মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

সিলেট হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী –তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী



ডেস্ক নিউজ:: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, সিলেটে ডিজিটাল নগরী গড়ে তোলার সব ধরনের সুবিধা রয়েছে।

তাই সিলেট হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী।

সিলেটের সবুজ, সিলেটের হাওর আর সিলেটের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সবমিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের সম্পূর্ণ ডিজিটাল নগরী হবে সিলেট।

গত শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) রাতে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সিলেট শাখার সংবর্ধনা সভায় মন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন।

সংগঠনের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুস চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিসিএস’র কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার।

সেক্রেটারি এএসএমজি কিবরিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন মহাসচিব মোশাররফ হোসেন সুমন, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিসিএস’র কোষাধ্যক্ষ মো. জাবেদুর রহমান শাহীন, পরিচালক সাইদুল মুনির, আসাব উল্লাহ খান জুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, সিলেট বিসিএস’র ভাইস চেয়ারম্যান মো. বিন আব্দুর রশীদ, জয়েন সেক্রেটারি তারেক হাসান, কোষাধ্যক্ষ পার্থ চৌধুরী, পরিচালক মুজিবুর রহমান, আহমেদ মাসুদ হায়দার জালালাবাদী, সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, বাংলাটিভির ব্যুরো চিফ আবু তালেব মুরাদ, সাংবাদিক সামির মাহমুদ।

সভায় মন্ত্রী জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হাইটেক পার্কের কাজ আগামী জুন মাস নাগাদ দৃশ্যমান হবে। যা সিলেটের জন্য গর্বের। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর হাওর-বাওর, নদীর তীরে স্থাপিত এই হাইটেক পার্ক হবে দেশের প্রযুক্তিখাতে এগিয়ে যাওয়ার একটি অন্যতম নিদর্শন।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক স্থাপন (ফোরজি) ছিল আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আর অর্থমন্ত্রীসহ সকলের সহযোগিতায় সেই চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আসতে পেরেছি। এখন সামনে আরো একটি চ্যালেঞ্জ হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন, আগামী ৭ ই মে সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী আগষ্ট থেকে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতি উল্লেখ করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সবকটি ইউনিয়ন ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায় আসবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি বাড়ি থাকবে কানেক্টিভিটির আওতায়। এখন স্মার্টফোন ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন রকম যন্ত্রাংশ দেশেই নির্মাণ হচ্ছে হচ্ছে। নেপাল, নাইজেরিয়া ও পূর্ব তিমুরে আমাদের দেশে তৈরি কম্পিউটার ও স্মার্টফোন রপ্তানি হচ্ছে। এখন আমাদের সোনালী সময়।

বিশ্বের অন্যতম সেরা মোবাইল ফোন নির্মাতা কোম্পানি স্যামসাং শিগগির বাংলাদেশে তাদের কারখানায় মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন শুরু করবে। এতে বাংলাদেশ হতে পারে আগামী দিনের তথ্য প্রযুক্তি খাতে অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ।

দেশের প্রযুক্তিখাত আরো সম্প্রসারিত করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোস্তফা জব্বার বলেন, আগে আপনারা বিদেশী কোম্পানির রিটেলার হয়ে কমিশন নিয়ে ব্যবসা করেছেন, এখন সেখান থেকে সরে আসার সময় হয়েছে।

এখন থেকে দেশি কোম্পানির তৈরি কম্পিউটার বিক্রি করতে হবে, তাহলেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াবে। সরকার এখাতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে, প্রায় ১২’শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এ খাতের শিল্প বিকাশে। এই বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমরা সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করতে পারব।