শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

৯ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১



জাতীয় ডেস্ক:: সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার রাতে ৯ জেলায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১১ জন মাদক ব্যবসায়ী। এদিকে এসব ঘটনায় ৮ জন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত দেড়ার দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগরা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৬) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী।

পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহ জাহান কবির জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে ব্রাহ্মণপাড়া-দেবিদ্বার সার্কেলের এএসপি শেখ মোহাম্মদ সেলিম ও তিনি ফোর্স নিয়ে উপজেলার বাগরা এলাকায় অবস্থান নেন।

রাত দেড়টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস তাদের সহযোগীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছালে তাদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ১৬ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

তাদেরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে উভয়ের মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠাবাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান মিয়া (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত শাহজাহানের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

চাঁদপুরের কচুয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবলু (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বাবলু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ। কচুয়া থানার ওসি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, রাতে একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবলুকে উপজেলার ১১নং দক্ষিণ গোহাট ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রাম থেকে আটক করা হয়।

থানায় নিয়ে আসার পথে একই উপজেলার ১০নং উত্তর গোহাট ইউনিয়নের ব্রিক ফিল্ডের কাছে বাবলুর সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ককটেল নিক্ষেপ করে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। এ সময় বাবলু গুলিবিদ্ধ হলে তাকে কচুয়া হাসপাতালে নেয়া হয় কিন্তু সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাবদারুল ইসলাম (৪২) ও আবদুস সালাম নামে দুইজন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের ১৩ দিনাজপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, বীরগঞ্জে বিপুল মাদক পাচারের খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে র‌্যাব অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সাবদারুল গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পরে তার কাছে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড তাজা গুলি, এক রাউন্ড গুলির খোসা, প্রায় দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হন দুই র‌্যাব সদস্য। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রেন্টু মিয়া (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে র‌্যাব। রেন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ৭ টি মাদক মামলা রয়েছে।
বরগুনায় ছগির খান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বরগুনা থানার ওসি মাসুদুজ জামান জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ছগির খান মারা গেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে সদর উপজেলার ১৯নং বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদকের প্রায় ১৫টির মামলা রয়েছে।
ফেনীর রুহিতিয়া এলাকা থেকে কবির হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কবির রুহিতিয়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।
পাবনা সদর থানা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুর রহমান নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত আব্দুর রহমান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।