সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
উন্নতির জন্য সংযমের বিকল্প নেই: ইমরান আহমদ এমপি  » «   সিলেট কুমারগাওঁ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় দুই যুবলীগ নেতা আহত  » «   রোজার মাসে বলছি, কাউকে ছাড়ব না: মান্না  » «   কোম্পানীগঞ্জ ইমরান আহমদ কারিগরি কলেজের অনুমোদন  » «   সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদের কাপড় দিলো রাইজ স্কুল  » «   উপশহরে সুরক্ষিত ফ্লাটে দুর্ধর্ষ চুরি : অর্ধ কোটি টাকা মালামাল লুট  » «   সিমান্তিকের কিশোরী সমাবেশ অনুষ্ঠিত  » «   ফের একতরফা নির্বাচন করতে প্রধানমন্ত্রী ভারতের শরণাপন্ন  » «   খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে ব্যারিস্টার সালামে ইফতার মাহফিলে মানুষের ঢল  » «   কমলগঞ্জে গাঁজা বিক্রয়কালে পিতা-পুত্র আটক  » «  

শত চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হবিগঞ্জের মানুষের ভালবাসা থেকে আমাকে বঞ্চিত করা যাবে না-মেয়র জি কে গউছ



ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- শত চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করে হবিগঞ্জের মানুষের ভালবাসা থেকে আমাকে বঞ্চিত করা যাবে না। তিনি গতকাৃল সোমবার সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
মেয়র জি কে গউছ বলেন- দীর্ঘ ৩৬ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে যখন যেভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তখনই হবিগঞ্জবাসীর জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি।
২০০৪ সালে প্রথম হবিগঞ্জ পৌরসভার চেযারম্যান নির্বাচিত হয়েই হবিগঞ্জের পরিত্যক্ত রেলটেকের উপর বাইপাস সড়ক, এম সাইফুর রহমান টাউন হল, খোয়াই নদীর উপর নির্মিত এম সাইফুর রহমান ব্রীজ, কিবরিয়া ব্রীজ, এম এ রব ব্রীজ, পানির ট্রিটম্যান্ট প্লান্ট, শহরের রাস্তা প্রসস্থকরণ, রোড ডিভাইডার, পৌর বাস টার্মিনাল ও পানির পোয়ারা নির্মাণসহ কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি। তারই প্রতিদান হিসাবে হবিগঞ্জের সম্মানীত নাগরিকবৃন্দ শত বাঁধা ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ২০১১ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমাকে ২য় বারের মত মেয়র নির্বাচিত করেন। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার এই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্র দখলের পরও আওয়ামীলীগ প্রার্থীর প্রায় দ্বিগুন ভোট পেয়েছি।
২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে শ্রদ্ধেয় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া সাহেব হত্যা মামলায় মিথ্যা, ভিত্তিহীন কাল্পনিক অভিযোগে আসামী বানিয়ে আমাকে কারাগারে বন্দি রেখেও পৌরবাসীর হৃদয় থেকে আমাকে দুরে রাখা সম্ভব হয়নি। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে আমার কোন এজেন্ট না থাকার পরও সম্মানীত ভোটারগণ আমাকে হাজার হাজার ভোটের ব্যবধানে টানা ৩ বারের মত মেয়র নির্বাচিত করে হবিগঞ্জ পৌরবাসীর খেদমত করার সুযোগ দিয়েছেন। এ জন্য আমৃত্যু হবিগঞ্জবাসীর নিকট আমি ঋণী হয়ে থাকবো।
হবিগঞ্জের মানুষ অত্যন্ত রাজনৈতিক সচেতন। আমরা কে কোথায় জন্ম গ্রহন করেছি, কে কোথায় বড় হয়েছি, তা সবই হবিগঞ্জের মানুষ জানেন। এটা বুঝানোর জন্য মিথ্যাচারের কোন প্রয়োজন নেই।
জনসেবা একটি মহৎ কাজ। যারা রাজনীতি করেন তারা উন্নত রুচির অধিকারী। তাদের কাছ থেকে মানুষ ভাল জিনিস প্রত্যাশা করে। রাজনীতিতে যখনই যারা নোংরামি করেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, ইতিহাস কোন দিন তাদের ক্ষমা করে নাই। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত ১/১১ সময় যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন তারা আজ ইতিহাসের আস্তাকুরে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন।
প্রশাসনে যারা কর্মরত আছেন তারা সকলই দলকানা নন। তাদের মধ্যে দক্ষ, সৎ, নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক অনেকই কর্মরত আছেন। আমরা কে কি করছি, তারা যথা সাধ্য আমাদের আমলনামা লিপিবদ্ধ করছেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছেন।
আমরা কারা সরকারী সম্পত্তি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ২টি হেলিপ্যাডের ইট চুরি, স্কুলের সম্পত্তি, বিভিন্ন বাসাবাড়ি দখল করছি, নামে বেনামে, দেশে বিদেশে, সম্পদের পাহাড় গড়ছি, তা সবই সরকারী বিভিন্ন এজেন্সী অবহিত আছে। সময় আসলেই তা জনসম্মুখে প্রকাশ হবে, ইনশাআল্লাহ।
রাজনৈকি প্রতিপক্ষকে কখনো ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে, কখনো মনোনীত পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে জীবননাশের চেষ্টা করে রাজনৈতিক সমাধান কোন দিন হয়নি, হবেও না। হবিগঞ্জের মানুষের হৃদয়ের স্পন্ধন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া কে হত্যা করে, অন্য নিরপরাধ মানুষদের কারাগারে পাঠিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। শাহ এএমএস কিবরিয়া ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকীতে তার একমাত্র ছেলে রেজা কিবরিয়া সাহেবের বিবৃতি থেকেই বেরিয়ে এসেছে, কারা কিবরিয়া কে হত্যা করে সুবিধা ভোগ করছেন। সময়ই বলে দিবে কারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ১৩ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে তার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন “১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আমার বাবা প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার পাইনি। এই হত্যাকান্ডের পিছনে কারা জড়িত, কাদের মদদ ছিল তা এখনও বেড়িয়ে আসেনি। এ থেকে সবাই অনুমান করতে পারেন এই হত্যাকান্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কারা সুবিধা পেয়েছে। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই বলে আসছি উপরোক্ত বিষয়গুলো প্রমাণ করার জন্য এবং এখন তা না হওয়াতে দেশবাসীর সাথে সাথে কিবরিয়া পরিবারও হতাশ।”
বিগত ১/১১ সরকার আমাকে নাজেহাল করার উদ্দেশ্যেই আমার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল। যা পরবর্তিতে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানেও হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ঢাকাতে আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে। যদি আমার প্রতি ন্যায় বিচার করা হয়, তাহলে এই মামলাগুলো থেকেও আমি বেখসুর খালাস পাবো, ইনশাআল্লাহ।
হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিগত তিন টার্ম ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন করেছি। চেকের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন কাজের টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু বিভিন্ন সময় আমার নামে মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক মামলা দায়ের করা হলেও পৌরসভার এক পয়সা তচরোপ করেছি বা আত্মসাত করেছি, এমন অভিযোগ আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রের কোন এজেন্সী আনতে পারে নাই এবং আনতে পারবেও না, ইনশাআল্লাহ।
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা হয়েছে আমাকে যেন যথাযত মূল্যায়ন না করা হয়। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে। কারণ যাদেরকে বাঁধা দেয়া হয়েছে তাদের হৃদয়ে রক্তকরণ হয়েছে। তারা নীরবে চোখের পানি ফেলেছেন। মামলা হামলার ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলতে সাহস পাননি। বিভিন্ন সামাজিক, পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যখনই অংশ গ্রহন করছি, মানুষের বাধভাঙ্গা স্রোত এসে যখন আমাকে আলিঙ্গণ করে, তখনই বুঝা যায় আমার উপর যেসব অন্যায় অত্যাচার জুলুম করা হয়েছে মানুষ তার ভালবাসা দিয়ে আমাকে শান্তনা যোগায়। একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই আমার উপর জুলুম, নির্যাতন, মামলা হামলা, মিথ্যা অপপ্রচার ও আমার
শ্রদ্ধা মরহুম বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের গালাগালির জবাব হবিগঞ্জবাসী দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
আমি বিশ্বাস করি, আমার জীবনে যতবারই চক্রান্তের শিকার হয়েছি হবিগঞ্জের মানুষের ভালবাসা ও মহান আল্লাহর রহমতে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানেও যা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, হবিগঞ্জবাসীর কাছ থেকে আমাকে দুরে রাখা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন হবিগঞ্জ কারাগারে আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই দিনই আমার মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হবিগঞ্জের মানুষের দোয়া ও মহান আল্লাহর রহমতে আমি নতুন জীবন পেয়েছি। তাই যতদিন বেচে থাকবো, যত বাধাই আসুক, আমি হবিগঞ্জবাসীর সেবা করে যাবো-ইনশাআল্লাহ। আমি সকলের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করছি। সেই সাথে আমার বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি সবিনয় অনুরোধ করছি।
পরিশেষে বলতে চাই, দুনিয়ার জীবন ক্ষনস্থায়ী, আর আখেরাত চিরস্থায়ী। আমাকে মিথ্যা মামলায় আসামী বানিয়ে ৭শ ৩৯ দিন কারাবন্দি করে অন্তত ১০৫টি পবিত্র জুম্মাহর নামাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাকে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ ও নবী করিম (দ.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ২টি বছর জামায়াতের সাথে ওয়াক্তের নামাজ ও পবিত্র রমজান মাসে জামায়াতের সাথে খতমে তারাবির নামাজ আদায় করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারপরও কারো প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই, অভিমান নেই। সব কিছুর বিচারের ভার আমি মহান আল্লাহর দরবারে সোর্পদ করেছি।