শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

দুই মেয়র প্রার্থীর প্রচারের সঙ্গে চলছে অপপ্রচারও



ডেস্ক রিপোর্ট:: চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা অন্তত দুটি সংবাদ নজর কেড়েছে সবার। প্রথম সংবাদে পুলিশ এবং মাদক কারবারিদের মধ্যে টাকার মাধ্যমে সমঝোতা করিয়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে। সংবাদে বলা হয়, নগরীর কাষ্টঘরে পরিচ্ছন্নকর্মীদের কলোনিতে মাদকবিরোধী অভিযান

চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুলিশ। বিপদে পড়ে ওই কলোনির নেতারা সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে আশ্রয় চাইলে মেয়র তাদের ফিরিয়ে দেন। তবে সাবেক মেয়র কামরানের কাছে গেলে তিনি পুলিশের সঙ্গে তাদের সমঝোতা করিয়ে দেন। পুলিশকে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকার উপঢৌকন, সঙ্গে শরিক হন কামরানও। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি করেছে। অন্যদিকে সংবাদ প্রচারকারী পত্রিকাটি পরদিন নিজেদের উদ্যোগেই কামরান কোনো টাকার লেনদেনে জড়িত নন বলে প্রতিবাদ ছেপেছে।

দ্বিতীয় সংবাদে অভিযুক্ত বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা অভিযোগ করেছেন নিজ দল বিএনপির বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্রের। বিগত উপজেলা নির্বাচনে নিজ দলের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরাজিত করতে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করান বলে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানায় পত্রিকাটি। অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদকে কোণঠাসা করতে তিনি কাজ করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ সংবাদের কোনো প্রতিবাদ অবশ্য এখনো আসেনি গণমাধ্যমে।

মূল কথা হচ্ছে, সিলেট সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই সিলেটের হেভিওয়েট দুই মেয়র প্রার্থীকে নিয়ে তুমুল প্রচার যেমন শুরু হয়েছে, একই সঙ্গে শুরু হয়েছে অপপ্রচারও।

৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের নাম এসেছে আলোচনায়। আরিফ ও কামরান ছাড়াও আলোচনায় আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, বাফুফের সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং বর্তমান প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান লোদী। অনেকে সমর্থক-অনুসারীদের নিয়ে প্রচারও শুরু করেছেন। তবে অভিজ্ঞমহল বলছে, শেষ পর্যন্ত পুরনো দুই প্রার্থীকেই বেছে নেবে বড় দুই দল। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় চূড়ান্ত মনোনয়নের পর আরিফুল হক চৌধুরী ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরানই থাকবেন লড়াইয়ের মাঠে। আর তাই প্রচারের সঙ্গে এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে শুরু হয়েছে অপপ্রচারও। প্রচার-অপপ্রচারের মধ্যে থেকে সুবিধা নিতে চেষ্টা করছে একটি শ্রেণি।

এসব ব্যাপারে আলোচনাকালে মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি এগুলোকে অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি। কাজ করতে হলে নানা কৌশল নিতে হয়। নিজের অনেক মানুষও ভুল বুঝতে পারে। আমি আশা করি কাজের মাধ্যমেই সব অপপ্রচারের জবাব দিতে পারব। জনগণ আমার সঙ্গে আছে, কোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারে কাজ হবে না।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ফজরের নামাজের সময় পরিচ্ছন্নকর্মীদের কলোনির একঝাঁক দলিত মানুষ আমার কাছে এলেন, দীর্ঘদিন আমি তাদের মেয়র হিসেবে সেবা দিয়েছি। এ অধিকারেই তারা আসতেই পারেন। তারা বর্তমান মেয়রের কাছে যাননি কিংবা গেলেও পরামর্শ পাননি। একজন জনগণের সেবক হিসেবে আমি তাদের পরামর্শ দিয়েছি। এটিকে কেউ অন্যভাবে নিলে কিছু বলার নেই। তবে গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের আয়না। আমি চাই সংবাদমাধ্যম সংবাদ পরিবেশনে আরও বস্তুনিষ্ঠ হবে। কেননা সবাই মিলেই এই দেশটাকে উন্নত করে তুলতে হবে।-সূএ-আমাদেরসময়