মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিচার না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন তনুর পরিবার



নিউজ ডেস্ক:: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ২৭ মাস পূর্ণ হয়েছে গতকাল ২০ জুন। বিচার না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন তনুর পরিবার।

শোক আর বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ বুকে চেপে তনু বিহীন পরিবারে এ বছরও ছিল না ঈদ আনন্দ। দীর্ঘ ২৭ মাসেও তনুর ঘাতকরা চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তনুর পরিবার ও নগরীর বিশিষ্টজনেরা।

তনুর দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ’ উল্লেখ না থাকায় মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি এ নিয়ে এখনও গন্তব্যহীন রয়েছে। তবে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করেই দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর এ মামলার যবনিকাপাত টানতে চাচ্ছে সিআইডি। চলতি মাসেই ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে আসতে পারে বলে সিআইডির একটি সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘ ২৭ মাসেও মেয়ের ঘাতকদের চিহ্নিত করতে না পারায় ক্ষোভ জানিয়ে তনুর মা আনোয়ারা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, মেয়ের শোকে তনুর বাবা এখন মৃত্যু শয্যায়। আমাদের পরিবারে এ বছরও ঈদের আনন্দ ছিল না। ৬ মাসের ছুটিতে থাকা তনুর বাবার (ইয়ার হোসেন) ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মেরুদণ্ডের একটি বড় অপারেশন হয়েছে গত ২৮ এপ্রিল। আগামী রোববার তিনি কর্মস্থলে যোগ দেবেন। এসব ঝামেলায় এবারের ঈদে বাড়িতে গিয়ে মেয়ের কবরও জিয়ারত করা হয়নি।

তিনি বলেন, মেয়ের হত্যার পর অনেকেই বাসায় এসে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর কেউ আমাদের পাশে নেই, খোঁজ-খবরও নেয় না। সিআইডির জালাল সাহেবও (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) খবর নেন না, মামলার কী খবর তাও তিনি জানাচ্ছেন না। মাঝে মধ্যে আপনারা সাংবাদিকরাই খবর নিতে ফোন করেন।

তিনি আরও বলেন, দুইবার মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত করার পরও যখন ডাক্তার আমার তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে পায়নি, তখনই বলেছিলাম এ দেশে আমার তনুর বিচার পাবো না। সব আল্লাহ দেখেছেন। ঘাতকরা এখন রক্ষা পেলেও পরকালে পাবে না।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ বলছেন, তনুর মামলাটি অধিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। তদন্তে এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে যেখানে ইচ্ছে করলেই তাড়াতাড়ি কিছু করা সম্ভব নয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে অনেককে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।