মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বন্যায় সবজি খেত বিনষ্ট, কমলগঞ্জে কাঁচা বাজারে আগুন



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ১৪৫ টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় খেতের সব ধরণের শাক সবজি বিনষ্ট হয়ে গেছে ।

এ অবস্থায় মৌলভীবাজার জেলার বাইরের নরসিংদিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শাক সবজিতে ঠিকে আছে কমলগঞ্জের কাঁচা বাজার। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে সবজি বাজারে ।

শনিবার(২৩ জুন) সরেজমিন কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজার,আদমপুর, শমশেরনগের বড় হাট,মুন্সিবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলার গ্রামঞ্চল থেকে কোন প্রকার শাক সব্জি বাজারে আসছে না। ক্রেতারা চাহিদামত তরতাজা শাক সবজি পাচ্ছেন না।
ভানুগাছ বাজারের আড়ৎদার জলিল মিয়া,শমশেরনগরের ক্রেতা নজরুল ইসলাম খান আব্দুল ওহাবরা বলেন, কাঁচা বাজারে গিয়ে চাহিদামত শাক সবজি পাচ্ছেন না। যেগুলো পাচ্ছেন তা তরতাজা নয়। কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে খেত থেকে সংগৃহীত। এগুলি উপজেলার কোন গ্রামের খেতের নয়, দামও বেশী।

সবজি বিক্রেতা অভিনাশ পাল ও জমশেদুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে কমলগঞ্জ, পার্শবর্তী কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার গ্রামের সব ধরনের শাক সবজি বিনষ্ট হওয়া যায়। ফলে কাঁচাবাজারে এখন স্থানীয় কোন শাক সব্জি আসছে না। এখন বাজারে নরসিংদীসহ অন্যান্য স্থান থেকে সরবরাহকৃত শাকসবজি বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে। তারা আরও বলেন, বাইরের এসব শাক সব্জি না আসলে কাঁচা বাজারে অগ্নিমূল্যে শাক সবজি বিক্রি করতে হত।

বিক্রেতারা আরও বলেন ফলে এখন বাজারে পূর্বের দাম থেকে একটু বেশী দামে শাক সবজি বিক্রি হচ্ছে। দুই একটি শাক সবজিতে দাম সামান্য কম রয়েছে। বাজার থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, পটল প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা,কাকরুল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা,মুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা,বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা,করোলা ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা,ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, কুমড়া(প্রতিটি) ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ (প্রতিটি) ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, আগাম আসা মূলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও আলু ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা ও ধনে পাতা বেড়ে প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শমশেরনগরের কাঁচা মালের আড়ৎদার ইকবাল মিয়া বলেন, এসময় নিরসিংদিসহ বাইরের জেলা থেকে শাক সব্জি না আসলে বাজারে কোন শাক সব্জিই পাওয়া যেত না। এসব শাক সব্জির কারণে ক্রেতারা একটু দাম হলেও সব্জি পাচ্ছেন।

কৃষক ও শাক সবজি উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে জানা যায় কমলগঞ্জ উপজেলার টিলা ভূমি ও চা বাগান এলাকা ব্যতীত গ্রামাঞ্চলের সব শাক সবজি বিনষ্ট হয়ে গেছে। তবে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বাজারে স্থানীয় শাক সবজির সরবরাহ নেই স্বীকার করে বলেন, তাদের হিসাব মতে কমলগঞ্জে ৩০ হেক্টর জমির শাক সবজি বিনষ্ট হয়েছে। এখন বন্যার পানিও নেমে গেছে কৃষকরা নতুন করে শাক সবজি উৎপাদন শুরু করবেন।