রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

দিরাই শাল্লা নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট শিল্পপতি ছায়েদ আলী



দিরাই প্রতিনিধি:: বিশিষ্ট শিল্পপতি কুয়েত আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা বঙ্গুবন্ধুর আদর্শের সৈনিক সুনামগঞ্জ-২ দিরাই-শাল্লা নির্বাচনী আসনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহাম্মদ ছায়েদ আলী মাহবুব হোসেন রেজু মিয়ার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন দিরাই- শাল্লার আসনে আমি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

ইনশালল্লাহ আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আমাকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দিরাই- শাল্লা থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিবেন। আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে বড় হয়েছি। আমি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে দেশে ও দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও আমি সবসময় মুক্তিযদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির পক্ষে কাজ করেছি। কুয়েত আওয়ামীলীগ প্রতিষ্টা ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে আমি একজন কর্মী হিসেবে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছি। কুয়েত থাকাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সানিধ্য পেয়েছি এবং তাঁদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন করেছি।আমি ছোটকাল থেকেই স্বপ্ন দেখতাম খেটে খাওয়া, গরীব দুঃখি বঞ্চিত দিরাই শাল্লার জনগণের কল্যাণে কিভাবে কাজ করা যায়।

আমি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আমি দেশে বিদেশে পরিচিত। আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল দিয়ে আমি আমার প্রিয় জন্মস্থান শরীফপুর গ্রামে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি আমার শিল্পপ্রতিষ্ঠান।সুনাম বিক্সস ফিল্ডে প্রায় ১২ শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এখন হাতে নিয়েছি একটি আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইট উৎপাদনকারী কেবি অটো বিক্সস লিমিটেড কোম্পানি। ১২ একর জমির উপর নির্মিতব্য এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।

এখানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিদিন ১, লাখ ইট উৎপাদন করবে। এখানেও প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অনেকেই প্রশ্ন করেন মানুষ যেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন বড় বড় শহরে সেখানে আমি কেন অজপাড়াগায়ে কোটি টাকা ব্যয়ে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছি। আপনারা জানেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। তাইতো তিনি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহন করেন কিন্তু কতিপয় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট তাকেঁ স্বপরিবারে হত্যা করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামকে বাঁধাগ্রস্থ করে তুলেছিল কিন্তু মহান আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আসীন হলে আবার বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও সংগ্রামে যখন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ঠিক তখনই দেশিবিদেশি ষড়যন্ত্রে ৪ দলীয় জোট ক্ষমতা আসলে আবার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামকে বাঁধাগ্রস্থ করে তুলেছি। শক্ত মনের অধিকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর সঠিক নেতৃত্বে আবার বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। তাঁর সঠিক নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ একটি নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে রুপকথার গল্পের মতো বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। তাঁর দক্ষ ও সঠিক নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ সেতু করে বিশ্বের কাছে তাক লাগিয়েছেন এটা সম্ভব হয়েছে একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতা ও তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে। সমুদ্র জয় করে তিনি এখন আমাদেরকে মহাকাশ জয় করে দিয়েছেন। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সর্বপ্রথম গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ একটি ফসলের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে যায়। বিগত বছরে আমাদের একমাত্র সোনালি ফসল চোখের সামনে তলিয়ে গিয়েছিল এতে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছিল তা পুষিয়ে উঠা কৃষকের কঠিন। তাই আমাদের এখন থেকে বিকল্প কর্মপন্থা খুঁজে বের করতে হবে। দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়ি গাড়ী না করে আমাদের ছোট বড় শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। দেশের প্রধান নিয়ামক দক্ষ অদক্ষ বেকার যুবসমাজকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তাই সকল ধনাঢ্য ব্যক্তি দের নিজ নিজ এলাকায় অবদানে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে আহবান জানাচ্ছি। যুবসমাজ হচ্ছে একটি দেশের প্রান এদেরকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের বেকারত্ব দুর হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব। আমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমি দিরাই শাল্লার জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চাই। তাই আমি আমার জীবনের শেষ সময়টুকু মানুষের কল্যানে ব্যয় করতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিরাই শাল্লার আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আমার বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মুল্যায়ন করবেন। পরিশেষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিরাই শাল্লার জ্ঞানী গুনী, শিক্ষিত, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কৃষক-শ্রমিক সরকারি বেসরকারি মেহনতী সর্বস্তরের সম্মানিত দিরাই শাল্লার ভাই ও বোনদেরকে জানাচ্ছি সংগ্রামী মুজিবীয় শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।