শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

ছাতকের ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি



ছাতক প্রতিনিধি:: ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলকে সিলেটে নগরী পার্শবতী টুকেরবাজার এলাকা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় অবশেষে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। শনিবার বিকালে সিলেট মেট্রোপলিন পুলিশের জালালাবাদ থানায় তিনি নিজে ওই ডায়রি করেন।

ডায়রিতে কিভাবে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। জিডির বিষয়টি স্বীকার করে থানার ওসি (তদন্ত) আনোওয়ার জানিয়েছেন, তা তদন্ত করা হবে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি সাহেলের বিরুদ্ধে একটি চক্র মাঠে কাজ করছে আর সেই চক্রটি এমন ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে বলে তার পরিবার ও দলীয় নেতৃবৃন্দ ধারণা করছেন।

সাধারণ ডায়রিতে সাহেল উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে তিনি গত ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত বুধবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ১২ টায় ছাতকের গ্রামের বাড়ি থেকে সিলেট যাওয়ার পথে টুকেরবাজার এলাকায় একটি জিপ তার প্রাইভেট কারের গতিরেধ করে। কয়েকজন লোক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাকে কার থেকে তুলে নিয়ে যায়।

প্রথমে মোবাইল ফোনসেট ও মানিব্যাগ তারা তাদের দায়িত্বে নেয়। তুলে নেওয়ার পর শহরতলীর শিবেরবাজার এলাকায় এবং পরবর্তীতে নগরীর কালিবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তারা কডলেস ও মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত লোকদের সাথে কথা বলে। আরও কয়েকজন লোক তাদের সাথে যুক্ত হয়। পরে তাকে গোয়াবাড়ি এলাকায় বাগানের ভেতর নিয়ে যায়। তুলে নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা কোনো জাবাব দেয়নি বা খারাপ আচরণ করেনি বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন সাহেল।
সাহেল আরও উল্লেখ করেন, ওইদিন রাত ১ টার দিকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ও মানিব্যাগ ফেরত দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে বাড়াবাড়ি না করেতে হুমকী দিয়ে তারা গোয়াবাড়ি এলাকায় তাকে রাস্তায় ফেলে যায়। বিষয়টি তিনি পরে আত্মীয়দের জানান।
সাহেল বলেন, আমি রাজনীতি করি। এলাকায় শত্রুর অভাব নেই। প্রথমে চাইছিলাম না জিডি করতে। কিন্তু এ ধরণের নেক্কারজনক কাজের প্রতিবাদ করাটা জণপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব। আমি সবসময় দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই কারা আমাকে তুলে নিয়েছিল, আশা করি প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে।
এ ব্যাপারে ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সাহেল শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নয়, দলীয় কর্মীও। কে বা কারা তাকে তুলে নিয়েছিল তা বের হওয়া প্রয়োজন। সাহেল অনেক ত্যাগ স্বীকার করে এ অবস্থানে পৌছেছে। স্থানীয় এমপির প্রবল বিরোধীতা সত্বেও দলের জন্য তার কর্ম ও ত্যাগের মূল্যায়নে পুরস্কার স্বরুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে নৌকা উপহার দেন এবং সেও জনগণের ভালোবাসাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নৌকার বিজয় উপহার দেয়।
তিনি বলেন, একটি চক্র বর্তমান সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার মতো যাতে কোনো ঘটনার পূণরাবৃত্তি না হয় সেদিকে প্রশাসনকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এতে সরকার ও দলের ইমেজের প্রশ্ন জড়িত।