রবিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
বাঙালি জাতির প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু- অ্যাড. লুৎফুর রহমান  » «   ঘরে ফেরার আন্দোলনে ১৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত  » «   কফি আনানের জীবনাবসান  » «   ভারতের কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ মেয়েদের  » «   ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য–ড. মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার  » «   ফেঞ্চুগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কমিটি অনুমোদন  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল  » «   কাউন্সিলর কয়েস লোদীকে হাউজিং এসেস্ট ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সংবর্ধনা  » «   রোটারী ক্লাব অব সিলেট গ্রীনের বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ  » «   জগন্নাথপুরে আউশ ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসি  » «  

ছাত্র রাজনীতির একাল-সেকাল



রুমেল আহমদ:: ছাত্রজীবন প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে একজন ছাত্র নিজেকে ভবিষ্যৎতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। একজন কৃষক ভাল বীজ বপন করলে যেমন ভাল ফসল আশা করেন।

ঠিক তেমনি ভাবে যে ভাল ছাত্র ভবিষ্যৎতের জন্য নিজেকে যথার্থ করে তৈরী করতে পারে, কর্ম জীবনে সেই কেবল সফলতা অর্জন করতে পারে। একজন মেধাবী ছাত্র আগামী দিনের সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হতে পারে।

বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে কর্মজীবনে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে যারা দেশের সমৃদ্ধির জন্য মানুষের কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই, তেিদরকে ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার ফলে একজন ছাত্র ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি চাকুরী যেখানেই কর্মজীবন শুরু করুক না কেন সেখান থেকেই অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সচেতনতার সাথে দেশের সমৃদ্ধির জন্য জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারেন।

এ জন্য ছাত্রজীবনে প্রত্যেকটা ছাত্রের আদর্শিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। একটা সময় ছিল, যখন ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করত দেশের সকল মেধাবী ছাত্ররা। দেশ ও জনগণের সেবার প্রত্যয়ে সেই সকল তরুণ মেধাবী ছাত্ররা ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতেন। সেই জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতির গৌরাবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে।

বিশেষ করে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ৬দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান, ৭০’র নির্বাচন ও ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন। পরবর্তীতে ৯১’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এদেশের ছাত্র রাজনীতির রয়েছে গৌরবোজ্জল ঐতিহাসিক ভূমিকা।

সে জন্য জনগণের নিকট ছাত্র রাজনীতির আলাদা একটা গ্রহণ যোগ্যতা ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট রাজনীতি আমাদের দেশ ও জনগণের সামনে দেখা দিয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। জনগণ এখন আর আগেড়র মত ছাত্র নেতাদের সম্মান করেন না। ছাত্র রাজনীতিকেও জনগণ সহজভাবে ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে না। জনগণ ছাত্র রাজনীতির প্রতি ভীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছে। এর কারণ কী?
এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তথাকথিত কিছু ছাত্র সংগঠনের অযোগ্য, মেধাহীন, বিবেকহীন নামধারী ছাত্র নেতাদের অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপই এর প্রধান কারণ। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে একজন ছাত্র নিজের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ , নিজেকে সন্ত্রাসী বা চোরাকারবারীর বা অন্যের হাতের ক্রিড়নক হিসেবে গড়ে তুলে। বর্তমানে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছাত্রদের সাধারণ মানুষ আদর্শহীন, চরিত্রহীন, অর্থলোভী, মাস্তান, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, মূর্খ সর্বোপরি সমাজের জন্য মারাত্মক ভাইরাস মানুষ বলে মনে করেন।

কিন্তু এ কথা সত্য এবং ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত যে, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রাথমিক ভীত তৈরি হয়েছে এবং আদর্শবান ছাত্র নেতারাই রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তথাপি সাধারণ মানুষ ছাত্র রাজনীতিকে পছন্দ তো দূরের কথা রীতিমত ঘৃণার চোখে দেখেন। বর্তমানে যে সংগঠনগুলোর আদর্শ রয়েছে ঐতিহাসিক অর্জন রয়েছে। সেই সংগঠনের প্রতিও সাধারণ মেধাবী ছাত্রদের আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না।

কারণ, এ সকল সংগঠনেও আজ গ্রহণের কাল লেগেছে। অযোগ্য, নীতিহীন, প্রতারক, মূর্খ ছাত্রনেতাদের অনৈতিক কার্যকলাপের ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এমন কিছু দুর্বৃত্তের হাতে যাদের বিবেকবোধ নেই। নূূূূন্যতম আদর্শের ধারে-কাছেও নেই। বর্তমানের ছাত্র রাজনীতি মানেই রাজনৈতিক দলগুলোর লেজুর বৃদ্ধি, টেন্ডারবাজি, জমি দখল, কালো টাকার ছড়াছড়ি ও অন্য লোকের নেতৃত্ব দখলের পায়তারা। এই যদি হয় ছাত্র রাজনীতির অবস্থা। তাহলে কিভাবে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি সাধারণ ছাত্রদের আকৃষ্ট করা যাবে।

জনগণই বা কিভাবে ছাত্র রাজনীতিকে সহজভাবে গ্রহণ করবে। আজকে যারা ছাত্র রাজনীতি করছে বা নেতৃত্ব দিচ্ছে ইতিহাস সম্পর্কে তাদের কোনা ধারণাই নেই। কারণ, দীর্ঘ সময় এদেশের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তোফায়েল আহমদ, আব্দুর রাজ্জাক, আ.স.ম আব্দুল কুদ্দুছ মাখন, কাদের সিদ্দিকী সহ সাত বীর শ্রেষ্ঠ ও আরো অনেক ব্যক্তিত্ব কিভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে কতটা ভূমিকা রেখেছিলেন তা বর্তমান ছাত্র সমাজ জানে না।

আমাদের ছাত্ররা আরো জানে না,৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধে কে দেশের পক্ষে কাজ করেছেন, আর কে বিপক্ষে কাজ করেছেন। আর সে জন্য এ প্রজন্মের ছাত্র সমাজ জানে না কে দেশের শত্রু, কে দেশ প্রেমিক, কাকে কতটা সম্মান দেওয়া উচিৎ। সুতরাং ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অসনি সংকেত কোন অস্বাভাবিক ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

আমাদের দেশের তথাকথিত রাজনীতি বিদদের বিবেকহীন অনৈতিক কার্যকলাপের ধারাবাহিক ফল হিসাবেই বর্তমান ছাত্র রাজনীতির এই সংকটাপন্ন অবস্থা। তবে আশার কথা হল এই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনো দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। যদিও তারা সংখ্যায় কম। তথাপি তাদের আদর্শে উদ্বূদ্ধ হয়ে তরুণ মেধাবী ছাত্র সমাহ প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের রক্তচক্ষু, ইতিহাস বিকৃতকারীদের হুস্কার, জঙ্গীদের উথান ইত্যাদি উপেক্ষা করে অনৈতিক কার্যকলাপ ত্যাগ করে প্রগতিশীল হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে।