সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী হানি মুলকি। গতকাল সোমবার তাকে তলব করেন জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ। তিনি তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাড়ান হানি মুলকি। সরকারি একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, গতকাল বিকালে হুসেইনিয়া প্যালেসে বাদশার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হানি মুলকি।

এরপর তার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বাদশা তা গ্রহণ করেছেন। এর আগে দ্রব্যমূল্য ও কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে জর্ডানে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ। গত রবিবার রাজধানী আম্মানসহ দেশের প্রধান শহরগুলো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। দাবি মানতে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। টানা চারদিন ধরে এ আন্দোলন চলে। গত রবিবার ছিল আন্দোলনের চতুর্থ দিন। অব্যাহত এই আন্দোলনে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে স্থিতিশীল দেশটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়, রোববার আম্মানে চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। সম্প্রতি জর্ডান সরকার আইএমএফ’র নির্দেশনা অনুযায়ী কর ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিল ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে জর্ডানের মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাবে। দেশটির সাধারণ মানুষও সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্ষোভ শুরু করেছে তারা। রোববার প্রায় পুরো রাজধানী বিক্ষোভকারীদের দখলে ছিল। সচিবালয়ের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী হানি মুলকির পদত্যাগ দাবি করেন।

তারা ঘোষণা দেন, করবৃদ্ধির জন্য পার্লামেন্টে পাঠানো ওই বিল বাতিল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পরে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় তারা স্লোগান দিতে থাকে, ‘বিল বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এটি নির্লজ্জ সরকার।’ বিক্ষোভকারীরা বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর কাছে করবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি বৈধ। আমরা দুর্নীতির পক্ষে নই।’ রোববার দিনের শুরুতে প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারী আম্মানে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এসময় তারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন, ‘আমরা পরাজয় মানবো না।