সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই-কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানালেন মিসবাহ সিরাজ  » «   ওসমানীনগরে অবৈধ যানচলাচলে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা  » «   আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসা শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম: শিক্ষামন্ত্রী  » «   কমলগঞ্জ বিএনপির তিন ইউনিয়নের নতুন কমিটি অনুমোদন  » «   ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন তেরা মিয়া  » «   বারবার আ.লীগকে ক্ষমতায় বসাতে হবে …প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান  » «   ওসমানীনগরে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   সিলেট-১: শেষবেলায় আ’লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন না কামরান  » «   ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী রানা আহমদ রুনু’র অপকর্ম  » «   ফলো আপ: কমলগঞ্জের মহিলার লাশ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করেছে  » «  

সিলেটে দলীয় সমর্থন আদায়ে আ’লীগ-বিএনপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে কাউন্সিলর প্রার্থীরা



সুলতান সুমন:: দলীয় প্রতিকে মেয়র পদে নির্বাচন হচ্ছে সারাদেশে। কিন্তু কোথাও প্রকাশ্যে দলীয় প্রতিক বা সমর্থন পাননি কাউন্সিলররা। তবে এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সেই লক্ষে দলীয় সমর্থন আদায়ের জন্য আওয়ামীলীগ ও বিএনপি জেলা ও মহানগর নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের ধারণা দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে গেলে তাদের বিজয় নিশ্চিত হবে অনায়াসে। ফলে সবাই দলীয় প্রতিক না পেলেও সমর্থন আদায় করে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অপরিদেক বাংলাদেশের বৃহৎ দুইটি সংগঠন আ’লীগ ও বিএনপি’র সিলেট মহানগর ও জেলার নেতাদের মন জয় করতে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নানা ধরণের কৌশলও হাটছেন। অনেকেই আবার নানা ধরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্র মতে, প্রত্যেক দলীয় মেয়র প্রার্থীদের সুবিধার জন্য এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে কেন্দ্র থেকে। এ ব্যাপারে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রের নির্দেশনাও রয়েছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের গেল তিন বারের নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা মুখোমুখি ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তারা দলের সমর্থন পাননি। এবার তৃণমূল কর্মীরাও চাইছে দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী।

এ বিষয়টি বিবেচনা করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তরফ থেকে ২৭ সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে এ ব্যাপারে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিলেট আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে ইচ্ছুক যারা তারা সবাই কেন্দ্রে ছিলেন। দলের মনোনয়ন লাভ ও কেন্দ্রের নির্দেশনা পেতে তারা ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন। তাদের সঙ্গে মহানগর পর্যায়ের নেতারাও এখনও ঢাকায়। ঢাকায় যাওয়ার আগে মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের সভা করেছে। ওই সভায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সহ সিনিয়র নেতারা উপস্তিত ছিলেন।

সভায় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি করপোরেশনের তিন বারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ কাউন্সিলরদের দলীয় সমর্থন না দেওয়ায় ক্ষোভ ঝাড়েন। এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা মতো এবার কাউন্সিলর পদেও দলের সমর্থনের দাবি জানান তিনি। তার এই দাবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের এ ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন। এবং যারা কাউন্সিলর হতে ইচ্ছুক তাদের মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন- কাউন্সিলর পদে সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রেরও একটি নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে- সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০১৩ সালের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিএনপির ১৬ জন, আওয়ামী লীগের ১১ জন ও জামায়াতের ৪ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামী সব ওয়ার্ডে নয়, যেখানে দলের কর্মী-সমর্থক বেশি এবং যোগ্য প্রার্থী রয়েছে সেই সব ওয়ার্ডে তারা প্রার্থী দেবে। কোনো দলীয় ছাপ না রেখেই তারা প্রার্থী দিয়ে তাকে। সিলেটে আগের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি শক্তিশালী। মহানগর বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি সুসংগঠিত। এ কারণে ৬ মাস আগে থেকেই তারা ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর দেওয়ার চিন্তা করছে। ইতিমধ্যে তারা কিছু হোমওয়ার্ক করেছে। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে ইতিমধ্যে তারা কয়েকটি বৈঠক করেছেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানিয়েছেন- তারাও সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ ওয়ার্ডে প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করছেন। এ নিয়ে তারা কিছু কাজও করেছেন। সিলেটে গত তিনটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা লড়েছেন। জয়ও এনেছেন। এবার যাতে কাজ করা যায় সেটির জন্য দলীয়ভাবে কাউন্সিলরদের সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।