মঙ্গলবার, ২১ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবে আজ ৯ জিলহজ পালিত হলো পবিত্র হজ  » «   কমলগঞ্জে পরকিয়ার জেরে পাষন্ড স্বামীর হাতে প্রাণ গেল এক গৃহবধুর !  » «   বিয়ানীবাজার থানায় বিত্তশালীদের মামলা রেকর্ড, দিনমজুরের মা লাঞ্ছিত!  » «   ধর্মপাশায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  » «   সেই গোপন অস্ত্র প্রদর্শণ করল হিজবুল্লাহ  » «   জগন্নাথপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার  » «   ওসমানীনগরে পশু জবাই করার সরঞ্জামাদী তৈরীতে ব্যস্ত কামারিরা  » «   হা‌সিনা সরকার আবারো বিনা ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার নীল নকসা করছে: মিজানুর রহমান চৌধুরী  » «   জগন্নাথপুরে নব-বধূকে এসিড খাইয়ে হত্যার চেষ্টা  » «   সিলেটের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু নামাচ্ছে চোরাকারবারী সিন্ডিকেট  » «  

সিলেটে শ্যালিকাকে ধর্ষনের দায়ে দুলাভাইর যাবজ্জীবন



স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেটের জৈন্তাপুরে শ্যালিকাকে ধর্ষনের দায়েরকৃত মামলায় দুলাভাইকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে আরো ২টি ধারায় ১৫ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত ও শিশু আদালতের বিচারক এ. এম. জুলফিকার হায়াত এ রায় প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীর নাম- জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিন (৩২)। সে জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর কাঞ্জর গ্রামের কুতুব আলীর পুত্র। রায় ঘোষনার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বাঘেরখাল দলইপাড়ার মো: মুকবুল আলী তার তৃতীয় মেয়েকে জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়। জমিরের পরিবারে একটি ছেলেও রয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে জমির তার স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে তার শ্বশুড়বাড়িতে বেড়াতে যায়। শ্বশুড়বাড়িতে ৩ দিন থাকার পর জমির ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর তার বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শ্যালিকাকে (১০) তার বাড়িতে নিয়ে আসে।

২দিন পর শ্যালিকা তার বাড়িতে থাকার পর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার জমির আলী বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে তার বাড়ি থেকে শ্বশুড়বাড়িতে শ্যালিকাকে পৌছে দেয়ার কথা বলে বের হয়। ওইদিন জমির আলী শ্বশুড়বাড়িতে তাকে পৌছে না দিয়ে সিলেটের একটি হোটেলে নিয়ে শ্যালিকাকে জোরপূর্বক রাতভর ধর্ষন করে। পরদিন সকালে জমির শ্যালিকাকে জৈন্তাপুরের একটি বাসে তুলে দেয় এবং সে তার বাড়ি পৌছে ধর্ষনের বিষয়টি তার পরিবারকে বলে।

পরে তার পিতা তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা মো: মুকবুল আলী বাদি হয়ে জৈন্তাপুর থানায় একমাত্র জামাতা জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনকে আসামী করে জৈন্তাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-১১ (২০-১০-২০১৫)। শিশু মামলার নং- ১৫/১৬।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারী জৈন্তাপুর থানার এসআই (নি:) মো: আবদুল মান্নান একমাত্র আসামী জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং একই বছরের ২ জুন থেকে আদালত এ মামলার বিচারকায্য শুরু করেন।
দীর্ঘ শুনানী ও ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামী জমির আলী উরফে নিজাম উদ্দিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে যাবজ্জীবন ও ৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং পেনাল কোড এর ৩২৩ ধারায় তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও আসামীপক্ষে এডভোকেট মো: আনছারুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।