শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
বন্যায় সবজি খেত বিনষ্ট, কমলগঞ্জে কাঁচা বাজারে আগুন  » «   পাঁচ জনকে পেছনে ফেলে কামরানের মনোনয়ন জয়: নগরীতে আনন্দ মিছিল  » «   সিলেটে দলীয় সমর্থন আদায়ে আ’লীগ-বিএনপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে কাউন্সিলর প্রার্থীরা  » «   চুনারুঘাটে রাত পোহালেই আমু চা বাগানের শ্রমিকদের নির্বাচন  » «   সিলেটে পুলিশের সাথে ছাত্রদলের সংঘর্ষ: আটক ১৫  » «   ভারতীয় কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধ, পুলিশসহ নিহত ৬  » «   আ’লীগের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   পাঁচ জেলায় সড়কে প্রাণ গেল ৩২জনের  » «   শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ: এড শাকী শাহ ফরিদী  » «   আরিফকে মনোনয়ন না দিতে নিজ দলের নেতাকর্মীরা একাট্রা  » «  

চুনারুঘাটে অস্থির মাদক সম্রাজ্য গডফাদাররা আত্মগোপনে



এম এস জিলানী আখনজী, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে:: চুনারুঘাট সীমান্তে মাদক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে অস্থিরতা। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান তেমন জোরদার না করলেও মাদক সম্রাজ্যে নেমে এসেছে হতাশা।

ফড়িয়া মাদক ব্যবসায়ীরা এদিক-সেদিক ঘুরাফেরা করলেও গডফাদাররা আত্মগোপনে রয়েছে। কোন কোন মাদক ব্যবসায়ী হাতে তজবি ও মাথায় টুপি সেঁটে সারাদিন মসজিদ অথবা বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে এবং সময় সুযোগে মাদক প্রতিবাদকারীদের দেখে নেয়ারও হুমকী দিচ্ছে।

তবে গড ফাদাররা হাতে তজবি ও মাথায় টুপি পড়িধান করে নিস্তব্ধ বিভিন্ন ফাড়ি রাস্তা ও হাট-বাজারগুলোর আশ পাশে থেকে মোবাইলে নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক ব্যবসা। দেশের বড় বড় শহরে এতোদিন যেসব নারী ইয়াবা ব্যবসা করতো তারা গ্রামে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, এ ধরণের অনেক নারী ব্যবসায়ী বললো, ঢাকাতে সমস্যা চলছে তাই গ্রামে এসেছি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও ঢাকায় যাবো। নইলে খাবো কি।

আবার এ ধরনের অনেক মহিলাদের স্বামীও রয়েছে। তারাও রাজধানীতে মাদকের ব্যবসা করে। বিজিবি’র দাবী, সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হওয়ায় সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘাপটি মেরেছে। তাদের দাবী মাদকরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় কড়া টহল পরিচালনা করছে। বাল্লা বিজিবি’র সুবেদার আজিজুর রহমান বলেন, গত ১৩ মে বাল্লা সীমান্তে ৩১৭ পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ পাকুরিয়া গ্রামের রুমন সরকার ও আজিমাবাদ গ্রামের আলমীরকে আটকের পর মুলত সীমান্তে মাদক ব্যবসা হ্রাস পেয়েছে। ওই দুই ব্যবসায়ী খুবই প্রভাবশালী।

সাধারণ মানুষজন বলেছেন, কৌশলী ব্যবসায়ীরা ইফতার ও তারাবির নামাজের সময় মাদক পাচার অব্যাহত রেখেছে। তবে মহিলা মাদক ব্যবসায়ীরা সেই আগের মতোই মাদকের চালান নিয়ে যাচ্ছে এখানে সেখানে। এদেরকে সহায়তা করছে সিএনজি অটোরিক্সার কোন না কোন চালক।
গীমান্ত সূত্র জানান, বাল্লা, কালেঙ্গা, রেমা, গুই বিল, চিমটিবিল ও সাতছড়ি সীমান্তে ২শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে শিশুসহ আরো ৫ শতাধিক নারী পাচারকারী। মুলত নারীরাই এখন নিরাপদ পাচারকারী হিসেবে বেশী সমাদৃত। নারীরা ইফতারের সময়টাতে ভ্যানিটি ব্যাগে করে ইয়াবা পাচার করে। মুখোশপড়া ওই নারীদের পোষাক-আসাক দেখে বুঝার উপায় নেই-তারা মাদক পাচারকারী। গত ২৫ মে গাজাসহ জয়ন্তী রবিদাস নামের এক মহিলাকে শায়েস্তাগঞ্জে থেকে আটক করা হয়েছে। ২৩ মে কাউছার নামের ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। চুনারুঘাট উপজেলা চা বাগান ও পাহাড় ঘেরা। প্রতিটি চা বাগানই ত্রিপুরা সীমান্তের কাছাকাছি। পাহাড়ী পথ দিয়ে মাদক পাচার করা সবচে বেশী নিরাপদ হওয়ায় পাচারকারিরা চা বাগানের গোপন পথকেই বেছে নেয়। এ ছাড়া চা শ্রমিকদের দিয়েও মাদক পাচার করানো হয়।
সূত্র জানায়, সীমান্তের সাদ্দাম বাজার, চিমটিবিল, চিমটিবিলখাস, টেকেরঘাট, গোবরখলা, বড়ক্ষের, টিলাবাড়ি, আলীনগর, গাজীপুর, বনগাও, ঘনশ্যামপুর, গোছাপাড়া, সুন্দরপুর, করইটিলা, কালিশিরি, ধলাইরপাড়, নয়ানী, পাকুরিয়া, সাতছড়ি এলাকায় রয়েছে মাদকের বড় ব্যবসায়ী। এরা রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও সরব। তাদের সন্তানরাও মাদক ব্যবসা করে। সরকারের বিশেষ বাহিনীর এক সদস্য বলেন, সীমান্তের মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার, পাচারকারী সবার নাম সরকারের নজরে এসেছে। অপেক্ষা করেন, অভিযান চলবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ইকবাল বলেছেন, মাদকের বিষয়ে কোন আপোষ নেই। ধরা তাদের পড়তেই হবে।