সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পবিত্র রমজান মাস এবং মেয়ের বাড়ি ট্রাকভর্তি ইফতারি!



রহমত, মাগফেরাত এবং নাজাতের পবিত্র এই মাস, এই মাসের ধর্মীয় গুরুত্ব কমবেশি সবার জানা। সরাসরি তাই আসল কথায় চলে যাই।

রোজা রাখা, ইফতার করা, সেহরি খাওয়া, নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি তারাবিহ নামাজ আদায় করা, কিছুটা হলেও বছরের অন্য সময়ের চেয়ে সংযত চলাফেরা করা, মুখে কিঞ্চিৎ লাগাম টেনে কথা বলা, তুলনামূলক দান-খয়রাত বেশি করা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো সত্যিই ভালোলাগার মত।

ভালো কাজের সূচনাটাই জরুরী, একবার আরম্ভ হলে একসময় তা অভ্যাসে পরিণত হয়। খোদাভীতিও একদিনে তৈরি হয় না, আস্তে আস্তে সৃষ্টির সেবায় মনোনিবেশ আর সংযত জীবনযাপন, ধর্মীয় আচার-আচরণ করে করে একসময় সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব করা যায়।

যাই হোক কথায় বলে, এক বালতি দুধ নষ্ট করতে এক ফুটো কেরোসিন-ই যথেষ্ট। তাই সজাগ থাকাটা অতিশয় বাঞ্ছনীয় যে আমরা সেটাই করছিনাতো!

এবার আসি ইফতারি প্রসঙ্গে, বিশেষ করে বিয়ের পর মেয়ের শশুরবাড়িতে সাধ্যমত অথবা বাধ্যতামূলক ট্রাক/মাইক্রো/টেম্পু/ঠেলা বুঝাই করে পাঠানো ইফতারি প্রসঙ্গে। ব্যাপারটা পবিত্র রমজান মাসের ধর্মীয় কাজের বা ইবাদাতের কোনো অংশ বলে হয় না।

আমার ধারনা, বিষয়টা অনেকটাই প্রথার মত; কোনো এক অতীত থেকে শুরু হয়ে কালের বিবর্তনে তা আজও চলমান আর স্থান করে নিয়েছে হয়তোবা সংস্কৃতির অংশ হিসেবে (সংস্কৃতির সংজ্ঞা বা আওতায় পড়ে কি না তা নিয়ে যুক্তিতর্ক করা খুব যুক্তিহীন হবেনা যদিও)।

কথা হলো, যার অনেক আছে তার কাছে না হয় এটা ‘ফ্যান্টাসি’ বা ‘গেট টুগেদার’ অথবা ‘শো-অফ’ বলে ধরে নিলাম। যিনি অনেক দান করেন, নিয়মমতো যাকাত দেন, তারপরেও যার অনেক সম্পদ; তারা এই ফ্যান্টাসিতে ডুব দিলে কোনো অসুবিধা নেই, সে ক্ষেত্রে আদার ব্যাপারি না হয় জাহাজের খবর নাই নিলাম।
কিন্তু এটাকে যে আমরা এমন জায়গায় নিয়ে গেলাম যে একজন নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা নেহায়েত গরীব বাবার বেলায়ও ছাড় নেই!! মেয়ে শশুরবাড়ি মুখ দেখাতে পারবেনা সাথে ফ্রি’তে সবার রক্তচক্ষু আর অপমানও সহ্য করতে হবে। এ কেমন নিয়ম?

আসুন দেখে নেই পরের চিত্রটা, নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে কোনোমতে গরীব বাবা কিছু টাকা জোগাড় করে মেয়ের মুখ রক্ষায় উদ্যোগী হলেন! তাতেও বিধি বাম!!
“এইটুকু দেয়ার চেয়ে না দিলেই ভালো হতো, পাড়া-পড়শী, আত্বীয়-স্বজনের কাছে যা ইজ্জত ছিল আজ তাও গেলো”- এই যখন ইফতারি দেয়ার পর প্রতিউত্তর তখন হয়তো অনেক মেয়েরই লজ্জায়-অপমানে মরে যেতে ইচ্ছে করে আর তার বাবা হয়তো বলে উঠেন ‘ধরণী দ্বিধা হও, লুকাই তোমার তলে’। প্রত্যাশা যেখানে কমপক্ষে ঠেলাগাড়ি ভরা ইফতারি, সেখানে পরিমানে কম ইফতারি দেয়ার ঠেলা সামলানো দায় হওয়াটাই অনুমেয়!

পবিত্র ধর্ম ইসলাম শান্তি আর মানবতার ধর্ম।
ইসলাম এমন বৈষম্য আর তার থেকে উদ্ভূত হওয়া অশান্তিকে সমর্থন করবে বলে মনে হয় না। ইসলাম তার আদর্শে দৃঢ়তায় জায়গামতই আছে, জায়গায় নেই আমরা। ভেবে দেখার সময় এখন, শুভবুদ্ধির উদয় দরজায় কড়া নাড়ছে, আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে…

এডভোকেট শাকী শাহ ফরিদী
চেয়ারম্যান, শাহ ফাউন্ডেশন।