মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

বদরের যুদ্ধ ছিলো হক আর বাতিলের মধ্যকার যুদ্ধ : আল্লামা মুফতি যাকারিয়া



ডেস্ক নিউজ:: সিলেটের দরগাহ হযরত শাহজালাল (র.) মাদরাসার মুহতামিম এবং দরগাহ মসজিদের খতিব আল্লামা মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া বলেছেন, ১৭ রামজান ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবদ্দশায় সবচে বড় যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

এ যুদ্ধ ছিলো হক আর বাতিলের যুদ্ধ, এটা ছিলো আলো এবং অন্ধকারের মধ্যকার যুদ্ধ। সে যুদ্ধে মুসলমানেরা মাত্র ৩১৩জন নিয়ে বিশাল শত্রু বাহিনীর মোকাবেলায় বিজয়ী হয়েছিলেন। এটা ছিলো ইসলামের ইতিহাসে প্রথম বিজয়। পবিত্র রামজান মাসে নাজিল হয় আল কোরআন। আল কোনআনের আরেক নাম ফোরকান, যা হক আর বাতিলের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। রামজানের গুরুত্বপূর্ণ আমল সিয়াম অর্থাৎ রোজা রাখা।

কিছু জিনিষ হালাল হওয়া সত্ত্বেও রামজানে দিনের বেলা মুসলমান সে কাজ থেকে বিরত থাকে। রোজা মানে শুধু এই মাসে খারাপ কর্ম থেকে বিরত থাকা নয়, সারা বছর যেন খারাপ কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে পারে সেই চেষ্টা করতে হবে। ১৭ রামজান রবিবার সিলেট নগরীর বালুচরস্থ জামিআ সিদ্দিকিয়ায় ইসলামের প্রথম বিজয় দিবস ‘ইয়াওমে বদর’-এর উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও ইফতারপূর্ব আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামিআ সিদ্দিকিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ মবনুর সভাপতিত্বে ও উপ-পরিচালক মাওলানা রেজাউল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামিআর পরিচালক মুফতি মনসুর আহমদ। সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ মবনু বলেন, জামিআ সিদ্দিকিয়া এদেশের শিক্ষা আন্দোলনে কিছুটা ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে এই অঞ্চলের সর্বশ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা আমাদেরকে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করে রেখেছে। ১৭ রামজান আমরা স্মরণ করি আসহাবে বদরের সাহাবীদেরকে। কোরআন-হাদিসে তাদের অনেক ফজিলত বর্ণিত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন বলেন, আমি বিভিন্ন দেশে দেখেছি সরকার স্কুল কলেজেও কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে। আমাদের দেশেও সেভাবে করা যেতে পারে। জামিআ সিদ্দিকিয়ার শিক্ষায় সমন্বয় রয়েছে। এখান থেকে পড়ে যেকোন ছাত্র বাংলাদেশের যেকোন ধারার শিক্ষায় যেতে পারে। এই শিক্ষা পদ্ধতি জাতীয়ভাবে একটা মডেল হতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদি বলেন, বর্তমান সময়ে জামিআ সিদ্দিকিয়া দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসার দাবী রাখে। প্রতি বছর ১৭ রামজান আসহাবে বদরের স্মরণে যে বিশেষ দোয়ার আয়োজন হয় তা আমাদেরকে ইসলামের সোনালী যুগের স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাট্যলোকে উপদেষ্টা বাবুল আহমদ বলেন, জামিআ সিদ্দিকিয়ার এই বিশাল আয়োজনে বিভিন্ন পেশা, শ্রেণী এবং ধর্মের মানুষে অংশ গ্রহণ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। জামিআ সিদ্দিকিয়া এলে মনে হয় এটা আমাদের সকলের প্রতিষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন জামিআর ছাত্র শাহজালাল হোসাইন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দোয়া মাহফিল উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হাফিজ মাওলানা জামিল আহমদ চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক নোমান বিন আরমান, সাংবাদিক ইকবাল হাসান জাহিদ, প্রগতিশীল পাঠক সংঘ শৈলীর সভাপতি ফিদা হাসান, জামিআ সিদ্দিকিয়ার উপ-পরিচালক (প্রশাসন) হেলাল হামাম, ইকবাল আহমদ, বাদল আহমদ প্রমূখ ।