বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লিয়াকত-বাবরে কোনঠাসা জৈন্তাপুর আ’লীগ



স্টাফ রির্পোট:: সিলেটের পর্যটন এলাকা জৈন্তপুর পাথর রাজ্যে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, খুন সহ নানা অভিযোগ এ দু’জনের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছে এলাকার লোকজন।

সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন লিয়াকতের বির্তকিত কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এক পরিচ্ছন্ন ক্লিন ইমেজের অধিকারী সংসদ সদস্য বির্তকিত হয়ে গেছে।

দীর্ঘ দিন থেকে দলের ইমেজকে পূজি করে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলসহ নানান অপকর্মের কারণে লিয়াকত এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। পার্টির লোকজনও তার কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। তার আধিপত্য বিস্তারের কারণে পার্টিতে সম্মেলন নিয়ে কর্মীরা দুশ্চিন্তায়। তার গড়ে তোলা এক শ্রেণীর সাধারণ মানুষ এখন লিয়াকত বাহিনী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি এ বাহিনী গড়তে বিরাট অর্থকড়িও ব্যয় করেন। অনেক নিবেদিত পার্টির কর্মিরা তার মত অর্থকড়ি ব্যয় করতে না পেরে পার্টির মধ্যে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। না ঘরকা, না গাটকা এ অবস্থায় পার্টির আদর্শকে লালন করতে গিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে আছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই দল গোছানোর কাজটি শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলা-উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দলকে নির্বাচনের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

গত ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ৪ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয় এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

কমিটিতে সভাপতি করা হয় আলহাজ মো. আব্দুল্লাহকে। সহসভাপতি কামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন ফয়েজ আহমদ বাবর। এরই মধ্যে সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ মারা গেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

এ আংশিক কমিটি গঠনের পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বাবর দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িয়ে পড়েন। তারা দলীয় কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেননি, তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে কোনো কাজ করেননি। ব্যক্তিস্বার্থে নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন। যা স্থানীয়ভাবে পরবর্তী সময়ে জনমানুষের মুখে মুখে লিয়াকত বাহিনী নামে পরিচিতি লাভ করে।

এলাকার অনেকেই দাবি করেন, লিয়াকত বাহিনী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পাথর কোয়ারিতে খুন, রাহাজানিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এই বাহিনীর কর্মকান্ড স্থানীয় ভাবে দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি মারাক্তক ভাবে ক্ষুণœ করেছে। গত ৩ ডিসেম্বর শ্রীপুর পাথর কোয়ারিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লিয়াকত আলী ও তার অনুসারীদের হাতে এক যুবক খুন হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও ফয়েজ আহমদ বাবর আদালতে হাজিরা দিতে গেয়ে তার বাহিনর লোকজন দুই ফটো সাংবাদিকের ওপর হামলা করে।
এ ঘটনা সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু লিয়াকত অর্থকড়ির মাধ্যমে এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সাংবাদিকদের মনে তূষের আগুন জ¦লছে।

জৈন্তপুর আওয়ামীলীগ নেতা দৌলা খুনের পরের বছরই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন লিয়াকত আলী। তার এ পদে আসীন হওয়া এবং লিয়াকতের মামাশ্বশুর চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার পর বাদীপক্ষের এ সন্দেহ হয় যে, নিজের পথ পরিষ্কার করতেই লিয়াকত হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। লিয়াকত আলী কিছুদিন সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের পিএসর দায়িত্ব পালন করেন। এই সুবাদে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, পরে যুগ্ম সম্পাদক ও সবশেষে দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হন। লিয়াকত আলী একজন দু:শ্চরিত্রবান সুবিধাবাদি মানুষ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে দলের এবং সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।