শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে: মো. শাহজাহান  » «   সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীসহ ১৫ লাখ মানুষের তথ্য হ্যাকড  » «   ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের আহবান!  » «   সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক সংস্কারের দাবীতে ২৪ জুলাই কর্মবিরতী পালনের ডাক  » «   যুবদের কর্মসংস্থান ও নগরীর সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিব: তাহের  » «   নানা হলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান  » «   ধর্মপাশায় প্রচন্ড গরমে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু  » «   কামরানের নৌকার সমর্থনে নগরীতে কানাইঘাট উপজেলা আ’লীগের গণসংযোগ  » «   কমলগঞ্জে হিট স্ট্রোকে একজনের মৃত্যু: জনজীবন বিপর্যস্ত  » «   মেয়র প্রার্থী ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেনের কদমতলীতে মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময়  » «  

সুরমা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশ শাবির সাবেক ছাত্রী বৈশাখী ধর তৃপ্তির



স্টাফ রিপোর্ট:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সুরমা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী বৈশাখী ধর তৃপ্তির। বৃহস্পতিবার তৃপ্তির বাবা পরিতোষ ধর মেয়ের কাপড় দেখে পচে যাওয়া মরদেহ সনাক্ত করেন। তার আগে বুধবার নদী থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বৈশাখী ধর তৃপ্তি (২৭) সিলেটের খাদিমনগর উপজেলার বহর দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা পরিতোষ ধরের মেয়ে। তিনি সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক ছাত্রী ছিলেন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সিলেট শাখায় আরএমএস বিভাগে চাকুরী করতেন তৃপ্তি। গত বুধবর দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠায়।

এদিকে, বুধবার রাতে তৃপ্তির বাবা বাদী হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মেয়ের স্বামী রিংকু ধরকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় বুধবার রাতেই দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলার মাহবুব কমপ্লেক্স এর বাসা থেকে রিংকুকে আটক করে পুলিশ। তৃপ্তির পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের জুন মাসে তৃপ্তি ও রিংকুর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। স্বামী রিংকু ধর একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থায় চাকুরী করেন।

তৃপ্তির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর রিংকু পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। অনেক সময় তিনি তৃপ্তিকে নির্যাতন করতেন। গত ২২ এপ্রিল ভোরে তৃপ্তি স্বামীর বাসা হতে বের হয়ে আর বাসায় ফিরেননি। ওই দিন বাসা হতে বের হয়ে তৃপ্তি তার বাবার মোবাইল ফোনে খোদে বার্তায় লেখেন ‘মাই লাইফ ইজ ফেইলর’। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান মিলেনি। ওইদিন পেয়ে তৃপ্তির পিতা ওই দিন দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন (ডায়েরী নং ১২৮৫)।

গত বুধবার দোয়ারাবাজারে নারীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দোয়ারাবাজার থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ সনাক্ত করেন পরিতোষ ধর। দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন, আমরা অর্ধগলিত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করি সম্ভবত পানিতে ভাসতে ভাসতে লাশটি এদিকে এসেছে। মরদেহ সনাক্ত করতে না পারায় ডিএনএ সংগ্রহ করি। বৃহষ্পতিবার তৃপ্তির পিতা পরিতোষ ধর ও তার পরিবারের লোকজন আসেন।

লাশের কাপড় দেখে পরিবারের লোকজন তাকে সনাক্ত করে। তারা সুনামগঞ্জ থেকে লাশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, তৃপ্তির বাবার দায়ের করা মামলায় স্বামী রিংকু ধরকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্যের কারণে তৃপ্তি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।