বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কানাইঘাটে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছার নামে কোনো বিদ্যালয় ছিল না



সিলেট প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে দাবি
ডেস্ক রিপোর্ট:: কানাইঘাটে মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছার নামে কোনো বিদ্যালয় ছিল না বলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন মূলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমীর সভাপতি মো. ফখর উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি অভিযোগ করেন এই মহিয়সী নারীর নাম ভাঙ্গিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ সোলেমান, তার মা আনোয়ারা বেগম ও ভাই আহমদ আব্দুল্লাহ ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ফখর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৯৬ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে মূলাগুল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে এমপিওভুক্তির সময় এই বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় মূলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমি।

সেই সময় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ সোলেমান। তার সময়েই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মূলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমি করা হয়। আর সেই তিনিই গত ৯ মে সংবাদ সম্মেলনে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করেছেন।
ফখর উদ্দিন বলেন, আশেপাশে কোন বিদ্যালয় না থাকায় এই রকম দুর্গম পাহাড়ী এলাকার এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় এগার শ’ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। যাদের মধ্যে উপজাতি সম্প্রদায় ও চা শ্রমিকের সন্তান রয়েছে।

প্রতি বছর জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে। এই বিদ্যালয়টি বৃহত্তর মূলাগুলের আশির্বাদ স্বরূপ। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়টির সুনাম নষ্ট করার জন্য আহমদ সোলেমান, আনোয়ারা বেগম ও আহমদ আব্দুল্লাহ গত ৯ মে সিলেট প্রেসক্লাবে হারিছ চৌধুরী একাডেমীর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে তারা কান্দলা (আহমদ নগর) নামে একটি নতুন গ্রামের নাম উল্লেখ করে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এলাকাবাসী গ্রামের নাম বদলানোর জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে আনোয়ারা বেগম সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ করেছেন- তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কানাইঘাট উপজেলা তথা মূলাগুল এলাকায় মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা নামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

এই রকম একজন মহিয়সী নারীর নামকে ব্যবহার করে আহমদ সোলেমান চক্র ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা এলাকাবাসী ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছেন। আনোয়ারা বেগম তার লিখিত বক্তব্যে আরো বলেছেন, বিদ্যালয়ের জায়গায় জোর পূর্বক দখল করা হয়েছে যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কেননা বিদ্যালয়ের জায়গার জমি নিয়ে কোন মামলা নেই এমনকি অতীতেও ছিল না। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সমস্ত জায়গা বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ড আছে ও প্রিন্ট ফর্সা আছে।

এলাকার সর্বস্তরের মানুষ বিদ্যালয়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আনোয়ারা বেগম তার স্ববিরোধী বক্তব্যে আরও বলেছেন, তার ছেলে আহমদ সোলেমানকে ওই সময় জোর করে সভাপতি করা হয়, যখন তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে কিভাবে জোর করে স্কুলের সভাপতি করা যায়-তা আমাদের জানা নেই। তবে ঐ সময় তিনি হারিছ চৌধুরী একাডেমির সভাপতি এবং এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

আহমদ সোলেমান দায়িত্বে থাকাকালে মূলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমির জহরুল ইসলাম নামে একজন কৃষি শিক্ষককে সালাম না করায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আবু সাদেক নামে আরেক শিক্ষকের দিকে তেড়ে গেলে উপস্থিত লোকজন সেই শিক্ষককে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে এই দু’জন শিক্ষকই প্রাণের ভয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। যার জন্য বহুদিন শিক্ষক স্বল্পতায় পাঠদান ব্যাহত হয়। আবারও বিদ্যালয়ে এসে আহমদ সোলেমান শিক্ষকদেরকে লাঞ্ছিত করেন। পরে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

আনোয়ারা বেগম সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলামকে উপস্থিত ছিলেন বললেও সিরাজুল ইসলাম অস্বীকার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বিনষ্টকারী আহমদ সোলেমান ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির প্রধান শিক্ষক আহমদ সবুর, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নুর উদ্দিন, আলতাফ উদ্দিন ও হাফিজ কামাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য হাজী আলমাছ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা এম এ হান্নান, সহকারী শিক্ষক আফতাব উদ্দিন, আজিজুল ইসলাম ও মুসলিম উদ্দিন, ইউপি সদস্য কয়েসুর রহমান, অভিভাবক জাকার হোসেন, আহমদ হোসেন, সমাজসেবি সফর উদ্দিন প্রমুখ।