শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ: ওসমানীর সাবেক উপ-পরিচালক ডা. ছালামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা  » «   কান্দিগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা  » «   সাংবাদিকদের সম্মানে ইশা ছাত্র আন্দোলন সিলেট মহানগরীর ইফতার মাহফিল  » «   জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে: দিলদার হোসেন সেলিম  » «   ৬০ পিস ইয়াবা সহ দুই বিক্রেতাকে আটক করেছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ  » «   সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল  » «   কমলগঞ্জে অপরাধ ও মাদকপাচার রোধে বিজিবির সভা, ইফতার মাহফিল  » «   বালাগঞ্জের পল্লীতে যুবক খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের  » «   কমলগঞ্জে দরিদ্র চা শ্রমিক সন্তানকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এইচএসসি ভর্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান  » «   দিরাইয়ে লুটের মামলার আসামী সালা উদ্দিন জেলহাজতে  » «  

মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতি, গুম-খুন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৭ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিতকরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, বেআইনি আটক এবং সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক গুমের ঘটনা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যম এবং বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রমসহ নাগরিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে স্বাধীনতার অভাব, দুর্নীতি, সহিংসতা এবং লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ ও নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী নির্বিশেষ বৈষম্যের বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমতার অপব্যাহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক দায়মুক্তি দেয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা তদন্ত ও বিচারে সরকার সীমিত পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন সুলিভান।

সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উল্লেখ্য করে প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায়। গত ২০১৪ সালের যে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং তার দল আওয়ামী লীগ পুনর্নির্বাচিত হয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ওই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হয়নি বলে জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে নির্বাচন দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে। এতে অর্ধেকের বেশি আসনে কোনো ভোট হয়নি আর বাকিগুলোতে নামমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়ে আরো বলা হয়, নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল চাকরি এবং সরকারি টেন্ডারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুযোগ-সুবিধা পায়। বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে সরকার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতি মামলা দেয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, বাসে আগুন দেয়া এবং বোম নিক্ষেপের ৮৬ মামলা দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের অন্য নেতারা ফৌজাদারি মামলায় জর্জরিত। আওয়ামী লীগ কর্তৃক সন্ত্রাসবাদের তকমা পাওয়া জামায়াতে ইসলামী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিপীড়নে প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না।

সরকারের সমালোচক গণমাধ্যমগুলো সরকারের হুমকির মুখে রয়েছে এবং তাদের আয় কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারের বৈরী আচরণ থেকে বাঁচতে গণমাধ্যমগুলো সেলফ-সেন্সরশিপ মেনে চলছে।

ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থিত সংগঠনগুলো সারা দেশে দায়মুক্তি নিয়ে সহিংসতা এবং ত্রাস সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এর শিকার হয়েছেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশ আয়োজনে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। বিরোধী দলের কর্মসূচি সম্প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু সরকার এটা সীমিত করেছে। ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ক্ষেত্রে মহানগর পুলিশ থেকে আগেই অনুমতি নিতে হয়। মানবধিকার সংগঠনগুলো জানায়, বিরোধী দলগুলোকে সভা-সমাবেশ করতে না দিতে এই অনুমতির আইন ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় সভা-সমাবেশ পণ্ড করতে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা শক্তিপ্রয়োগ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এই স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। পর্যবেক্ষকরা জানান, সরকারের অনুকূলে যায় না এমন রায় দিলে, সংশ্লিষ্ট বিচারকের অন্যত্র বদলির ঝুঁকি থাকে।

এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রসঙ্গে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য মতে, ২০১৭ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে (ক্রসফায়ার) ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। অধিকার নামের আরেকটি সংগঠনে হিসাবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১১৮ জন ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হন।

গুম প্রসঙ্গে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী গুম এবং অপহরণ অব্যাহত রয়েছে। এগুলোর কিছু নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে এবং তদন্তে সরকারকে সীমিত প্রচেষ্টা চালাতে দেখা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ক্ষেত্রে পুলিশ কিছু ব্যক্তিকে আইনি পদক্ষেপ না নিয়েই ছেড়ে দেয়। কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। কিছু ব্যক্তিকে মৃত পাওয়া যায়। কোনো কোনো ব্যক্তিকে আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায় না। আসকের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে ৬০ জনকে গুম করা হয়।