বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন চায় ইইউ  » «   ছাতকে পানিতে ডুবে দু’বোনের মৃত্যু  » «   বিমানবন্দরে গণসংবর্ধনা: যুক্তরাজ্যে সংক্ষিপ্ত সফর শেষে দেশে ফিরলেন মিসবাহ সিরাজ  » «   জৈন্তাপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ উপজেলা কমিটির সভা  » «   প্রচন্ড গরমে পুড়ছে জগন্নাথপুর  » «   সিলেটে কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা : আহত তিন  » «   নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা: উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় সিলেট নগরবাসী  » «   এইচএসসি পরীক্ষায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ’র ধারাবাহিক সাফল্য  » «   কামরানের নৌকার সমর্থনে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সভা  » «   আদালতপাড়া ও আখালীয়া এলাকায় টেবিল ঘড়ির সমর্থনে গণসংযোগ  » «  

জগন্নাথপুরে অসহায় শ্রমিক পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ



মো.শাহজাহান মিয়া, জগন্নাথপুর:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে এক অসহায় শ্রমিক পরিবারকে মারপিটসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামে। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

জানাগেছে, বাড়ির জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর গ্রামের মিনিবাস বাস চালক বিকাশ রায় বিকু ও প্রতিবেশি আত্মীয় সীতেশ রায়ের লোকজনের মধ্যে বিরোধ এবং মামলা মোকদ্দমা চলছে। এরই জের ধরে গাড়ি চালক বিকু ও তার বৃদ্ধা মাকে মারপিট করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিত পরিবার।

সরজমিনে দেখা যায়, চালক বিকুর ভাঙ্গাচোরা ঘর রয়েছে। মানবেতর জীবন-যাপন করছে অসহায় শ্রমিক পরিবার।

এ সময় চালক বিকুর বৃদ্ধা মা বিন্দু রাণী রায় বলেন, এ ঘর মেরামত কাজ করতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষ। পুলিশ দিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছে। বারবার পুলিশ এসে আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দেয়। যে কোন সময় ঘর ভেঙে পড়ে যাবে। আমাদের টয়লেট বসাতে দেয়া হচ্ছে না। টয়লেট না থাকায় খুব কষ্ট পাচ্ছি।

এ ব্যাপারে সীতেশ রায় বলেন, বাড়ি জগন্নাথপুর মৌজার জে এল নং ৪৪ সাবেক দাগ নং ১১২৮ ও ১১৩০, খতিয়ান নং ৩৮৮/৬ এর ৩১ শতক বাড়ি রকম জায়গা ১৯৬৯ সালে আমার শ্বশুর কামিনী রায় বিকুর বাবা সুকেন্দ্র রায় ওরফে বকুল রায়ের কাছ থেকে খরিদ করেন। ১৯৮০ সালে আমার শ্বশুর কামিনী রায়ের কাছ থেকে আমি খরিদ করি। তারা আমাদের আত্মীয় হওয়ায় বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলাম।

এখন তারা বাড়ির মালিকানা দাবি করে বসেছে। তাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে আদালতে উচ্ছেদ মামলা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে এখন কোন দলিলপত্র নেই, আদালতে জমা আছে। বর্ধিত না করে ঘর বানাতে আমার কোন আপত্তি নেই।

জানতে চাইলে গাড়ি চালক বিকাশ রায় বিকু বলেন, আমার বাবা কারো কাছে বাড়ি বিক্রি করেননি। তারা আমাদের আত্মীয় হওয়ায় বাবায় তাদেরকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জাল দলিল সৃজন করে এখন মালিকানা দাবি করছে। তাদের জাল দলিল বাতিলের জন্য আদালতে মামলা চলছে। বর্তমানে আমাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানী করছে। আমাকে ও আমার বৃদ্ধা মাকে তারা মারপিট করেছে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোন বিচার পাইনি। এখন আমার ভাঙ্গা ঘর নির্মাণ করতে তারা বাধা দেয়।

পুলিশ দিয়ে হয়রানী করছে। আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিপক্ষের নির্যাতন ও হয়রানীর ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। জানতে চাইলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জগন্নাথপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র শফিকুল হক বলেন, অসহায় বিকু পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও সীতেশ পক্ষের অসহযোগিতার কারণে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে পারিনি।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহ নিজামুল করিম ও মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের সমিতির গাড়ি চালক অসহায় বিকু পরিবারকে অযথা নির্যাতন ও হয়রানী বন্ধ করতে আমরা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, বাড়ির জায়গা নিয়ে তাদের মধ্যে কোর্টে মামলা চলছে। কোর্টের অর্ডার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।