সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই-কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানালেন মিসবাহ সিরাজ  » «   ওসমানীনগরে অবৈধ যানচলাচলে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা  » «   আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসা শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম: শিক্ষামন্ত্রী  » «   কমলগঞ্জ বিএনপির তিন ইউনিয়নের নতুন কমিটি অনুমোদন  » «   ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন তেরা মিয়া  » «   বারবার আ.লীগকে ক্ষমতায় বসাতে হবে …প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান  » «   ওসমানীনগরে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   সিলেট-১: শেষবেলায় আ’লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন না কামরান  » «   ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী রানা আহমদ রুনু’র অপকর্ম  » «   ফলো আপ: কমলগঞ্জের মহিলার লাশ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে আটক করেছে  » «  

ভোলাগঞ্জ হতে পারে দেশের সেরা পর্যটন স্পট



রুনা লায়লা, কোম্পানীগঞ্জ থেকে:: যতদূর দৃষ্টি যায় দুদিকে সাদাপাথর, মাঝখানে স্বচ্ছ নীল জল, পাহাড়ে মেঘের আলিঙ্গন এযেন প্রকৃতির এক স্বর্গরাজ্য। এমনি নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে আপনি আসতে পারেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের জিরো পয়েন্টে,স্থানীয়ভাবে যেটি “সাদা পাথর” নামে পরিচিত। এই ঈদে দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত ভোলাগঞ্জের জিরো পয়েন্টের সাদাপাথর।

যাহারা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পরেছেন অথবা অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে একঘেয়ে লাগছে তারা আসতে পারেন অপার সম্ভবনাময় ভোলাগঞ্জের জিরো পয়েন্টের সাদাপাথরে। এখানে আপনাকে আসতে হলে প্রথমে রাস্তার প্রসঙ্গ চলে আসে, সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরত্ব।

যেখানে আসতে হলে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে ২ ঘন্টা গাড়ীতে বসে থাকতে হবে আপনাকে। তবে এখানে পৌছলে আপনার ভাঙ্গাচোরার রাস্তার মধ্যে যে কষ্ট হবে সেটা হয়ত ভুলে যাবেন প্রকৃতির অপরুপ দৃশ্য দেখে। বর্তমানে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে এবং সেই কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ভোলাগঞ্জের নীল আকাশ, সাদা মেঘ

আর মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া পর্বত এভাবেই একসাথে মিশে যেতে দেখা যায়। দেখলেই মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়, অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়। এখানকার গরমের সাথে বাতাসের গতি এবং আদ্রতাও বেশ উপভোগ করার মতো। মেঘালয়ের পর্বত ঘেঁষা ভৌগোলিক পরিবেশ অনেকটাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুক্ত। ঐতিহ্যবাহী ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীর জন্য এই এলাকা সারা দেশেই কম-বেশী পরিচিত।

পাহাড়ী ঝরনাধারা থেকে সৃষ্ট ধলাই নদী ওপার ভারত থেকে ভোলাগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। প্রতি বর্ষায় ধলাই নদীর স্রোতে ভারত থেকে নেমে আসে পাথরের ভান্ডার। ভোলাগঞ্জ সীমান্তে হাঁটুপানির ধলাই নদীতে হাঁটতে হাঁটতে আপনার চোখে পড়বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য পাথর। মনে হবে যেন ছবির মত সুন্দর। মুখ থেকে বেরিয়ে আসবে একটিই শব্দ ‘অসাধারণ’। দুরের পাহাড়গুলোর উপরে মেঘের ছড়াছড়ি, সাথে এক’দুটো ঝর্না। জাফলং এর মতোই ভোলাগঞ্জেও চলে পাথর উত্তোলনের কাজ। নদীর টলমলে হাটু পানির তলায় দেখা যায় বালুর গালিচা।

চিকমিক বালু আর ছোট বড় পাথর মিলে এখানে যেন তৈরি হয়েছে পাথরের রাজ্য। ভারতের শিলংয়ে এক সময় লোকজন এ রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতো। কালের পরিক্রমায় এখানে স্থাপিত হয়েছিল ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে নামক রজ্জুপথ। তবে রজ্জুপথ দিয়ে বর্তমানে পাথর পরিবহন বন্ধ রয়েছে ।

রজ্জুপথ, পাথর কোয়ারি আর পাহাড়ী মনোলোভা দৃশ্য অবলোকনের জন্য এখানে প্রতিদিনই আগমন ঘটে পর্যটকদের। পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল এলাকা চেরাপুঞ্জির অবস্থান ধলাই নদীর উজানে ভারতের মেঘালয়ে। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ঘেরা এ রাজ্যের দৃশ্য বড়ই মনোরম। ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় অবস্থান করে পাহাড় টিলার মনোরম দৃশ্যাবলি অবলোকন করা যায়। ভোলাগঞ্জ কোয়ারিতে শুষ্ক মওসুমে প্রধানত সনাতন/ ম্যানুয়্যাল পদ্ধিতে গর্ত খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে শ্রমিকরা প্রথমে কোয়ারীর ওপরের বালি অপসারণ করে। পর্যায়ক্রমে গর্ত খুঁড়ে নিচের দিকে

যেতে থাকে। ১০-১১ ফুট নিচু গর্ত খোঁড়ার পর কোয়ারিতে পানি উঠে যায়। এই পানি শ্যালো মেশিন দিয়ে অপসারণ করে পাথর উত্তোলন করা হয়। এর বাইরে বারকি নৌকা দিয়ে নদীর তলদেশ থেকেও পাথর
উত্তোলন করা হয়। এই কোয়ারিতে প্রতিদিন সকাল- সন্ধ্যা অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক পাথর উত্তোলনের কাজ করে থাকেন। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়,এই ঈদে হাজার হাজার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত এই সাদা পাথর।

মৌলভীবাজার থেকে বেড়াতে এসে আব্দুল্লাহ নামের এক পর্যটক বলেন, সত্যি কথা বলতে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও পরিবেশ খুবি ভাল, বেশ উপভোগ করছি। সুইডেন থেকে আগত নারী সাংবাদিক জেনি বলেন, আমি পৃথিবীর বহু জায়গা দেখেছি কিন্তু এত সুন্দর জায়গা এই প্রথমবার দেখলাম,সত্যি উপভোগ করার মত একটি জায়গা।

কোম্পানীগঞ্জ ট্যুরিস্ট ক্লাবের ভাইস- প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম হামীম জানান,ভোলাগঞ্জের অপার সম্ভবনাময় স্থানটি যেন পর্যটন এলাকা হয় সেজন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এখলাছুর রহমান জানান, চেরাপুঞ্জির ভারতের পাহাড়ি রাজ্য মেঘালয়ে ধলাই নদীর উজান পানি অার সাদা পাথর মনোরম প্রকৃতি যা অামি নিজে দেখে মুগ্ধ হয়েছি।
পর্যটন এলাকা হওয়ার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, এই সাদা পাথর পর্যটকদের কাছে খুব পছন্দের একটি জায়গা,এটি যাতে রক্ষা হয় আর সুন্দরভাবে যেন গড়ে উঠে সেজন্য আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।