সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই-কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানালেন মিসবাহ সিরাজ  » «   ওসমানীনগরে অবৈধ যানচলাচলে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা  » «   আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসা শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম: শিক্ষামন্ত্রী  » «   কমলগঞ্জ বিএনপির তিন ইউনিয়নের নতুন কমিটি অনুমোদন  » «   ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন তেরা মিয়া  » «   বারবার আ.লীগকে ক্ষমতায় বসাতে হবে …প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান  » «   ওসমানীনগরে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   সিলেট-১: শেষবেলায় আ’লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন না কামরান  » «   ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী রানা আহমদ রুনু’র অপকর্ম  » «   ফলো আপ: কমলগঞ্জের মহিলার লাশ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করেছে  » «  

কমলগঞ্জে বন্যার পানিতে খামারীদের ভাগ্য বিপর্যয়



প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে

আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: সাম্প্রতিক সৃষ্ট বন্যায় প্লাবনের পানিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মৎস্য খামারীদের ১৫৫০ টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যাণে ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।

গত মঙ্গলবার(১২ জুন) কমলগঞ্জের ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ১৪৫ টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছিল।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ও মৎস্য খামারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যার পানিতে ১৪৫ টি গ্রামের বসতঘর, ফসলি জমি ও সড়ক ও পুকুর পানিতে একাকার হয়ে গিয়েছিল। টানা ৪ দিন এ অবস্থা বজায় থাকায় খারামীদের সবগুলো পুুকুরের মাছ প্লাবনের পানিতে ভেসে গেছে।

এ সুযোগে হাট বাজার থেকে নতুন নতুন জাল কিনে সুযোগ সন্ধানী মৎস্য শিকারীরা ভেসে যাওয়া মাছের বড় একটি অংশ ধরে নিয়েছেন। শমশেরনগর বাজারের জাল বিক্রেতা রহিম মিয়া বলেন, বন্যা শুরু হওয়ার পর তিনিসহ এ বাজারের আরও ৩ জন জাল বিক্রেতা, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের জাল বিক্রি করেছেন। এখনও জাল বিক্রি করছেন বলে জানান।
শমশেরনগর ইউনিয়নের মৎস্য খামারী আশিক মিয়া বলেন তার কয়েকটি পুকুরে ১৮ লাখ টাকার রেনু পণা ছিল। যাহা আগামী বছর মাছ চাষে ব্যবহার করা হবে। এসব রেনু পণা ভেসে গেছে। তাছাড়া বিভিন্ন পকেটে(ছোট পুকুরে) স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন জাতের ৮০ মন বড় মাছ ছিল বন্যার পানিতে সেগুলি ভেসে গেছে।

ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১৩ লাখ টাকার ও আশা এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। বন্যার কারণে এ ঋণের দেনা তার উপর পড়েছে। আশিক মিয়ার পাশেই জনৈক নাজমুল হোসেনের মৎস্য খামারের একইভাবে ক্ষতি হয়। আলীনগর ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামের খামারী সালেক মিয়া বলেন, তিনি কৃষি ব্যাংকসহ অন্য সূত্র থেকে ২৮ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে মাছের খামার করেছিলেন। বন্যার পানিতে খামারের সব মাছ ভেসে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারীরা জানান ক্ষতি পূরণে সরকারীভাবে সহায়তার জন্য তারা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বন্যার পানিতে খামারীদের পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার ও ক্ষতি পূরণে সহায়তা চেয়ে তাদের আবদেন গ্রহনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, মঙ্গলবার(১২ জুন) ধলাই নদের বেশ কয়েকটি স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার কারণে এ উপজেলার দেড় সহ¯্রাধিক মৎস্য খামারীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে সরকারী ও বেসরকারী প্রদর্শণী খামারসহ মোট ১৫৫০টি পুকুর প্লাবিত হয়েছিল। প্লাবনের আয়তন ছিল ১৪০ হেক্টর। ভেসে যাওয়া মাছ ও পোনার পরিমাণ ছিল ৪৭০ মে:টন। খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ হবে ৫০ লাখ টাকা। মোট ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের আবেদন গ্রহন করে মৎস্য খামারীদের বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষতিপূরণে সরকারী সহায়তার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।