সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

কমলগঞ্জে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু: অবহেলার অভিযোগ



কমলগঞ্জপ্রতিনিধি::মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নিজ বাড়িতে এক মায়ের প্রসব করানোর পর গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মায়ের মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করে সময় ক্ষেপন করায় মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আলীনগর ইউনিয়নের আলীনগর বস্তিতে প্রসব হলে সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মায়ের মৃত্যু ঘটে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আলীনগর বস্তির মশ্বব আলীর স্ত্রী রিমা বেগম (৩০)-এর প্রসব ব্যথা শুরু হলে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় তার বাড়িতেই প্রসব করানো হয়। বাড়িতে প্রসবের পর রিমার অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী আক্রাম আলী রোগীর অবস্থা দেখে ফোনে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সাজেদুল কবিরকে আসার অনুরোধ জানান। তিনি সাথে সাথে রোগীর স্বজনদের বলেন, এ রোগীকে দ্রুত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সাজেদুল কবির এসে পরীক্ষা করে দেখেন রোগী(রিমা বেগম) মারা গেছেন। জানা যায় এর আগে রিমা বেগমের আরও তিন সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনার পর নিহত গৃহবধূ রিমা বেগমের ভাশুর আশ্বাফ আলী অভিযোগ করে বলেন, বাড়িতে প্রসব করানো হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর তার চিকিৎসা সেবা দিকে বিলম্বের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি শুনার পর কমলগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত করে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সাজেদুল কবির বলেন, আসলে বাড়িতে প্রসব করানোর পর এ মায়ের প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর তার চিকিৎসা সেবা শুরুর আগেই সে মারা যায়। এখানে কোন অবহেলা ছিল না। বাড়িতে নিরাপপত্তাহীণভাবেই প্রসব করানো হলে রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেন, এ ঘটনার খতিয়ে দেখা হবে। চিকিৎসার অবহেলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোক্তাদির হোসেন পিএিম বলেন, ঘটনা মৌখিকভাবে শুনে পুলিশের একটি দল পাঠিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়। আসলে এ গৃহবধূর প্রচুর রক্ত ক্ষরণে এ মৃত্যু। রোগীর স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে।