শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চারখাই ত্রিমুখে ‘শহীদ নাহিদ চত্বর’র উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   কমলগঞ্জের ধলই চা বাগানে মস্তকবিহিন নারীর লাশ উদ্ধার  » «   ওসমানীনগরে বাস চাপায় নিহত ২ : আহত ২  » «   হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশনের ৫০ বছর পূতি উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত  » «   জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে ট্রাফিক চত্বর জরুরী  » «   সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন পালিত  » «   সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবিতে প্রতিবাদ বন্ধন  » «   ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজে হামলায় ৮ সেনা নিহত  » «   সন্ত্রাসী হামলায় আহত এসপিআই শিক্ষার্থী নাঈম  » «   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোতোয়ালী থানার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  » «  

কাউন্সিলর সালেহ’র মামা সোহেল কর্তৃক ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের কিশোরী: থানায় মামলা



সিলেট নগরীর ১০নং ওয়ার্ডের কলাপাড়া ডহর এলাকায় এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে কলাপাড়া ডহর আবাসিক এলাকার সোহেল মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় একই এলাকার মোছা. তানজিমা বেগম বাদী হয়ে গত রবিবার সিলেট কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

২০০০ সালের ৯(১) ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩ মোতাবেক এ মামলায় আসামী করা হয়েছে শেখঘাট কলাপাড়া ডহর আবাসিক এলাকার সোহেল মিয়াকে।

মামলা নং ৪৯/১৮৮। সোহেল মিয়া সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদের আপন ছোট মামা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার স্ত্রীর অনুরোধে বাদী তিন বছর পূর্বে তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে তাহার(বাদীর) আপন ছোট বোনকে সোহেল মিয়ার বাসায় ঘরের কাজে সহযোগিতার জন্য প্রদান করেন। বছর দুয়েক পর ভিকটিমের উপর বাসার কর্তা সোহেল মিয়ার লোলুপ দৃষ্টি পরে। সে বিভিন্নভাবে তাকে যৌন নির্যাতন করতে থাকে। কিন্তু, ভিকটিম লোকলজ্জার ভয়ে ভীত হয়ে বিষয়টি প্রকাশ করত না।

গত ১৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভিকটিম কান্নারত অবস্থায় বাদীর বাসায় আসলে বাদী তাকে জিজ্ঞেস করিলে কি হয়েছে? তখন সে জানায় ১৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির গৃহকর্তা সোহেল মিয়া চুপিসারে তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ঝাপটাইয়া ধরে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর সোহেল মিয়া ভিকটিমকে শাসিয়ে বলে- এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ সুরমা নদীতে ফেলে দেবে। এসময় ভিকটিমের মুখে ঘটনা শুনে বাদীর স্বামী, ভাইসহ আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে সোহেল মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা ঘটনার বিচারপ্রার্থী হলে সে তাদেরকে এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেয়।

এমনকি এ ঘটনায় কোন মামলা মোকদ্দমা না করারও হুমকি দেয়। তখন বাদী ও তার স্বামী মিলে ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান এবং সেখানে তিনদিন ওসিসিতে চিকিৎসা শেষে তারা ১৮ এপ্রিল ভিকটিমকে ছাড়পত্র দেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঘটনা সম্পুর্ণ সাজানো নাটক দাবী করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালেহ আহমদ বলেন- এই ধর্ষণের সাথে অন্য লোক জড়িত। অভিযুক্ত ব্যাক্তি সম্পর্কে তার মামা কি না এমন প্রশ্ন করলে তিনি মোবাইল সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালী থানার ওসি বলেন আসামীকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে এস আই নুরে আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়েছে কিন্তু তাকে পাওয়া যায় নি।

উল্লেখ্য অভিযুক্ত সোহেলের লোলুপ দৃষ্টির শিকার হয়ে প্রায় সাত মাস আগে নির্যাতনের শিকার ভিকটিম ৭মাসের অন্তঃস্বতা হয়ে পড়লে গত ১১/৯/২০১৭ইং তারিখে অভিযুক্ত সোহেল নিজেকে ভিকটিমের স্বামী পরিচয় দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গর্ভপাতে বাধ্য করে।সে সময় ভিকটিমের বয়স যদিও ১৪ হলে হাসপাতালের কাগজ পত্রে ১৮ বছর বলে প্রতারনার আশ্রয় নেয় সোহেল।এরপর ভিকটিম অভিযুক্ত সোহেল কে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে সোহেল উলটো নিজেকে কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ কে মামা পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেয় যে,উল্লেখীত ঘটনা কাউকে বললে তাকে(ভিকটিম) ও তাহার পরিবারকে গুম,খুন করে ফেলবে।

প্রসঙ্গত,এর আগে ২০০৮ সালের জুন মাসে স্হানীয় কাউন্সিলর সালেহ আহমদের বড় মামা মালেক আহমদ সুজাকে নগরীর হিলটাউন হোটেল থেকে মদ,ইয়াবা ও নারীসহ গ্রেফতার করে Rab-৯।