মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাজেট পেশ করছেন মেয়র আরিফ



হুবুহু তুলে ধরা হলো
ডেস্ক নিউজ:: পবিত্র রমজান মাসে আমরা আপনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। রমজান মাসেও আপনারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই নগরীর উন্নয়নে এবং এ লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম-এর অগ্রগতি এবং সমস্যা সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার আগ্রহ আপনাদের আছে। আপনাদের এই সচেতনতা আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। এজন্য আপনাদেরকে কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনারা জানেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার স্বপ্ন এবং নগরবাসীর চাহিদা পূরণে প্রবল ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ায় আমি গৃহীত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারিনি। দুটি বাজেটই আমি উপস্থাপন করতে পারিনি। মুক্ত হয়ে অনাকাংখিত ঘাটতি পূরণে আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ শুরু করি। যথারীতি বিগত বছর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ উপলক্ষে আমার পরিকল্পনা এবং কর্পোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করি। এরই ধারাবাহিকতায় আপনাদের সঙ্গে বর্তমান মেয়াদের শেষ বাজেট উপলক্ষে আজকের এই আয়োজন।
বাজেট পেশ উপলক্ষে সাংবদিক বন্ধুদের সঙ্গে সম্মানিত নাগরিকদেরও আমরা আমন্ত্রণ জানাই। কারণ, যে কোন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিকবৃন্দের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি কৃতজ্ঞ যে নগরীর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছি। আমি সবসময় নগরবাসীর বৃহত্তর অংশের স্বার্থ ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি। এতে ক্ষেত্র বিশেষে বিরূপ পরিস্থিতিরও মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু আমি থেমে যাইনি। ইনশাল্লাহ আগামীতেও আমি সত্য ন্যায়ের নীতিতে অটল থাকব এবং নগরীর বৃহত্তর স্বার্থে অবিচলভাবে কাজ করে যাবো।
আমি জানি এবং আপনারাও জানেন, কোনো পদক্ষেপ বৃহত্তর স্বার্থে গ্রহণ করলে কিছু লোকের তাতে সাময়িক স্বার্থহানি ঘটে। অনেক সময় সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে হয়তো আপোস করতে হয়, অনেকে তাই করেন। আমি এক্ষেত্রে সুচেতনা ও সজাগ বিেেবকের ওপর ভরসা রেখে কাজ করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সত্যিকার অর্থে নগরীর কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে বিরূপতা এলেও সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করাই হচ্ছে সুনীতি। নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করণে নগরবাসী যাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেন, তারা এ নীতিতে অবিচল থাকলে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন সম্ভব। এই বিশ্বাসে আমি সহকর্মীদের নিয়ে কী করেছি তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আপনারা-এই নগরীর সুধীজন।
যেটুকু অর্জন আমাদের আছে তা শুধু আমার বা সিটি কর্পোরেশনের নয়, তা আমাদের সকলের। যেটুকু সম্ভব হয়নি তার দায় আমার। তবে আমি বিশ্বাস করি, নগরীর সুশীল সমাজসহ নাগরিকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এক্ষেত্রে আমি সিলেটের সাংবাদিক বন্ধুদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কর্পোরেশনের কার্যক্রম গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে তারা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছেন। একই সঙ্গে নাগরিকবৃন্দকে অবহিত করেছেন। এতে নাগরিকবৃন্দও সাহায্য সহায়তায় উৎসাহিত হয়েছেন। আমি জানি, এ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে আপনারা অনেকটাই অবগত। তাই এবার খুব সংক্ষেপে শুধু আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেই আমার কথার ইতি টানবো। এর আগে প্রাসঙ্গিক অন্য বিষয়ে দুটি কথা না বললেই নয়।

বন্ধুগণ,
আজকের এই নগরীতে যেটুকু সুযোগ সুবিধা আমরা ভোগ করছি তা দু’চার বছরেই অর্জিত হয়নি। পূর্বসুরীদের অবদানের জমিনে পা রেখেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। বাজেট পেশের সময় আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, সকল আমলেই সরকারি সহযোগিতা সিটি কর্পোরেশন পেয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সংগঠনের সহযোগিতাও আমরা পেয়েছি। আপনারা জানেন, শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের আয় দিয়ে নগরীর কাংখিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারি বরাদ্দের উপরও নির্ভর করতে হয়। আমরা বিগত দিনগুলোতে আমাদের সিলেটের সুসন্তান, সিলেটপ্রেমী ব্যক্তিত্ব সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে কাছে পেয়েছি এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে কাছে পেয়েছি। আমরা শ্রদ্ধার সাথে দুই মরহুম অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে স্মরণ করছি এবং গুনী পরিবারের সন্তান, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মহোদয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
এই নগরীতে আমাদের সুখ দুঃখের সঙ্গী অনেকেই ছিলেন যারা আজ নেই। এবছরও আমরা বিশিষ্ট অনেক নাগরিককে হারিয়েছি। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর একমাত্র ছেলে নোমান রশীদ চৌধুরী, জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি সিলেট মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন বাদল, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের দীর্ঘদিনের মহাসচিব, মুহাদ্দিস, বিশিষ্ট আলিম মাওলানা আব্দুল বাসিত বরকতপুরী, প্রবীণ আলিম বিশিষ্ট লেখক মাওলানা নুরুল ইসলাম এল এল বি, দৈনিক মানবজমিন এর বিশেষ প্রতিনিধি চৌধুরী মুমতাজ আহমদের মাতা সৈয়দা আলিয়া খাতুন, দৈনিক শ্যামল সিলেটের প্রধান আলোকচিত্রী ইকবাল মনসুর, ইউ এন বি সিলেট প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহসীনের পিতা মো: ফরিদ মিয়া, ইমজার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএন নিউজের সিলেট ব্যুরো প্রধান সজল ছত্রীর মাতা কমলাকান্ত ছত্রী, চ্যানেল আই’র সিলেট প্রতিনিধি সাদিকুর রহমান সাকির ভাই আব্দুল হাই মাসুদ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ক্যামেরাপার্সন গোপাল বর্ধনের মাতা মিনতি রাণী বর্ধন, মাছিমপুর জামে মসজিদের মোতওয়াল্লী সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেনের পিতা সমাজসেবী মো. রহমত উল্লা, জল্লারপার জামে মসজিদের সাবেক মোতওয়াল্লী সাবের খান, সাবেক কমিশনার ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আজহার উদ্দিন জাহাঙ্গীরের মাতা সমরুন নেছা, কিশোরী মোহন সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শিলা রানী, সিলেটের স্বনামধন্য আলোকচিত্রী ফখরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমার সালিশ ব্যক্তিত্ব শের আলী খান, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি তেরা মিয়া, আলোকচিত্রী হুমায়ুন কবির লিটনের ভাই সুজন আহমদ, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের লিটন কুমার দাস নান্টুর পিতা অবনী কুমার দাস, সিলেট জেলা জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাবেক সাধারন সম্পাদক অতিন্দ্র দেব, কুশিঘাট জামে মসজিদের সাবেক মোতওয়াল্লী মো: আব্দুস শুকুর, এম এ জি ওসমানী কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ফাহিম আহমদ চৌধুরী, সিলেটের বরেণ্য চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ডা.এম এ রকিব, শিববাড়ী পাঠানপাড়া নিবাসী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক আতিকুল হোসেন খান, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ডা. মো. সাদ উদ্দিন জায়গীরদার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুব আহসান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বখত জগলুল, মির্জাজাঙ্গাল নিবাসী অনিতা দাস, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রায়নগরের হাজী রোকন উদ্দিন, সিলেট চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইনডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল মুনিম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ইসমাইল আলী বাবু, ক্রীড়া সংগঠক এনামুল হক মুক্তা প্রমুখ। আমরা তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি এবং তাদের মাগফেরাত ও আত্মার শান্তি কামনা করছি।
বিগত বছর বাংলাদেশের গর্ব, সিলেটের কৃতিসন্তান প্রকৃতিবিদ, বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন, তাকেও আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। সদ্য প্রয়াত গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরীর মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করছি। এই বছর আমি আমার পরিবারের অতি আপনজন আমার খালা সফিনা খাতুনকে হারিয়েছি, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

প্রিয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ,
উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই সবসময়ই সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট থাকতে হয়। নগরজীবনের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে নতুন নতুন চাহিদার জন্ম হয়। এগুলো পূরণের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সরকার এবং আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সকলের সহযোগিতায় তা বাস্তবায়ন করে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন সম্পদ সম্ভাবনায়, প্রাকৃতিক সম্পদ সৌন্দর্য্য এবং গৌরবজনক ইতিহাস ঐতিহ্যে মহীয়ান সিলেট বিভাগের প্রাণকেন্দ্র। বিভাগীয় এই মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্ন তাই আমাকে কাউন্সিলর এবং মেয়র হওয়ার আগেও তাড়িত করেছে। এক পর্যায়ে আমি সিলেটপ্রেমিক এবং উন্নয়নের ব্যাপারে আপোসহীন, অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সান্নিধ্য পাই। তার গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নে তারই নির্দেশনায় শ্রম ও সময় দেই। আপনারা জানেন, তিনি উন্নয়নের প্রশ্নে দলীয় সীমাবদ্ধতারও উর্ধ্বে ছিলেন। তার চিন্তা চেতনা কর্মপদ্ধতি ও সাহসিকতা আমার মধ্যে সঞ্চারিত হয়। আমি তার নীতি অনুসরণ করেই সিটি কর্পোরেশনের কাজ করার চেষ্টা করেছি। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, এই মেয়াদের প্রায় অর্ধেক সময়ই আমি কারাগারে বন্দী ছিলাম। বাকী সময়ে এখন পর্যন্ত যেসব কাজ করেছি, আপনারা দেখুন, কোথাও আমি দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি অথবা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য আপোস করিনি। আমাদের নির্বাচন এগিয়ে আসছে। আপনারা স্বেচ্ছায় মুক্তমনে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিবেন। নির্বাচন সম্পর্কে আমি এখানে কোনো কথা বলতে চাই না। শুধু একটি অনুরোধ, মেয়র হিসেবে আমার এই সীমিত সময়ের কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে আপনারা আমার কাজকে মূল্যায়ন করবেন।

প্রিয় নগরবাসী,
সিলেট পৌরসভা ২০০২ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই নগরী পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেনি। সিলেট এখন মহানগরী। কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব অথবা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অবহেলার কারণে জন্ম নিয়েছে অনেক সমস্যা। জলাবদ্ধতা এর মধ্যে একটি। এ সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব গ্রহণের পর পর আমি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, যা সুধীমহলেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নয়টি ছড়ার স্থানে স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। এবার কারাগার থেকে বের হওয়ার পর থেকেও এই জলাবদ্ধতা নিরসনে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
আপনারা সকলেই অবগত আছেন, নগরীর নালা ছড়া দিয়ে পানি নেমে যাওয়ার পথে সৃষ্ট বাধা অনেক। কোথাও ব্যক্তিমালিকানাধীন বিল্ডিং ও স্থাপনা, কোথাও বর্জ্যসহ অন্যান্য কারণে ছড়ার চিহ্নও থাকেনি। আর তাই এবার আমরা নয়টি ছড়াকে সকল ধরনের অবৈধ দখলমুক্ত করে পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করেছি। নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেকটি ছড়া জবরদখলমুক্ত করে ছড়ার দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মান কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে। এছাড়াও এসব ছড়া ও জলাশয়কে সুন্দরভাবে সংরক্ষনের স্বার্থে হলদিছড়ায় হাতিরঝিলের আদলে ওয়াকওয়ে, ওভারব্রিজসহ শিশুদের রাইড স্থাপনের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে । একইভাবে মালনীছড়া, গোয়ালীছড়া এবং জল্লারপাড়ের জলাশয়ের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
আমরা মনে করি নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া, নালা নর্দমাগুলো বিঘœমুক্ত হলেই কেবল জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন-নগরীর নালা ছড়ার পানি নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সেই নদীও ড্রেজিং না হওয়াতে ভরাট হয়ে গেছে। এতে ছড়ার পানি সহজে টানতে পারে না। এর সমাধান একা সিটি কর্পোশেনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই বলে আমরা থেমে থাকিনি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ছড়া ও ড্রেন অনেক প্রশস্ত হওয়ায় এখন আর আগের মতো দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে না, বরং বৃষ্টির পানি খুব তাড়াতাড়ি নেমে যায়।

সুধীবৃন্দ,
আপনাদের সামনে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, সিলেট মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আমরা এবার যুগান্তকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের জন্য দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্যানেটারী ল্যান্ডফিল নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে শুরু হয়েছে। আগে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যেভাবে খোলা ও এবড়োথেবড়োভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করা হতো, তা আর হবে না। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে তরল বর্জ্যরে কারণে পরিবশ দূষণের মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়াও আপনারা জানেন, ক্লিনিকেল ও মেডিকেল বর্জ্য স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক। যেখানে সেখানে ফেলে রাখলে তা মারাত্বক দূষণ ঘটায়। এই দুশ্চিন্তারও অবসান হতে চলেছে। নগরবাসীর জন্য আরেকটি সুসংবাদ হচ্ছে, প্রিজম বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এবং সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে ক্লিনিকেল ও মেডিকেল বর্জ্যকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাম্পিং করার জন্য অটোক্ল্যাপ প্রযুক্তি চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই কাজের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এই অতি প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ইতোমধ্যে নগরীর রিকাবীবাজার, কাজীটুলা ও টিলাগড় পয়েন্টে তিনটি সেকেন্ডারী ট্রান্সফার স্টেশন নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও নগরীতে আরও ৫টি সেকেন্ডারী ট্রান্সফার স্টেশন নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতির বিবেক সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে আমরা নতুন একটি দিগন্তের সূচনা করেছি। আপনারা জানেন, চলতি বছরের ৩১ মে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অনলাইন সেবা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।
‘নগর অ্যাপস’ নামে অনলাইন কার্যক্রম চালু হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকরা অনলাইনে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিল, ট্রেড লাইসেন্সের ফি, ইমারত নির্মাণের আবেদন এবং সেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে অনলাইন সেবার পরিধি আরো বাড়বে এটাই আমরা আশা করছি। অনলাইনে সব সেবা উন্মুক্ত হলে সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারের কার্যক্রমে নাগরিকদের আস্থা অনেক বাড়বে। দালালের আধিপত্য ও নির্ভরতা কমবে। জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। নগরবাসী নিজেদের অধিকারের ব্যাপারেও আরো সচেতন হবেন। কমবে হয়রানি। রিকার্সন টেকনলজি বিনামূল্যে এই কাজ করে দেওয়ায় আমি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধেরও সুযোগ সৃষ্টি করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। নগরবাসী অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ এবং ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদনের আবেদন এবং অনুমোদন গ্রহণ করতে পারবেন অচিরেই। দেশের নাগরিক ছাড়াও প্রবাসীরা কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটে তাদের নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সের হালনাগাদ তথ্য দেখতে পারবেন, বিলও পরিশোধ করতে পারবেন।
অনলাইনে সিটি কর্পোরেশনের নানা সেবা চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্পোরেশনের যানবাহনের গতিবিধি মনিটর করারও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনাবাহী গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

সুধীজন,
একটি নগরীকে দুষনমুক্ত রাখার জন্য সুয়ারেজ সিস্টেম অত্যাবশ্যক। এই বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং সংস্থার মাধ্যমে সিঙ্গেল সোর্স হিসেবে তাদের দিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য মন্ত্রনালয়ের যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল তা অনুমোদন হয়েছে। তাদের সাথে ইতোমধ্যে এমওইউ সম্পন্ন হয়েছে এবং কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুয়ারেজ সিস্টেম বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান আমার অচিরেই পাব। কেননা সিলেটের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুয়ারেজ লাইন ড্রেনের সাথে সরাসরি যুক্ত, যার ফলে এসব দূষিত বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি গিয়ে খালবিল, নদনদীসহ জলাধারে মিশে যাচ্ছে, ফলে আমাদের পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। সুতরাং জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সিলেট নগরীর স্বতন্ত্র সুয়ারেজ সিস্টেম চালু করা বর্তমানে একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

প্রিয় নগরবাসী,
ক্রমবর্ধমান এই নগরীতে পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে পানির চাহিদা দৈনিক প্রায় আট কোটি লিটার। তবে সুখবর হচ্ছে, আমাদের নতুন নির্মিত কুইটোক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হওয়ায় আমরা বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি লিটার পানি প্রতিদিন সরবরাহ করতে সক্ষম হচ্ছি। নতুন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন ১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
এছাড়াও পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করতে আমরা উৎপাদক নলকূপের সংখ্যা বাড়িয়েছি। এখন ৪৫ টি নলকূপ আছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পানির সংকট এখনো আছে। নগরবাসীর এ দুর্ভোগ সম্পর্কে আমরা সচেতন। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ কল্পে নগরীর বাইরে সারি নদীতে ৫ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন প্রকল্প আমাদের রয়েছে। আমার অনুপস্থিতির কারণে এ প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। প্রায় ৬শ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ প্রকল্পটি বর্তমানে ডিপিপি তৈরী করা হয়েছে। আশা করছি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানির সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা বড় একটি মাইলফলক অর্জন করব। এছাড়াও পানির গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা বজায় থাকছে কীনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা ল্যাবরেটরী স্থাপন করেছি। এছাড়াও প্রকৌশল শাখার কাজ অর্থাৎ রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজ নির্মাণে গুণগত পরীক্ষা করার জন্যও আমরা আলাদা আরেকটি ল্যাব স্থাপন করেছি।

সুধীজন,
রাস্তা প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রেও আমরা অনেক উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি, যা আপনাদের সামনে খুব সহজেই দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রথমেই বলতে হয়, মীরেরময়দান থেকে বেতার সিলেট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম। এই সড়কটি প্রশস্ত করার সুবাদে এখন এই এলাকার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এবার আমরা বাংলাদেশ বেতারের সড়ক থেকে সুবিদবাজার পয়েন্ট অভিমুখী রাস্তাটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
আমাদের সাম্প্রতিক আরেকটি কাজ নিশ্চয়ই আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে। চৌহাট্টা থেকে নয়াসড়ক পর্যন্ত সড়কটি কিছুদিন আগেও ছিল খুবই সরু। কিন্তু বর্তমানে এই রাস্তাটির দৃশ্যটি আর আগের মতো নেই। এখন এই সড়কটি নগরীর অন্যতম প্রশস্ত সড়কে রূপান্তরিত হয়েছে। এই সড়কটি প্রশস্তকরণ করার কাজে এসব এলাকার বাসিন্দারা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেজন্য আমি তাদের প্রতি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিন¤্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নয়াসড়ক থেকে কুমারপাড়া পয়েন্ট পর্যন্ত বর্তমানে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলছে, এছাড়াও আমরা নয়াসড়ক পয়েন্টের সৌন্দর্য্যবর্ধন করে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলিমে দ্বীন মাওলানা হুসাইন আহমদ মদনীর স্মৃতি হিসেবে মাদানী চত্তর হিসেবে গড়ে তুলব, ঈদের পর এখানে কাজ শুরু হবে।
এছাড়াও মেন্দিবাগ সড়কের প্রশস্তকরণের পাশাপাশি ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজী বুরহান উদ্দিন মাদরাসা, মসজিদের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাস্তা প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সুরমার একটি বৃহৎ কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে এমজিএসপি প্রকল্পের আওতায় কীনব্রিজ থেকে কদমতলী বাস টার্মিনাল হয়ে হুমায়ুন রশীদ চত্ত্বর পর্যন্ত রাস্তাটি নতুন আঙ্গিকে সংস্কার করা হচ্ছে, এতে ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে, এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১৮ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্বীনব্রিজ থেকে ঝালোপাড়া হয়ে মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দ,
আমাদের সিলেটের রাস্তা প্রশস্ত করা এখন সময়ের দাবি। রাস্তা প্রশস্ত হলে এবং ফুটপাত থাকলে যানজট হ্রাস পায়, পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। এজন্য আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং ফুটপাত নির্মাণে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এই পর্যন্ত যেসব রাস্তা প্রশস্তকরণ তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মেডিকেল রোড থেকে নবাবরোড, ভাতালিয়া রোড, জালালাবাদ রোড, দরগা গেইট এলাকায় ঝর্ণারপাড় থেকে দর্শণদেউরী রাস্তা এবং দরগার দক্ষিণ দিক থেকে মিনার অভিমুখী সড়ক, জেলরোড পয়েন্ট, নাইওরপুল থেকে সোবহানীঘাট অভিমুখী সড়ক, দাড়িয়াপাড়া মোড় প্রশস্তকরণ, সওদাগরটুলা সড়ক, বনকলাপাড়া সড়ক, কালিবাড়ী সড়ক, যতরপুর সড়ক, কুমারপাড়া ঝেরঝেরীপাড়া সড়ক, ঝর্ণারপাড় সোনাতুলা সড়ক, দর্জিপাড়া সড়ক, শিবগঞ্জ-খরাদিপাড়া সড়কসহ পাড়া মহল্লার অনেক গলি প্রশস্ত করা হয়েছে।

সুধীজন,
দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত কদমতলী বাস টার্মিনাল সাড়ে সাত একর জমি নিয়ে অবস্থিত। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বাস টার্মিনালের আধুনিকায়নের প্রকল্প আমরা তৈরী করেছি। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কদমতলী বাস টার্মিনালকে সম্পূর্ন নতুন আদলে সংস্কার করা হবে। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের ডিজাইন করেছেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলীরা। এখানে যাত্রীদের রেস্ট নেওয়ার জন্য কক্ষ, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য থাকবেন চিকিৎসক, থাকবে এম্বুলেন্স। এছাড়াও প্রত্যেক রুট অনুযায়ী থাকবে আলাদা আলাদা বাস পার্কিং জোন, এন্ট্রি ও এক্সিটের জন্য থাকবে আলাদা ব্যবস্থা। মোটকথা হচ্ছে, বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই বাস টার্মিনালকে আধুনিকায়ন করা হবে।
এছাড়াও নগরীর পারাইরচকে ট্রাক টার্মিনালের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে এই টার্মিনালের কাজও সম্পন্ন হবে।

সম্মানিত নগরবাসী,
যানজট এবং ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সমস্যাটি সব সময় আলোচনায় আসে। ফুটপাত মুক্ত করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের উপর নাগরিকদের চাপ থাকে। ফুটপাতকে হকার মুক্ত করতে সবাই দাবি জানান। অতি সম্প্রতি ফুটপাত মুক্ত হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। এই বিষয়ে একটি অনাকাংখিত ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। আপনারা এই বিষয়ে অবগত আছেন। বিগত বছর আমি ফুটপাত সম্পর্কে বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করেছি। চলতি বছরও এই বিষয়ে বৈঠক করেছি। তাদের মূল্যবান মতামতের আলোকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। হকারদের যাতে সত্যিকার অর্থে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয় সেজন্য ইতোমধ্যে আমরা লালদিঘী মার্কেটকে ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই লক্ষ্যে ডিজাইন করার জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।
এই মার্কেটে আগে যারা বৈধভাবে বরাদ্দ পেয়েছেন তারা বহাল থাকবেন। এতদিন যারা ফুটপাতে ছিলেন তাদের পুনর্বাসন হবে ইনশাআল্লাহ। আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, লালদিঘী মার্কেট এবং হাসান মার্কেটকে কেন্দ্র করে করে আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরী করার পরিকল্পনা করেছি। হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে এই ব্যাপারে বৈঠকও করেছি। এই মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হাসান মার্কেটকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা জটিলতার অবসান হবে, একই সাথে একটি গ্রীণ পার্ক তৈরীর দ্বারও উন্মোচিত হবে এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

সুধীমণ্ডলী,
সিলেট মহানগরীর জন্য আরেকটি সুসংবাদ হচ্ছে, আমার অনেক দিনের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, নগরীতে স্থানে স্থানে বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণ তার-এর জঞ্জাল সরানো এবং নিরাপদ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম। প্রাথমিক পর্যায়ে চৌহাট্টা থেকে বন্দর পয়েন্ট পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় আমার জীবনে শুরু হয় অনাকাক্সিক্ষত অধ্যায়। কারান্তরীন থাকা অবস্থায় আমার অনুপস্থিতিতে পিডিবি ঐ প্রকল্প বাতিল করে দেয়। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার জন্য এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছিলাম। আমার পরিশ্রম সফল হয়েছে। এখন শুধু চৌহাট্টা টু বন্দরবাজার নয়, এখন নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো সবগুলোই আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপিত হবে। সিলেট মহানগরীর জন্য এখন সাড়ে ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প পিডিবি ঈদের পরপরই কাজ শুরু করবে। এই প্রকল্পের আওতায় যথাক্রমে সিলেট সার্কিট হাউজ হতে আম্বরখানা পর্যন্ত রাস্তায় উভয় পার্শ্ব, চৌহাট্টা হতে পিডিবি মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উভয় প¦ার্শ, চৌহাট্টা থেকে কুমারপাড়া হয়ে নাইওরপুল পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্ব, কুমারপাড়া পয়েন্ট থেকে শাহী ঈদগাহ আবহাওয়া পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্ব আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপিত হবে।

সুপ্রিয় নাগরিকবৃন্দ,
আপনারা অবগত আছেন যে, অপরিকল্পিত নগরীকে আধুনিক রূপদানের জন্য একটি মাস্টার প্লান তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু তা ত্রুটিপূর্ন হওয়ায় বাস্তবায়িত হয়নি। আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর এটিকে বাস্তবমুখী করার জন্য খ্যাতিমান প্রকৌশলী প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টা করে কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং কমিটিতে দেশের আরও খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরাও ছিলেন। আমরা প্রকল্পও গ্রহণ করেছিলাম। সিলেটের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি সেমিনারও হয়েছিল। এই সেমিনারে মূল্যবান দিকনির্দেশনা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে যে, কাজ শুরু হতে না হতেই আমাকে চলে যেতে হয় কারান্তরালে। ফলে আমার অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। যাই হোক এই মাস্টারপ্ল্যানকে বাস্তবমুখী করার তাগিদ থেকে গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ ও নাগরিক সুধীজন,
ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। সিলেট ভূমিকম্প জোনে অবস্থিত। ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধের ক্ষমতা আমাদের নেই কিন্তু সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করতে পারি। এজন্য দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরেই বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে আমরা আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্ট গ্রহণ করি। যোগাযোগ ও আলোচনার ফলে অর্থ বরাদ্দ এবং কাজের পরিকল্পনাও গৃহীত হয়। এই প্রজেক্টের কাজ চালুর সুবিধার্থে নগরভবনে তাদের জায়গা করে দিয়েছি। আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্ট এর আওতায় নগরীতে ইমারজেন্সী অপারেশন সেন্টার চালু করা হবে। ইতোমধ্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঈদের পরেই নির্মান কাজ শুরু হবে। এছাড়াও ৫টি ইমার্জেন্সি বেজ স্টেশন স্থাপন করা হবে আপদকালীন সময়ে নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখার জন্য।

সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জানেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অনেক সম্পত্তি আছে। এই সম্পত্তির মধ্যে অনেক সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাওয়া জমি আমার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আম্বরখানা পয়েন্টে ইতোমধ্যে সিটির মালিকানাধীন জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও দর্শন দেউড়িতে ৪ শতক, দাড়িয়াপাড়ায় ৮ শতক, কুমারপাড়ায় ১০ শতক বেদখল জমি উদ্ধার করা হয়েছে। কুমারপাড়ায় আমাদের নিজস্ব ভূমিতে ইতোমধ্যে ৫তলা ভবন নির্মান করা হয়েছে। এখানে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গণস্বাস্থ্য এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এজন্য তাদের সাথে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২৫ শয্যাবিশিষ্ট এই অলাভজনক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু হবে গরীব ও অসহায় রোগীরা কিডনি ডায়ালাইসিসের ক্ষেত্রে উপকার পাবেন। আপনাদের আরেকটি বিষয়ে অবগত করতে চাই, কিছুদিন আগে আমরা সন্ধ্যাবাজারের ছড়ার উপর অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলা দোকানপাট ভেঙে দিয়েছি। এছাড়াও এখানে যাতে আর কোন অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত না হয় সেজন্য আমরা এখানে নতুনভাবে ১২ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। প্রথম ৬ তলায় থাকবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী ৬ তলায় থাকবে আইসিটি ভবন। ইতোমধ্যে মাননীয় আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে আমরা জায়গা পরিদর্শন করেছি। তিনি আমাদেরকে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।

সুধীবৃন্দ,
সিলেটবাসীর জন্য ইতিবাচক আরেকটি বিষয় হচ্ছে এখন সিলেটে শিক্ষার প্রতি মনযোগ বেড়েছে, হারও বেড়েছে। সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারেও নাগরিকদের সহযোগিতায় সচেষ্ট। মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভোলানন্দ নাইট হাইস্কুল ও বর্ণমালা প্রাথমিক বিদ্যালয় সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনায় ছিল। আমার স্বল্প সময়ে তিনটি যথাক্রমে আখালিয়ায় বীরেশ চন্দ্র হাইস্কুল, মীর্জাজাঙ্গালে জুনিয়র হাইস্কুল এবং চারাদিঘীরপাড় মজলিস আমিন সিটি বেবিকেয়ার একাডেমির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এগুলোতে যথারীতি ছাত্রছাত্রী ভর্তি হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে চলছে। এছাড়াও ভারতীয় সরকারের অনুদানে চারাদীঘির পার বেবিকেয়ার একাডেমির পাঁচ তলা করার প্রস্তুতি চলছে।
বিগত বছরও আমি উল্লেখ করেছি যে, সিটি কর্পোরেশন ২৫ কোটি টাকা ভারত সরকারের অনুদান পেয়েছে। বেবিকেয়ার একাডেমি ছাড়াও এই অর্থে সুইপার কলোনি নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ভারতীয় এ অনুদানের টাকায় ধোপাদীঘি পুনঃখনন, চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার পরপরই এই প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে।

প্রিয় নগরবাসী,
আপনারা জানেন, অতীতে অনাদায়ী রাজস্ব ছিল বিপুল এবং হতাশাজনক। এর জন্য আমি মনে করি কর নির্ধারণে বৈষম্য, অসামঞ্জস্যই ছিল বড় কারণ। আইনানুগ, ন্যায়সঙ্গত কর বোঝা নয়, সিলেটবাসী এটি প্রমাণ করেছেন। আগামীতেও সম্মানিত নাগরিকবৃন্দের এই সুচেতনা বজায় থাকুক-এই প্রত্যাশায় আমার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ব থেকে এ পর্যন্ত কর্পোরেশনের আয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :

সিলেট সিটি কর্পোরেশন
রাজস্ব আয়ের বিবরণী

বিগত ৫ বছর বর্তমান ৫ বছর
অর্থ বছর রাজস্ব আয় অর্থ বছর রাজস্ব আয়
২০০৮-০৯ ১৩,৩৭,৯৮,৩১০/- টাকা ২০১৩-১৪ ৩৩,২১,৯৪,১২৪/- টাকা
২০০৯-১০ ১৪,৮৪,০৩,১০৯/- টাকা ২০১৪-১৫ ৩২,১৩,৪০,২৮০/- টাকা
২০১০-১১ ১৭,০৪,২৮,৩৮৩/- টাকা ২০১৫-১৬ ৩৭,৪২,০০,২৩০/- টাকা
২০১১-১২ ১৯,০২,৬৫,৭৭২/- টাকা ২০১৬-১৭ ৪৩,৯০,২৬,০০০/- টাকা
২০১২-১৩ ১৭,৩৫,০০,২৬৭/- টাকা ২০১৭-১৮ (মার্চ পর্যন্ত) ২৫,৫২,৪৯,৮০০/- টাকা

সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ,
সিলেট অঞ্চলের বৃহৎ একটি অংশ প্রবাসে বসবাস করেন। তারাবৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। ইতোমধ্যে আমি উল্লেখ করেছি অনলাইন সার্ভিস চালু করার কারণে দেশের বাইরে বসেও তারা তাদের বাসাবাড়ির হালনাগাদ তথ্য জানার পাশাপাশি যেকোন সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সাথে প্রবাসীরা যাতে নগর ভবনে আসলে বিশেষ সুবিধা পান সেজন্য আমরা নগরভবনে এনআরবি ডেস্ক চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে নগরভবনে এই কাজ শুরু হয়েছে। এনআরবি ডেস্কের পাশাপাশি সম্মানিত নাগরিকদের জন্য তথ্যকেন্দ্রও থাকবে। এতে করে যে কোন নাগরিক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সকল তথ্য এই ডেস্কে গিয়ে জানতে পারবেন।
সুধীবৃন্দ,
সিলেটে দেশি-বিদেশি বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তাদের পদধূলি দিয়েছেন। তাদের আগমন ও অবদানে সিলেটের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ হয়েছে। ১৯১৯ সালে এসেছেন বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি শহরতলীর মাছিমপুরে মণিপুরী পল্লী পরিদর্শন করেছেন। কবির স্মৃতি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত এবার আমরা বাস্তবায়ন করেছি। বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত এই স্থানটিকে আমরা সৌন্দর্যবর্ধন করেছি যা পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করবে।

সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ,
আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে জনগনের দ্বোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। এজন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এবার আমরা বেশ কয়েকটি ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নগরীর কোন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে বিনামূল্যে জন্ম নিবন্ধন করা। স্কুলগামী প্রত্যেকটি শিশুকে প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এজন্য তাদেরকে হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে।
এছাড়াও ব্রাকের সহযোগিতায় আমরা নগরীর যেসব বস্তিতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা একেবারে নাজুক এরকম ১৮টি বস্তিতে তিন কক্ষবিশিষ্ট স্যানিটারী সেন্টার স্থাপন করব। এখানে সিটি কর্পোরেশনর পানি সরবরাহ করা ছাড়াও পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা ব্যবস্থা থাকবে, গোসলেরও ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়াও হোটেল রেস্টুরেন্টের বয়/বেয়ারাদের জন্য হাইজেনিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জন্য মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এছাড়াও মা ও শিশুদের দশটি রোগের প্রতিষেধক টিকা দান, অন্ধত্ব নিবারণে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন, কৃমি নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহ পালন, স্যানিটেশন, বেওয়ারিশ লাশ দাফন, হোটেল রেস্টুরেন্ট পরিদর্শন,স্বাস্থ্য সনদ বিতরণ, জলাতংক রোগীদের ভ্যাকসিন প্রদান, অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য এইচ আই এম এস সিস্টেম চালু, জবাইকৃত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভেজাল বিরোধী অভিযান, বিনোদিনী দাতব্য চিকিৎসালয়ে গরিবদের প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি কার্যক্রম আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এনজিও সীমান্তিক এরও পাঁচটি সেবা কেন্দ্র নগরীতে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত আছে। পরিবেশ সংরক্ষণেও আমরা যথাসাধ্য কাজ করছি। আধুনিক জবাইখানা সহ আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণে আমাদের পরিকল্পনা আছে।
এছাড়াও এবছর আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের অর্থায়নের মাধ্যমে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় উন্নত বিশ্বের আদলে একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টয়লেটটি ছাড়াও মহানগরীর বন্দরবাজার ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলী টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় আরো ২টি পাবলিক টয়লেট নির্মান করা হবে।
আপনারা জানেন, কয়েক লাখ লোকের সিলেট নগরীতে এতোদিন পাবলিক টয়লেট ছিলো মাত্র দুটি। তাও কেবল পুরুষদের ব্যবহার উপযোগী। এবার নগরীতে নারী-পুরুষ উভয়ের ব্যবহার উপযোগী প্রথম পাবলিক টয়লেট চালু করা হলো। বহুজাতিক সেবা সংস্থা ‘ওয়াটার এইড’ এবং এইচ এন্ড এম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এই পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে।

সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমি বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। গত দু’টি বাজেটে আপনাদের সময় নেইনি। এবার আরেকটু বেশি সময় নিয়ে আপনাদের অনেক কথা বলার ছিল। ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে পারে মনে করে সংক্ষিপ্ত করছি। আপনারা আমাকে নিয়ে ভেবেছেন, আমার অনুপস্থিতির সময় আমার সম্পর্কে কথা বলেছেন। আশা করি আগামীতেও আপনারা আমাকে মনে রাখবেন। হ্যাঁ, আমিও কথা দিচ্ছি নগরবাসীর জন্য আমার যা করণীয় সর্বাবস্থায় আমি তা-ই করবো। আমি বিশ^াস করি, স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে সহকর্মীদের নিয়ে যা করবো তাতে আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা পাব। এ দৃষ্টিভঙ্গিতেই এবারও বাজেট তৈরী করা হয়েছে। বাজেট তৈরীতে অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম মুনিম ও সদস্য জনাব সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, জনাব শান্তনু দত্ত সন্তু, জনাব মোহাম্মদ তৌফিক বকস, বেগম জাহানারা খানম মিলন ও সদস্য সচিব হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জনাব আ.ন.ম. মনছুফ সময় ও শ্রম দিয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের স্বপ্ন সফল হোক, নগরীর উন্নয়ন নিশ্চিত, সমস্যা দূর হোক-এই আশা লালন করে মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করছি।
সিলেট নগরীর সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে অধিকতর সুযোগ সুবিধা ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবার সর্বমোট ৭৪৮ কোটি ৬৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা আয় ও সমপরিমাণ টাকা ব্যয় ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাত গুলো হলো হোল্ডিং টেক্স ১৭ কোটি ৬৫ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্থান্তরের উপর কর ৮ কোটি টাকা, ইমারত নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণের উপর কর ২ দুই কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার উপর কর ৮ কোটি ৫০ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা, বিজ্ঞাপনের উপর কর ১ কোটি টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবতনের ফি ও নবায়ন ফিস বাবদ ২০ লক্ষ টাকা, বাসটার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ৭৫ লক্ষ টাকা, খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ১৫ লক্ষ টাকা, সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ভাড়া বাবদ ৮০ লক্ষ টাকা, রাস্তাকাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় ২০ লক্ষ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আয় ৮০ লক্ষ টাকা, পানির সংযোগ লাইনের মাসিক চার্জ বাবদ ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, পানির লাইনের সংযোগ ও পুনঃসংযোগ ফিস বাবদ ১ কোটি টাকা, নলকুপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। সম্মানীত নগরবাসী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ করলে বাজেট বছরে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব খাতে সর্বমোট ৮৭ কোটি ৪৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।
সরকারী উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারী বিশেষ মঞ্জুরী খাতে ৪০ কোটি টাকা, অনান্য প্রকল্প মঞ্জুরী বাবদ ১ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশন অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ১০০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর ১১-টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ১১৬ কোটি টাকা, ভারতীয় অনুদানের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন এলাকার অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন প্রকল্প ৫০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় জমি অধিগ্রহণ ও ট্রাক টার্মিণাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, দক্ষিন সুরমা এম সাইফুর রহমান পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্প ১৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ প্রকল্প ৫ কোটি টাকা, নগরীর জলাবদ্ধতা হ্রাস করণ প্রকল্প ৩ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেনশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অনান্য কাজে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৭০ কোটি টাকা, উৎপাদন নলকুপ স্থাপন ৩ কোটি টাকা, পানির লাইন স্থাপন ৫ কোটি টাকা, ২৭-টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর গণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প ২ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং ষ্টেশন স্থাপন খাতে ২ কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্প খাতে বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানিটারী ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্প ৫০ কোটি টাকা, আরবান প্রাইমারী এনভায়রন সেন্টার হেল্থ সেক্টর ডেভেলাপমেন্ট প্রকল্প ৫০ কোটি টাকা, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প ৫০ লক্ষ টাকা, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরবান রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় ঊঈঙ নির্মান প্রকল্প ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, সিলেট মহানগরীর সুয্যারেজ মাস্টার প্লান এর ফিজিবিলিটি ষ্টাডি করন প্রকল্প ৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা, ৫০ এমএলডি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য ১২.৭২ একর জমি অধিগ্রহন ৫ কোটি টাকা, নগরীর বস্তি সমুহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ৫০ লক্ষ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প খাতে মার্কেট নির্মাণ বাবদ প্রাপ্ত সালামী ও সিটি কর্পোরেশন আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণ ব্যায় গ্রহণ বাবদ মোট ১৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
বাজেটে রাজস্ব খাতে সর্বমোট ৬১ কোটি ৪২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তন্মধ্যে সাধারণ সংস্থাপন খাতে ২৯ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, শিক্ষা ব্যয় খাতে ১ কোটি ৩২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান খাতে ২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্য ও প্রয়ঃপ্রণালী ব্যয় বাবদ ১০ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ খাতে ব্যয় ২০ লক্ষ টাকা, বৃক্ষ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় খাতে ১৫ লক্ষ টাকা, মোকদ্দমা ফি ও পরিচালনা ফি বাবদ ব্যয় খাতে ১৫ লক্ষ টাকা, জাতীয় দিবস উদযাপন ব্যয় খাতে ২০ লক্ষ টাকা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি ব্যয় খাতে ১২ লক্ষ টাকা, মেয়র কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্ণামেন্ট ব্যয় বরাদ্দ ৫০ লক্ষ টাকা, রিলিফ/ জরুরী ত্রাণ ব্যয় বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা, আকষ্মিক দূর্যোগ/ বিপর্যয় ব্যয় বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা, রাস্তা আলোকিত করন ব্যয় বরাদ্দ ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, কার্যালয়/ ভবন ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ৫০ লক্ষ টাকা, নিরাপত্তা/ সিকিউরিটি পুলিশিং ব্যয় খাতে ৩০ লক্ষ টাকা, অনান্য ব্যয় খাতে ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া পানি সরবরাহ শাখার সংস্থাপন ব্যয় সহ পানির লাইনের সংযোগ ব্যয়, পাম্প হাউজ, মেশিন, পাইপ লাইন মেরামত ও সংস্কার সহ সর্বমোট ১১ কোটি ৪৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে রাজস্ব খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বাবদ মোট ৫৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা মেরামত/সংস্কার, ব্রীজ/কালভার্ড নির্মাণ, ব্রীজ/কালভার্ড মেরামত/ সংস্কার, ড্রেইন নির্মাণ/ মেরামত, সরঞ্জাম যন্ত্রপাতি ও সম্পদ ক্রয়, সিটি কর্পোরেশনের ভবন নির্মাণ/মেরামত, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ষ্টাফ কোয়াটার নির্মাণ ও সংস্কার, ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব লিয়াজো অফিসের জন্য ফ্ল্যাট ক্রয়, কসাই খানা নির্মাণ/ ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্টান, মাজার, কবর স্থান/শশ্মান ঘাট/ঈদগাহ উন্নয়ন, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষায় গ্যারেজ নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষণ-বেক্ষনে ওয়ার্কসপ নির্মাণ, হাট বাজার উন্নয়ন, বাসটার্মিনাল সংস্কার ও উন্নয়ন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঠাগার নির্মাণ, নাগরিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গভীর নলকুপ স্থাপন, এমজিএসপি প্রকল্পের রক্ষনা-বেক্ষন কাজের নিজস্ব অর্থ ব্যয়, সিটি কর্পোরেশনের জন্য দুই টি আধুনিক এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় এবং নারী উন্ননে প্রকল্প গ্রহন ব্যায় ইত্যাদি ব্যয় উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া সরকারী উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ব্যয় খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারী বিশেষ মঞ্জুরী খাতে ৪০ কোটি টাকা, অনান্য প্রকল্প মঞ্জুরী বাবদ ১ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প ব্যায় ১০০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর ১১-টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১১৬ কোটি টাকা, ভারতীয় অনুদানের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন এলাকার অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ব্যায় ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ন প্রকল্প ৫০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ট্রাক টার্মিণাল নির্মাণ প্রকল্প খাতে ব্যায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, দক্ষিন সুরমা এম সাইফুর রহমান পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্প ১৫ কোটি টাকা, বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ প্রকল্প খাতে ব্যায় ৫ কোটি টাকা, নগরীর জলাবদ্ধতা হ্রাস করণ প্রকল্প খাতে ব্যায় ৩ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেনশনের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অনান্য কাজে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৭০ কোটি টাকা, উৎপাদন নলকুপ স্থাপন ৩ কোটি টাকা, পানির লাইন স্থাপন ৫ কোটি টাকা, ২৭-টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর গণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প খাতে ব্যায় ২ কোটি টাকা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং ষ্টেশন স্থাপন খাতে ব্যায় ২ কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্প খাতে ব্যায় বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানিটারী ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্প খাতে ব্যায় ৫০ কোটি টাকা, আরবান প্রাইমারী এনভায়রন সেন্টার হেল্থ সেক্টর ডেভেলাপমেন্ট প্রকল্প খাতে ব্যায় ৫০ কোটি টাকা, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প খাতে ব্যায় ৫০ লক্ষ টাকা, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরবান রেজিলেন্স প্রকল্পের আওতায় ঊঈঙ নির্মান প্রকল্প ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, সিলেট মহানগরীর সুয্যারেজ মাস্টার প্লান এর ফিজিবিলিটি ষ্টাডি করন প্রকল্প ৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা, ৫০ এমএলডি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য ১২.৭২ একর জমি অধিগ্রহন খাতে ব্যায় ৫ কোটি টাকা, নগরীর বস্তি সমুহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে খাতে ব্যায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প খাতে মার্কেট নির্মাণ বাবদ প্রাপ্ত সালামী ও সিটি কর্পোরেশন আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণ ব্যায় গ্রহণ বাবদ মোট ১৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

সম্মানিত সুধী ও সাংবাদিকবৃন্দ,
আমার মেয়াদ পালনকালে সম্মানিত নগরবাসী যেভাবে অকুণ্ঠ সমর্থন ও অভূতপূর্ব সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আমি চিরঋনী হয়ে থাকব। বিশেষ করে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আমি তাদের প্রতি অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ। আপনারা জানেন, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, সিলেটপ্রেমী ব্যক্তিত্ব, এম সাইফুর রহমানের সাথে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, যা আমার জীবনের এক পরম পাওয়া। সেই সুবাদে তাঁর কাছ থেকে আমি রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন কাজে মনোনিবেশ করার বিষয়টি উপলদ্ধি করেছি। সিটি কর্পোরেশনও দলমত নির্বিবেশে সকলের। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমি এবং আমার সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিগত দিনে আমার দায়িত্ব পালনকালে আরেক সিলেট প্রেমী আরেক ব্যক্তিত্ব, মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আমাকে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়াও দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিলেটের সুধীজনসহ সর্বস্তরের জনগন সিলেটের উন্নয়নে একাত্ব ছিলেন তাদের প্রতিও আমি বিন¤্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি মনে করি সিলেটকে আরও আধুনিক করে গড়ে তুলতে আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।
মাহে রমজানের এই দিনে আপনারা মূল্যবান সময় দেওয়ায় আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং একই সাথে আপনাদের সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটটি আমার মেয়াদের সর্বশেষ বাজেট। সবার সামনে এই বাজেট পেশ করার সুযোগ পাওয়ায় আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
সবশেষে আপনাদের মাধ্যমে সিলেটের সকল সম্মানিত নগরবাসী এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। সিলেটবাসীর মমতা ও দোয়া-ই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই দোয়া ও মমতা নিয়েই আমি আমৃত্যু জনগনের সেবা করে যেতে চাই।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাখুন।

(আরিফুল হক চৌধুরী)
মেয়র
সিলেট সিটি কর্পোরেশন
তারিখ : ১২ জুন ২০১৮