মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঝুকিপূর্ন বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ না নেয়ায় শত কোটি টাকার ফসল হানির আশঙ্কা



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: দিরাই উপজেলার বরাম হাওরের রোয়ালিয়ার খালে বর্ষার প্রবল ¯স্রোতে নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে বাড়িঘর। ফলে নদীভাঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে নতুন একটি ছোট খাল। এই খালের ভেতর দিয়ে পানি প্রবেশ করে বরাম হাওর তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন ঝুকিপূর্ণ খালের বাঁধ থাকা স্বত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেননি। এমন ঝুকিপূর্ণ বাঁধটি নির্মাণ না করায় স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

এই বাঁধটি নির্মাণে উদ্যোগ না নেয়ায় এ হাওরের শত কোটি টাকার বোর ফসল অরক্ষিত রয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এ নিয়ে হাওর পাড়ের কৃষকদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চরম উৎকন্ঠা। গতকাল সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় কালনী নদী থেকে প্রায় শত গজ উত্তর-পশ্চিমে বোয়ালিয়ার খালের পশ্চিম পাড়ে লন্ডন প্রবাসী রুহুল আমিন মিয়ার বাড়ির সামনে এ খালটির সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প সার্ভেতে এ খালটি নজরে না আসায় এখানে বাঁধ নির্মানের জন্য কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দেয়নি কর্তৃপক্ষ এতে পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে বৃদ্ধি পেলে এ খালে পানি ঢুকে কয়েক ঘণ্টায় তলিয়ে যেতে পারে বরাম হাওরের সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির বোর ফসল। হুমকির মুখে পড়বে বরাম হাওরের সংশ্লিষ্ট ছায়া ও উদগল হাওরের প্রায় ৭ হাজার হেক্টর ফসলী জমি। এ জন্য কৃষকদের শত কোটি টাকার বোর ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রবাসী কয়েক বছর আগে এখানে নতুন বাড়ী তৈরী করেন। বাড়ীর সামনে বাউন্ডারি ও গেইটের পরেও অনেক খালি জায়গা ছিল। নদী ভাঙ্গনে এ সব ভেঙ্গে গত বর্ষায়ই বাড়ির ভিতরে পানি প্রবেশ করে হাওরে পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এখানে বাঁধ নির্মাণ না হলে বরাম হাওর নিরাপদ নয়। এ ছাড়া সরালী তুপার হাসমত আলীর বাড়ীর পশ্চিমে মসজিদের নিকটে রয়েছে অনেক নীচু ডুবন্ত রাস্তা।

নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ না হওয়ার কারণে এ দিকেও বরাম হাওরে পানি ঢুকবে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। এ হাওর পাড়ের চান্দপুর গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার কৃষক কবির মিয়া জানান, সরকার কৃষকদের ফসল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে অনেক হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মান করলেও এ বাঁধ দুটি নির্মাণ না করায় হাওরটি অরক্ষিত রয়েগেল।

আমিরপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কৃষক সামছুল হক বাধঁ দুটি নিমার্ণের জোর দাবী জানান। প্রবাসীর ছোট ভাই বদরুল আমিন বলেন, কিছুদিন পূর্বে এলাকার সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা খালটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দিলেও এখনও কোন কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে ড. জয়া সেনগুপ্তা এমপি বলেন, আমি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টির খুজ নিচ্ছি। দিরাই উপজেলা কাবিটা স্কীম বাস্তবায়ন ও পিআইসি’র মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন ইকবাল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেতে বাঁধ দু’টি না থাকায় এ খানে বাঁধ নির্মাণ হয়নি।

ইতি মধ্যে এমপি মহোদয়ের সাথে এ ব্যাপেরে আলোচনা হয়েছে। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা তিনি জানান। পানি উন্নয়ন বোডের্র শাখা কর্মকর্তা রিপন আলী জানান, আমরা স্থানীয় জন প্রতিনিধির সাথে পরামর্শক্রমে বাঁধ সার্ভে করেছি। নতুন করে হাওর রক্ষায় কোথাও সমস্যার সৃষ্টি হলে উপজেলা কমিটি ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য গত বছর অকাল বন্যায় একে একে সব বাঁধ ভেঙ্গে ফসলহানীর ঘটনায় এখানকার কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে যায়। ফলে সরকার এ বছর কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে হাওর রক্ষা বাঁধে অন্য সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী অর্থ বরাদ্ধ করলেও বাঁধ নিমার্ণে ছিল অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় করনের নানা অভিযোগ।

২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বাধের কাজের সময়সীমা নির্ধারীত থাকলেও এখনও সব বাধেঁর কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় দিরাই উপজেলার ১৩০টি বাঁধের অনুকূলে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রয়েছে। এর মধ্যে বরাম হাওরে ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১৪টি বাঁধ নিমার্ণ হলেও উল্লেখিত বাঁধ দু’টি নিমার্ণ না করায় এ হাওরের কৃষকদের ফসল ঘরে তুলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেল।