শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চারখাই ত্রিমুখে ‘শহীদ নাহিদ চত্বর’র উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   কমলগঞ্জের ধলই চা বাগানে মস্তকবিহিন নারীর লাশ উদ্ধার  » «   ওসমানীনগরে বাস চাপায় নিহত ২ : আহত ২  » «   হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশনের ৫০ বছর পূতি উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত  » «   জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে ট্রাফিক চত্বর জরুরী  » «   সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন পালিত  » «   সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবিতে প্রতিবাদ বন্ধন  » «   ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজে হামলায় ৮ সেনা নিহত  » «   সন্ত্রাসী হামলায় আহত এসপিআই শিক্ষার্থী নাঈম  » «   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোতোয়ালী থানার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  » «  

ধর্ষণ মামলার বাদীকে হুমকি কাউন্সিলর সালেহ’র বিরুদ্ধে থানায় জিডি



ডেস্ক নিউজ:: ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালেহ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করেছেন একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোছাঃ তানজিমা বেগম।

আজ বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।
উল্লেখ্য যে, মোছা: তানজিমা বেগম এর ছোট বোন গত ১৪/৪/১৮ ইং তারিখে সোহেল মিয়া, পিতা ফজলুল হক ময়না মিয়া, কলাপাড়া ডহর /৪৫ এলাকার বাসিন্দা কর্তৃক পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। উক্ত ঘটনায় মোছা তানজিমা বেগম বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় কাউন্সিলর সালেহ আহমদ এর আপন ছোট মামা সোহেল মিয়া কে একমাত্র আসামী করে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করেন। জিডি নং-2127।  যাহার মামলা নং ৪৯/১৮৮ তারিখ ২২/৪/১৮ ইং।

উক্ত মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় আসামীর প্রভাবশালী মামা ১০নং ওর্য়াড কাউন্সলির মোঃ সালেহ আহমদ চৌধুরী গত ২৫/৪/১৮ ইংরেজী তারিখ রোজ বুধবার রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকার সময় স্বশরীরে ৪/৫ জন অপরিচিত গুণ্ডা-পাণ্ডা নিয়ে ধর্ষণ মামলার বাদী তানজিমা বেগম এর বাসায় এসে তার (কাউন্সিলর) মামা সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বলেন।

উক্ত বিষয়ে মামলার বাদী অপারগতা প্রকাশ করলে কাউন্সিলর সালেহ আহমদ বাদীকে (তানজিমা) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেন এবং দুই দিনের ভিতরে অত্র এলাকা ছেড়ে চলে না গেলে তিনি বাদী ও তার পরিবারকে গুম ও খুনের হুমকি প্রদান করনে। এই অবস্থায় বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

প্রসঙ্গত, মামলার বাদী তানজিমা বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়। তারা দীর্ঘ দিন ধরে কলাপাড়া এলাকার ফজল মিয়ার কলোনিতে বসবাস করছেন। প্রায় তিন বছর আগে আসামী সোহেল মিয়া ও তার স্ত্রীর অনুরোধে তানজিমা তাহার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ১২ বছর বয়সী ছোট বোনকে সিলেটের ডহর এলাকার বাসিন্দা সোহেল মিয়ার বাসায় ঘরের কাজে সহযোগিতার জন্য শ্রমিক হিসেবে দেন।

বছর দুয়েক পর তার ছোট বোনকে যৌন হয়রানি করতে থাকেন সোহেল মিয়া। এসব কথা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিতে থাকেন সোহেল মিয়া। গত ১৪ই এপ্রিল রাত ১টার দিকে ছোট বোনের কক্ষে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে সোহেল মিয়া একাধিকবার ধর্ষণ করে।

পরদিন তানজিনার বাসায় গিয়ে ধর্ষণের কথা জানায় ওই কিশোরী। তানজিমা তার স্বামী ও ভাইসহ সোহেল মিয়ার বাসায় গিয়ে এই ঘটনার বিচার প্রার্থী হলে উল্টো তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ওই দিনই ধর্ষিতা কিশোরীকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন তানজিমা। ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারে চিকিৎসা শেষে ওই কিশোরী সহ কোতোয়ালি থানায় গিয়ে মামলা করেন তানজিমা বেগম।

তিনি জানান- শুধু একদিন নয় এ ঘটনার আগেও তার বোনকে ধর্ষণ করেছিল সোহেল মিয়া। ২০১৭ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তার বোনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ব্যবস্থাপত্রে প্রমাণ রয়েছে তার বোনের স্বামীর নাম সোহেল। ঠিকানা দেয়া হয়েছে তাহিরপুরের। হাসপাতালে ভর্তি করার আগে তার বোনকে ধর্ষণ করা হয়। ওই সময় তার কিশোরী বোন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সবার অগোচরে সুনামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ধর্ষক সোহেল আহমদ সিজার করিয়ে একটি মৃত সন্তান প্রসব করান। এই ঘটনাটি বাদী তানজিনা জানতেন না। দ্বিতীয় দফা যখন তার বোন ধর্ষণের স্বীকার হয় তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এই ঘটনা ধরা পড়ে। এরপর তার বোনই সব ঘটনা খুলে বলে।