শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

সিলেট সিটি নির্বাচন: মনোনয়ন রাজনীতি তুঙ্গে সবাই মেয়র হতে চায় !



ফয়সাল আমীন:: আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষনায় মনোনয়ন রাজনীতি এখন তুঙ্গে। লবিং. গ্রুপিং, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে সমর্থন আদায়ের নিরংকুশ চেষ্টা করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মেয়র, কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের এখন দীর্ঘ তালিকা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্টিত হবে এবারকার নির্বাচন। তাই দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত মানেই বিজয়ের অর্ধেক পথ যেন এগিয়ে। সেকারনে প্রতীক টনিকে আদায়ে মরিয়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এতে বেকায়দায়-আওয়ামীলীগ বিএনপি। তাই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে দু‘দলের গৃহদাহ। এসবের পরও মেয়র প্রার্থী পদে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নাম-যশ-পরিচয়-পরিচিতি অবস্থান অনন্য। তারা যেন এ পদে ব্র্যান্ড।

তবে দলীয়ে প্রতীকে নির্বাচন হ্ওয়ায় দলের মধ্যে প্রার্থী হ্ওয়ার খায়েশ আছে অনেকের। তাদের আগে পিছে দলীয় পদ-পদবীর ভারিক্কী থাকলেও জন সর্ম্পক্ততায় তাদের গ্রহন যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। বিগত ৩বারের নির্বাচন ফলাফল পরিসংখ্যানে দেশের সবচেয়ে ছোট আয়তনের সিটি সিলেটে আা‘লীগ প্রার্থী দু‘বার, বিএনপি প্রার্থী এক বার বিজয়ী হয়েছেন। এবার ভোটার ভোটার বাড়লে, সিটি করপোরেশনের আয়তন বাড়েনি।

সংশ্লিষ্ট মতে, মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য আ‘লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী চারজন। মহানগর আ’লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, শিক্ষা-বিষয়ক সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এবং বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সেলিম অর্থমন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হিসাবে সমাদৃত। তবে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে কামরান যেমন এগিয়ে তেমনি কামরানের বিনম্র ব্যবহার অতুলনীয়।

সিসিকের প্রথম দুই মেয়াদের মেয়র কামরান গত নির্বাচনে বিএনপির হেরেছিলেন আরিফের কাছে । তবে হারের পরও জনবিচ্ছিন্ন হননি তিনি। সভানেত্রীর সংকেত পেয়েই আরো চাঙ্গা এখন সাবেক সিটি মেয়র কামরান। তবে আ’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা কামরানকে এখনই মাঠ ছেড়ে দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, দলের মনোনয়ন বোর্ডই প্রার্থী ঘোষণা করবে। এর আগে কেউ দলীয় প্রার্থী হতে পারেন না। কামরানের পক্ষে জনগনের সমর্থন থাকলেও দলীয় মনোনয় প্রত্যাশিরা তাকে চাপে রাখতে বসে নেই।

এ ব্যাপারে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘ আমাকে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ও আস্থা অনেক বেশি, দলের সর্বোচ্চ পর্যায় সেই গুরুত্ব বিবেচনায় আমাকে গ্রিন সিগনাল দিয়েছেন, আমি সেই লক্ষ্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ মেয়র পদে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি, দীর্ঘদিন ধরে। মানুষ পরিবর্তন চায়,তাই ব্যক্তির কর্ম দক্ষতা ও ইমেজ এখন মূখ্য, অন্তত দলীয় প্রতীক প্রাপ্তিতে। দল থেকে এখনও কাউকেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সবার জন্য সুযোগ রয়েছে।’
আও’লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আজাদুর রহমান আজাদ ও মাহিউদ্দিন সেলিম বলছেন, দলীয় সভানেত্রী মনোনয়ন দিলে তারা নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছেন। মনোনয়ন পেলে নতুন প্রজন্ম কে সাথে বিজয়ের মাধ্যমে অত্যাধুনিক নগরী গড়ে তুলতে তারা কাজ করবেন।

এদিকে, সিসিক নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও সক্রিয় রয়েছেন। বিভিন্নভাবে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আছেন সিসিকের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তবে এ দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আরিফই। তার কর্মদক্ষতা সাধারন জনগনের কাছে কল্পনাতীত, কাজের কাজী হিসেবেই তাকে আপন করে নিয়েছে সচেতন মানুষ।

নগরীকে প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব করতে তার কর্মচাঞ্চল্য সহ পদক্ষেপ সমূহ অসাধারন। যদ্ওি পারিপার্শি¦ক পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না আরিফে। অর্থমন্ত্রীর আলোকিত সিলেট গড়ার যে ঘোষনা ছিল, মেয়র আরিফকে সেই কাজে লাগানোর সুযোগ দিলে বিশ্বের যেকোন আধুনিক নগরীর মতো সিলেট হতে পারতো। কিন্তু মেয়র হ্ওয়ার র্পও সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তাকে প্রায় দুই বছর কারান্তরীণ থাকতে হয়েছে। এজন্য তার প্রতি দলের নেতাকর্মী সহ সচেতন নাগরিকের সহানুভূতি রয়েছে তার প্রতি। এসব বিবেচনায় বিএনপির হাইকমান্ড আগামী নির্বাচনেও আরিফের ওপর আস্থা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আরিফের দলীয় মনোনয়ন কঠিন করতে সক্রিয় হয়ে উঠছেন দলের অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

এ ব্যাপারে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি দলের মনোনয়ন চাইবো। দল নিশ্চয়ই যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। এক্ষেত্রে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আমার কারান্তরীণ হওয়া, মেয়র হিসেবে নগরবাসীর জন্য আমার নিবেদন, কর্মতৎপরতা সবকিছুই বিবেচিত হবে।’সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘দলের নেতাকর্মী, সাধারণ জনতাসহ সবাই চাইছেন আগামী নির্বাচনে আমি প্রার্থী হই। দলের মনোনয়ন চাইবো আমি।’ নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ( বর্তমানে উমরা হজ্বরত)বলেন, ‘১৯৯৫ সালে দল আমাকে মনোনয়ন দিলেও আমি তা গ্রহণ করিনি।

এখন আমি মনে করছি, সিটি করপোরেশনে কাজ করার জন্য আমি প্রস্তুত। দলের হাইকমান্ডের কাছে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদিকে, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গত বছরের ১৫ নভেম্বর আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভায় মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নিজস্ব অবস্থান থেকে প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়েছেন।
সবচেয়ে ছোট সিটি সিলেট :
আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ছোট সিটি করপোরেশন হচ্ছে সিলেট। ২০০২ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার ২৬. ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়েই সিলেট সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এই সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড হচ্ছে সাধারণ ২৭টি ও সংরক্ষিত মহিলা ৯টি। সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়তন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৪ সালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রচেষ্টায় কার্যক্রম শুরু হলেও চার বছরে এর কোনো অগ্রগতি প্রক্রিয়া ফাইল বন্দি।
বিগত ৩ বার মেয়র পদে নির্বাচন ফলাফল পরিসংখ্যান:

সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি নেতা এম এ হককে পরাজিত করে মেয়র পদে জয়ী হন আ‘লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে কারাগারে বন্দী থেকেও বিপুল ভোটে পুনরায় বিজয়ী হন কামরান। তবে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় নির্বাচনে চার দলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র পদে নির্বাচিত হন।
ভোটার বেড়েছে ২৪ হাজার :

এবার সিলেট সিটিতে গত নির্বাচনের চেয়ে ভোটার বেড়েছে ২৪ হাজার ১৮ জন। সিলেট নগরীর সর্বশেষ হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকা অনুযায়ী নগরীতে বর্তমানে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হচ্ছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৩ জন। সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ৩৬৮ জন এবং সর্বনি¤œ ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ হাজার ৬১০ জন। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকালে সিলেট নগরীর মোট
ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন।