রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সরকাররি ঘোষণার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও হাওড়াঞ্চলে শুরু হয়নি ধান সংগ্রহ



বিপ্লব রায়, সুনামগঞ্জ থেকে ::এবছর হাওড়ে বোরোর বাম্পার ফলনে কৃষকদের মনে স্বস্তিতে ফিরেছে। বৈরি আবহাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হলেও তেমন কোনো উদ্বেগ নেই কৃষকদের মনে। তবে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহ করার ঘোষণা দেয়া হলেও হাওড়ে এখনো পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

সরকারী ঘোষণার ১৬দিন পেরিয়ে গেছে। হাওড়াঞ্চলে এখনো শুরু হয়নি ধান ক্রয়। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়েই তুলনামুলক ভাবে কম দামে ধান বিক্রয় করতে হচ্ছে ফরিয়াদের কাছে। তবে জেলায় বর্গাচাষীর পরিমান তুলনা মুলকভাবে বেশি থাকায় কৃষকরা ধান কাটার পর পরই ধান বিক্রয় করার চেষ্ঠা করেন। জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের দাবী ধান সংগ্রহের চিঠি পাওয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য মনিটরিং টিম থাকবে।

এক ব্যাক্তি যেন একাধিকবার ধান দিতে না পারেন সেই জন্য এই টিম কাজ করবেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ‘ধান সংগ্রহের চিঠি পেয়েছি। এ বছর সুনামগঞ্জ থেকে মোট ৬ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন কৃষক থেকে সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ২৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকা ধরে কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। সে হিসাবে প্রতি মণ ধানের দাম পড়বে ১০৪০ টাকা। আশা করা যাচ্ছে দুয়েক দিনের মধ্যে ধান সংগ্রহের কাজ চলবে।

ধর্মপাশা উপজেলার কৃষক শিবেন্দ্র দাস বলেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে না। ধান সংগ্রহের কাজ যদি আরো আগে থেকে শুরু হত তাহলে ৭শ টাকা ধরে আমাদের ধান বিক্রি করা হত না। সরকারের কাছে বিক্রি করা হলে আমরা ১ হাজার টাকা মন বিক্রি করতে পারতাম। এখন প্রতিমণে ৩শ টাকা লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করা হচ্ছে।

শাল্লা উপজেলার কৃষক দিলোয়ার হোসেন বলেন, দারদেনা করে জমি করছিলাম। এখন পাওনাদারদের তাগিদে কম টাকায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার সুযোগ থাকলেও আমরা পাবনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক স্বপন কুমার সাহা জানান, ইতোমধ্যে কৃষকেরা ১২ লাখ মে. টন ধান জমি থেকে ঘরে তুলেছেন। এই সময়ে খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ শুরু হলে স্থানীয় বাজারে ধানের দাম বাড়বে।

এ বছর বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এতে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। যার বাজারমূল্য তিন হাজার কোটি টাকা। এ ধান থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের নয়বারাঙ্কা গ্রামের বিমান তালুকদার বলেন, স্থানীয় বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকের উৎপাদনের খরচ হিসাব মিলছে না।

সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বলেন, গত বছর ফসল হারিয়ে এবছর হাওড়ে বোরোর বাম্পার ফলনের পরও লাভের মুখ দেখছে না কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে সাংসারিক প্রয়োজন ও দেনার দায় শোধ করতে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।