শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
বন্যায় সবজি খেত বিনষ্ট, কমলগঞ্জে কাঁচা বাজারে আগুন  » «   পাঁচ জনকে পেছনে ফেলে কামরানের মনোনয়ন জয়: নগরীতে আনন্দ মিছিল  » «   সিলেটে দলীয় সমর্থন আদায়ে আ’লীগ-বিএনপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে কাউন্সিলর প্রার্থীরা  » «   চুনারুঘাটে রাত পোহালেই আমু চা বাগানের শ্রমিকদের নির্বাচন  » «   সিলেটে পুলিশের সাথে ছাত্রদলের সংঘর্ষ: আটক ১৫  » «   ভারতীয় কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধ, পুলিশসহ নিহত ৬  » «   আ’লীগের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  » «   পাঁচ জেলায় সড়কে প্রাণ গেল ৩২জনের  » «   শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ: এড শাকী শাহ ফরিদী  » «   আরিফকে মনোনয়ন না দিতে নিজ দলের নেতাকর্মীরা একাট্রা  » «  

‘ইকবাল মনসুর’ ভাই ও কিছু কথা



মনসুর ভাই। সিলেটে ‘ইকবাল মনসুর’ নামেই পরিচিত। সিলেটের সাংবাদিকতার জগতে উজ্জল একটি নক্ষত্রের নাম ইকবাল মনসুর। সাংবাদিকতার ক্যাটাগরিতে ফটো সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্ট।

কঠোর পরিশ্রমি আর সাহসি না হলে এ কাজের মূল থিম ভেস্তে যায়।সিলেটের ফটোসাংবাদিকতার জগতে তিনি এক কিংবদন্তী।

‘ওয়ান এলিভেন’ তথা এক এগারোর কথা শুনলেই যে কারো শরীর শিউরে উঠবে।

রাজনীতির পিচ্ছিল ময়দানে রাজনীতিকদের পা ফেলা যে ছিল কতোটা কষ্টের।

এর চেয়ে বেশি সাহস আর জীবন বাজি রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে সাংবাদিকদের।

ওয়ান এলিভেনের সময়কার দুর্লভ ছবি। তখনকার পরিস্থিতি কতোটা কঠিন ছিল তা সবারই জানা। সিলেটের সাংবাদিকরা যে ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করতে পারেননি, তা ‘ইকবাল মনসুর’ ভাইয়ের ক্যামেরায় বন্দী হতো।

এই তো অসুস্থ হওয়ার কয়েক দিন আগে প্রাণের প্রতিষ্ঠান শ্যামল সিলেটের অফিসে তিনি মেমোরি কার্ড ডুকিয়ে বিভিন্ন দুর্লভ ছবি দেখাতেন। ছবি তোলার স্মৃতিগুলো গল্পে গল্পে বলে শুনাতেন।

তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা কপি-পেস্ট আর ছবি চুরিতে একদাপ এগিয়েছি একথা অনস্বীকার্য। মনসুর ভাই বলতেন এখনকার তরুণ ফটোসাংবাদিকদের আমাদের মতো (ইকবাল মনসু ভাই) ও তার সময়কার ফটোসাংবাদিকদের কতোটা কষ্ট বুকে চেপে রেখে সাংবাদিকতা করতে হয়েছে তার হিসেব কষা মুশকিল।

ছিলনা এন্ড্রুয়েড ফোন, ভাচুয়াল জগত তো ছিলইনা। এর মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল অনুন্নত। আর আমরা আজ বিলাসিতার সাথে সাংবাদিকতা করছি।

তিনি পান্তমাই সীমান্তের কথা গল্প করেছেন। একবার সীমান্তে অশান্তি শুরু হয়েছিল। বলা যায় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি। তখনও তিনি ক্যামেরায় ক্লিক করে ছবি তুলেছেন।

ইকবাল মনসুর ভাই’র কখা শুনতাম আর অবাক হতাম। কিন্তু প্রেরণা পেতাম। সামনে এগিয়ে যাবার সাহস পেতাম। সেই গল্পে গল্পে একদিন আমাদের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল মুকিত ভাইকে লক্ষ্য করে তাকে একদিন বলতে শুনলাম, শরীর কাঁপছে, জ্বর মনে হয় আমায় চেপে বসেছে।

নির্বাহী সম্পাদক আবদুল মুকিত ভাই তার শরীরে হাত বুলিয়ে বললেন, হ্যাঁ মনসুর ভাই শরীর তো পুড়ে যাচ্ছে, জরুরী ভিত্তিতে আপনি ডাক্তার দেখান।

এরপর পর হাতেগুনা কয়েকদিন পর শুনলাম তিনি ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি। দেখতে গেলাম শ্যামল পরিবারের সবার সাথে।

এরপর বিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় ইকবাল মনসুর ভাইয়ের চিকিৎসা শুরু হয়। ধরা পড়ে দুরারোগ। চোখে পানি টলমল করছে। লিখতে পারছি এমন রোগ। হে আল্লাহ আপনি রোগ নেয়ামতকে শিফা নেয়ামত দ্বারা পরিবর্তন করে দেন।

ইকবাল মনসুর ভাইয়ের জন্য সহকর্মী-সহযোদ্ধা, ভক্ত-অনরাগীসহ দেশ-বিদেশের অনেককে দেখছি পাশে দাঁড়িছেন। মমতার হাত বুলাতে দেখেছি আমি। এ যেনো একই পরিবারের অন্য সদস্যের প্রতি গভীর ভালবাস আর মমত্ববোধ।

আমরা কেউই এ দুনিয়াতে থাকবোনা। সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমরা পারি একে-অন্যের প্রতি তেলাওয়াত-তাসবিহসহ নেক আমলের পরে খাস দিলে মোনাজাত করতে।

আসুন বরকতময় এই মাস। দু’দিন পরই বরকতময় রজনীতে উপণিত হবো আমরা। আসুন শবে বরাতে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে আমাদের নিজের আত্মীয়-স্বজনের জন্য দোয়ার পাশাপাশি ‘ইকবাল মনুসর’ ভাইয়ের শিফার জন্য দোয়া করি।

আল্লাহ তায়ালা যেনো প্রিয় মনসুর ভাইকে সুস্থ করে আমাদের মাঝে আবার ফিরিয়ে দেন। আমিন।

লেখক: আতিকুর রহমান নগরী
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক শ্যামল সিলেট।