শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
সিলেটে ফিরে নেতাকর্মীদের ভালবাসায় সিক্ত কামরান  » «   বন্যায় সবজি খেত বিনষ্ট, কমলগঞ্জে কাঁচা বাজারে আগুন  » «   পাঁচ জনকে পেছনে ফেলে কামরানের মনোনয়ন জয়: নগরীতে আনন্দ মিছিল  » «   সিলেটে দলীয় সমর্থন আদায়ে আ’লীগ-বিএনপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে কাউন্সিলর প্রার্থীরা  » «   চুনারুঘাটে রাত পোহালেই আমু চা বাগানের শ্রমিকদের নির্বাচন  » «   সিলেটে পুলিশের সাথে ছাত্রদলের সংঘর্ষ: আটক ১৫  » «   ভারতীয় কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধ, পুলিশসহ নিহত ৬  » «   আ’লীগের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   পাঁচ জেলায় সড়কে প্রাণ গেল ৩২জনের  » «   শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ: এড শাকী শাহ ফরিদী  » «  

কমলগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্টি শিক্ষার্থীদেরকে বাস উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী: সংশয়ে ৬টি বাগানের শিক্ষার্থীরা



আসহাবুর ইসলাম শাওন, কমলগঞ্জ থেকে:: কমলগঞ্জ উপজেলার চাম্পারায়, কুরমা,বাঘাছড়া, ধলই,পাত্রখোলা শ্রী গবীন্দপুর, মদনমোহনপুর ও মাধবপুর চা বাগানের কলেজগামী চা শ্রমিক শিক্ষার্থীরা টাকার অভাবে কমলগঞ্জ কলেজগুলোতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না, এ বিষয়টি কমলগঞ্জের সংবাদকর্মিদের মাধ্যমে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানতে পেরে কমলগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ও কমলগঞ্জ আব্দুল গফুর মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে তার সত্যতা পান তিনি।কলেজ কর্তৃপক্ষরা জানায়, চা বাগান গুলোর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না। এতে করে মাসে গড় হাজিরা থেকে বাদ পড়ে থাকে অনেকেই।

কমলগঞ্জ উপজেলাকে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন গড় অনুপস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত ও প্রতিবন্ধকতা উপলব্ধি করেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। তিনি চিন্তা করে বের করেন কেন গড় হাজিরায় অনুপস্থিত চা শ্রমিক সন্তানরা। তাদের গড় হাজিরায় অনুপস্থিতির প্রধান কারন হলো যাতায়াত ব্যবস্থা। প্রতিদিন কলেজে আসলে মাথা পিছু যাতায়াত খরচ হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

পরে বিষয়টি নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি আবেদন পত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। তিনি কমলগঞ্জ উপজেলার চা শ্রমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি বাস বরাদ্ধ করতে বিগত বছর আবেদন পত্র আদান প্রদান সহ জোর তদবির করেন ঢাকায়। অবশেষে কমলগঞ্জে চা শ্রমিক সন্তানদের কলেজে যাতায়াতের সুবিধার্থে জন্য এ বছর জুন মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসকল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বাস উপহার স্বরূপ দিয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চা শ্রমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন বাস উপহার দেয়ায় কুরমা, চাম্পারায় ও বাঘাছড়া চা শ্রমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে আনন্দ বিরাজ করলেও সংশয় দেখা দিয়েছে মাধবপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ফাঁড়ি বাগান গারোটিল্লা, ধলই,পাত্রখোলা শ্রী গবীন্দপুর, মদনমোহনপুর ও মাধবপুরসহ ৬ টি চা বাগানের চা শ্রমিক শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে। তাদের আশংকা অবহেলিত চা শ্রমিক শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের এই অক্লান্ত পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে না তো…?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চা শ্রমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার স্বরূপ দুটি বাসের জায়গায় একটি বাস দেয়া হয়েছে।এ বাসটি যদি তিনটি চা বাগানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আদমপুর হয়ে কমলগঞ্জ চলে যায়, তাহলে এ সুবিদা থেকে বঞ্চিত হবে বাকি ৬ টি বাগানের শিক্ষার্থীরা। অর্থাভাবে এ সকল শিক্ষার্থীরা এক সময় ঝরে পরতে পারে ।তাই উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এ সকল শিক্ষার্থীরা বাসটি যেন পাত্রখোলা হয়ে মাধবপুর দিয়ে কমলগঞ্জ যায়, যাতে করে কমলগঞ্জ কলেজে যাওয়ার সেই সুযোগ অত্র চা বাগানের শ্রমিক শিক্ষার্থীদের পায়।