মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

সিলেট সিটি নির্বাচন: আ’লীগের তিন প্রার্থী, কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন



শেখ আব্দুল মজিদ:: আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়লাভে প্রস্তুত সিলেট আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী। তবে কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন এ নিয়ে চলছে জলপনা-কল্পনা। সাবেক মেয়র কামরান নাকি নতুন মূখ আসাদ না আজাদ? এবার দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের সম্ভাবনা আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাবেক মেয়র কামরানসহ তিন প্রার্থী কেউ কাউকে ছাড় দিবেন না বলে জানিয়েছেন।

তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতেও তাঁরা প্রস্তুত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সাত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ের হিসাব-নিকাশ করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ লক্ষে প্রার্থীদের তৎপরতা নিয়েও যাচাই বাচাই করছেন হাইকমান্ড। সিলেটে সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে অনেক আগেই থেকেই। বিভিন্ন কৌশলে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

প্রথম দিকে মেয়র পদের দৌড়ে চারজন থাকলেও ইতিমধ্যে একজন নিরবে সরে গেছেন। বর্তমানে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ২০ নং ওয়ার্ডের তিন বারের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ প্রচারনায় রয়েছেন। অপর আগ্রহী প্রার্থী ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম ছাত্রলীগের প্রতিবাদেও মূখে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

সূত্র মতে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের বিষয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপের ভিত্তিতে কোন্ সিটিতে কাকে মনোনয়ন দিলে ভালো হবে সে বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা ইতোমধ্যে একটি সিটি নির্বাচনী কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হন।

তার এ পরাজয় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে আবারও তাকে মেয়র পদে প্রার্থী করা নিয়ে দ্বিধাদন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রিয় সাবেক মেয়র কামরানকে দিয়ে হারানো পদ পুনরোদ্ধার করা যাবে কি-না এ নিয়ে মতান্তর দেখা দিয়েছে। এছাড়া বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মেয়র পদে না সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করবেন এ নিয়ে গুঞ্জন রটে যায়। যদিও কামরান প্রতিবেদকে জানিয়েছেন দলীয় মনোনয় দিলে মেয়র পদেই নির্বাচন করতে আগ্রহী।

অনেকেই নতুন মূখের প্রত্যাশা করছেন আগামী নির্বাচনে। এরই প্রেক্ষিতে মেয়র পদের প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ আসাদ। এছাড়াও দলীয় বিভিন্ন গ্রুপিং এর কারণে মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন আলোচিত কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ।

আগের তিনটি নির্বাচনেই মেয়র পদে দলের প্রার্থী ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এর মধ্যে দল ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে অনুষ্ঠিত প্রথম দুটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন কামরান। কিন্তু ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন বিএনপির মেয়র প্রাথী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। মেয়র প্রাথীতা প্রসঙ্গে কামরান বলেন, আমি একজন আওয়ামী লীগের কর্মী। দলকে সংসগঠিত করতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আসন্ন নিয়ে বলেন, নগরবাসি আমার আত্মার আত্মীয় যখন আমি সুযোগ পেয়েছি তখনই আমি নগররের মানুষের উন্নয়নে, সুখ, দু:খের সাথি হিসেবে পাশে আছি এবং আজীবন থাকবো। এই নগরের মানুষের সাথে আমার র্দীঘ দিনের সুসর্ম্পক। সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না এ প্রসঙ্গে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, দলীয় হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিটি নির্বাচনে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। আমি সে ভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিটি নির্বাচন নিয়ে আসাদ উদ্দিন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি নির্বাচন করতে সর্ম্পন প্রস্তুত রয়েছি এবং বিভিন্নভাবে সাড়াও পাচ্ছি। দল যদি আমাকে মনোনয় দেয় তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক মেয়র কামরান সর্ম্পকে বলেন, তিনি একখনও মনস্থির করতে পারছেন না, মেয়র পদে নির্বাচন করবেন না কি সংসদ নির্বাচন করবেন। সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের সাথে। তিনি বলেন, আমি সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর তেমনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। আওয়ামী লীগ একটি বিশাল দল, সেখানে অনেক নেতা আছেন তারা নির্বাচন করতে চান। এই দলের নেতারা অন্য কোথায় যান না। সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হবেন কি না প্রশ্নের উত্তরে আজাদ বলেন, আমি একনজন কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে তেমনি দলের জন্য কাজ করছি। তিন বছর পূর্বে থেকে সিটি মেয়র প্রার্থীর জন্য আমি প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিলেটের যুব ও ছাত্রসমাজ আমাকে মেয়র পদে প্রার্থী চায়। তারা দাবি জানিয়েছে আমি যেন প্রধানমন্ত্রী বরাবরে মেয়র প্রার্থীর জন্য মনোনয়ন চাই। সেই লক্ষে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো, দল যদি আমাকে মনোনয় দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে লড়বো।