএ মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রসহ অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

তিনি জানান, ১নং ওয়ার্ড মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হার্বাট মডেল একাডেমি কেন্দ্র, জসিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজকেন্দ্র, পানিসাইল গিয়াসউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, ২নং ওযার্ড লোহা আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র, নোয়াকুর মাজারকেন্দ্র, কফিলউদ্দিন পাবলিক স্কুলকেন্দ্র, সিনকাপ প্রিক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলকেন্দ্র, ৩নং ওয়ার্ডে বারিন্দাকেন্দ্র এবং ৬নং ওয়ার্ডের কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রের বিএনপির ছয় এজেন্টকে পুলিশ বের করে দিয়েছে।

৫নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ী কেন্দ্র, ৭নং ওয়ার্ডের জরুন মাদাসাকেন্দ্রের ধানের শীষের সব এজেন্টকে বের করে দিয়ে পুলিশ নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মারছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান রাসেলের নেতৃত্বে কোনাবাড়ী কলেজকেন্দ্র, আমবাগের চারটি কেন্দ্র, জোড়ন স্কুলের ছয়টি কেন্দ্র, পারিজাতের ছয়টি কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নিজেরা নৌকা প্রতীকে সিল মারছে।

তিনি আরও জানান, কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ধানের শীষের এজেন্ট আজিজ মাস্টারকে কেন্দ্র থেকে বের করে পুলিশভ্যানে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাগবাড়ী মাদ্রাসাকেন্দ্রের এজেন্ট মাহবুব মেম্বারসহ সব এজেন্টকে একটি কক্ষে আটকিয়ে রেখে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে।

৮নং ওয়ার্ডের কোনাবাড়ী কলেজকেন্দ্রের ধানের শীষের সব এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রের ভোটারদের কাউন্সিলদের ব্যালট দেয়া হয় এবং মেয়রের ব্যালটে তারা নিজেরাই সীল মারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুন্নু টেক্সটাইল উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের বিশাল লাইন থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে ফাঁকা দেখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রিজভী জানান, ১১নং ওয়ার্ড খোলাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র, ১৫নং ওয়ার্ডে বাসন তাইজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র, ১৭নং ওয়ার্ডের এমএ রাজ্জাক মাস্টার দাখিল মাদ্রাসাকেন্দ্রের অধিকাংশ এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। ১৭নং ওয়ার্ড জোগীতলা বদরে আল আরাবিয়া মাদ্রাসাকেন্দ্র, ২১নং ওয়ার্ড কাউলতিয়া জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ২৪নং ওয়ার্ডের ভানুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৬নং ওয়ার্ডে শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র, ৩০নং কানাইয়া ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

‘৩১নং ওয়ার্ড ধীরাশ্রম জিকে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৪নং ওয়ার্ড শরিফপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৫নং ওয়ার্ড কলমেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রোকেয়া সরণি কেন্দ্র, ৩৭নং ওয়ার্ড কুনিয়া হাজী আব্দুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র ও আয়াত আলী উদয়ন একাডেমি, ৩৬নং ওয়ার্ডের কামারজুড়ি ইউসুফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও গাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সব এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে।

৪০নং ওয়ার্ডে ইসয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট না দিয়েই ফিরে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী আরও জানান, ৪১নং ওয়ার্ড পূবাইল উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র, ৪২নং ওয়ার্ড রোহান বিন্দ্যায়িত স. প্রা. বিদ্যালয়, ৪৬নং ওয়ার্ডের নওয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র, শাহজুদ্দিন সরকারি বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রের সব এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে।

‘৪৮নং ওয়ার্ড ধূমকেতু উচ্চ বিদ্যালয়, ৪৯নং ওয়ার্ড আঞ্জুমান হেদায়েতুল উম্মত এতিমখানা, ৫১নং ওয়ার্ডের সাতাই উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র, ৫৫নং ওয়ার্ড শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র থেকে বিএনপির সব এজেন্টকে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।