রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ওয়াজের নামে আ্ওয়াজে ভীত সন্ত্রস্ত্র সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষ



নিয়ন্ত্রনে কার্যকর উদ্যোগের দাবী

স্টাফ রিপোর্ট:: ওয়াজের নামে আওয়াজের শব্দ সন্ত্রাসে ভীতসন্ত্রস্ত্র সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষ। বাধাহীন এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিরব প্রচারনা এখন মুখে মুখে। শুধু ধর্মপ্রাণ সাধারন মানুষ নয়, বিবেকবান ধর্মীয় জ্ঞানীরাও চলমান অবস্থার নিয়ন্ত্রনের কথা বলতে শুরু করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরছেন তাদের পরিশীলিত মতামত। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কতটুকু ভাবিত ইসলামিক নেতারা তাই এখন প্রশ্ন। সম্প্রতি দেশের খ্যাতিমান মুফতি ম্ওালানা দিল্ওয়ার হোসেন সিলেটের কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে এক প্রশ্নের জবাবে উত্তরে বলেন, ‘উপস্থিতির আলোকে শব্দ করে বয়ান দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

এর বাইরে আ্ওয়াজ তুলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি ইসলাম সমর্থন করে না।’ ওয়াজ বা বয়ান নিয়ে কারো আপত্তি নেই আপত্তি শুধু প্রচলিত ওয়াজের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নিয়ে। সেকারনে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ ওয়াজের আ্ওয়াজ বন্ধের দাবী তাদের। ইসলামিক পন্ডিতগন, ইসলামের আলোকে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ভূমিকা রাখতে পারেন বলেন অনেকে অভিমত। কারন যত্রতত্র ওয়াজের নামে পরিবেশ প্রতিবেশ এখন হুমকির মুখে।

সেই সাথে ধর্মের আবেদন শুধু নয়, ্ওয়ায়েজগনের ইমেজ এখন সংকটে। মনে হচ্ছে সমসাময়িক পরিস্থিতি অনুধাবনে তারা বেগাফিল বা অযোগ্য। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন ্‘কমনসেন্স’ বলতে যদি কিছু থাকে, তাহলে আয়োজকদের চেয়ে ্ওয়ায়েজগন এ ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্যোগেই ভুমিকা রাখতে প্রত্যায়ী হতেন। নচেৎ তাদের কারনেই ধর্মের চিরায়িত স্বর্গীয় মহিমা বঞ্চিত হবেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ।

বৃহত্তর সিলেটে শীতের মৌসুমে মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ওয়াজ নিকট অতীতেও উৎসবমুখর ছিল। ধর্মীয় এ সভাগুলোতে দুর দূরান্ত থেকে শরিক হ্ওয়া পূন্যের কাজ মনে করতো মানুষ । দল বেঁধে মানুষ সমবেত হতো মাহফিল গুলোতে। স্থানীয় জাতীয় ধর্মীয় বক্তরা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করতেন। সেই বয়ানের কথাগুলো মানুষে হৃদয়ে ঝংকার তুলে হেদায়তের পাথেয় হত। একই সাথে দানশীল মানুষকে উদ্বুত করা হত দ্বীনি প্রতিষ্টানে দান খয়রাতে জন্য।

তাদের মুক্তহস্তের দানই ছিল মাদ্রাসাগুলোর অথনীতির চালিকাশক্তি। দ্বীনের এ মেহনতে মানুষের অংশগ্রহন ছিল স্বত:র্স্ফূত। ওয়াজের বক্তাগনের প্রতিও মানুষের ছিল অগাধ, ভক্তি বিশ্বাস। কিন্তু সমাজ সভ্যতার দ্রুত উখান পতনে ওয়াজ ও ওয়াজ ব্যবস্থার সার্বজনীন রূপ এখন আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় বিশ্বাস আদেশে মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশনা। কিন্তু তার বদলে ধর্মপ্রাণ মানুষ অনৈক্য ও বিশ্বাস নির্ভর বিভক্তিতে ফতুর তারা। এ বিভক্তির রূপকার হয়ে উঠেছেন স্বয়ং পরিচিত ধর্মীয় ্ওয়ায়েজ বা আলেম ্ওলামাগন। তারা নিজেদের মত পথকে অটুট রাখতে গিয়ে ধর্মীয় বিধিবদ্ধতার উপো করে দলাদলির মাধ্যমে নিজদের আ্ওয়াজ তুলে ধরতে চাইছেন বিভক্তির মধ্যে দিয়ে। তাদের পথের পথিকও্ এখন তাদের অনুসারী অনুগামীরা।

তাই সর্বত্র ঐক্যের সার্বজনীতার বিপরীতে ভাংগনের সুর। বাস্তবতা এমন পর্যায়ে হল্ওে উত্তরনে নেই কোন ভূমিকা ্ওয়ায়েজগন বা ধর্মীয় পন্ডিতদের। সাধারন ধর্মপ্রাণ যুবকরা নিজ নিজ মতপথকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আয়োজক হয়ে পছন্দের হুজুরকে ্ওয়ায়েজ হিসাবে আমন্ত্রন জানাচ্ছে। তারপর যেমন খুশি তেমন ্ওয়াজ করে তৃপ্ত হচ্ছে। তাদের প্রতিপ আল্লাহ বিরোধী শক্তি বা শয়তানের বদলে, নিজ এলাকা পাড়া মহল্লার অন্য আয়োজক। ঠেক্কা বা পাল্লা এভাবে চলছে ্ওয়াজের নামে। ্ওয়াজের বয়ানের জের ধরে ফিতনা ফ্যাসাদের সৃষ্টি হচ্ছে পারস্পরিক। মুমিন মুসলমানের সর্ম্পক রার গুরুত্ববহ নির্দেশনা বাদ দিয়ে হিংসা প্রতিহিংসার কালোছায়া দৃড় হচ্ছে মানুষের মধ্যে
এছাড়া ্ওয়াজের নামে টাকা তুলার মহোৎসব দেখা যায়, মানুষ বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে কোনো না কোন অবলম্বনের সূত্র ধরে। ্ওয়াজে মাহফিলে এসে আয়োজকদের খুশি করতে নানা সুরে তালে কথার মালা সাজাচ্ছেন। কথার খুঁচায় বিদ্ধ করছেন সহযোগি কোন আলেমকে। আমিত্ব আর পান্ডিত্যের ফুলঝুরি দিয়ে তুলোধুনো করছেন একে অপরকে। এ যেন এখন বেশিরভাগ ্ওয়াজের নমূনা। তাদের বয়ানে নেই ইসলামের প্রাত্যাহিক জীবন ব্যবস্থার ভাবনা। সামাজিক অনাচার অবিচার অবহেলা নিয়ে মুখ বন্ধ। কেচ্ছা কাহিনী সর্বস্ব ্ওয়াজই যেন তাদের মূলমন্ত্র। দুনিয়ার চলমান ঘটনা প্রবাহ নিয়ে তাদের দায় দায়িত্ব নেই। দুনিয়ার নিপীড়িত নির্যাতিত মুসলমানদের করুন আর্তি তাদের বয়ানের অংশ হয় না।

রাজনীতি অর্থনীতি মুকোবেলায় কর্তব্যকর্ম নিয়্ওে দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত। পুঁথির বয়ানে বয়ানে রাত হয়ে যায় দিন। রাতকে দিন করতে মাইক হয়ে উঠে অস্ত্র। সেই অস্ত্রের ধ্বনি প্রতিধ্বনি কতটুকু ইসলাম সম্মত সেই বিষয়টিও তাদের বিবেচনাহীন। ্ওয়াজ মাহফিলের আশপাশে অমুলসলিম, অসুস্থ নারী-পুরুষ-শিশুর কষ্ট যন্ত্রনা তাদের বিবেককে বির্দীণ করে না। অথচ ইসলামে এসবের গুরুত্ব অত্যাধিক। স্থান কাল পাত্র ভেদেই ইসলামের দ্ওায়াত হেকমত ্ও উত্তমভাবে প্রদানের তাগিদ স্বয়ং আল্লাহর। বাস্তবিক বিবেচনায় এর কোন বালাই নেই। বিষয়টি তো উপলব্ধিতে ন্ওেয়ার কথা ধর্মের ্ওয়ায়েজ ও ইসলামি পন্ডিতদের। হক কথার স্থানে হক ভঙ্গের অশুভ এ তৎপরতায় ধর্মপ্রাণ মানুষভীতশ্রদ্ধ। লোকালয় সংলগ্ন মাঠে উপর্যপুরি ্ওয়াজের নামে আ্ওয়াজ শব্দ তারা দিকবিদকি, হতভম্ব। বয়ানের কল্যানের পরিবর্ততে তাদের মুখ থেকে ফসকে বের হচ্ছে নেতিবাচক নানা কথা। তারা মনে করে, এরকম শব্দ আ্ওয়াজের বিরুদ্ধে মানবকল্যানের স্বার্থে ইসলামিক পন্ডিতরাই ভূমিকরা রাখার দাবী। এর বদলেই তারাই তা লালন করছেন, প্রকাশ্যে নির্ভাবনা। তাহলে ধর্মের মর্মকথা তাদের কাছে কতটুকুই বা নিরাপদ ও আন্তরিক। আল্লাহভীরুতাই যদি হয় মুমিনের বৈশিষ্ট, তাহলে এমন কর্মকান্ডে মুমিনের লন হতে পারে না। তাহলে কার বয়ান কে করছে ? এটাই এখন মূখ্য। সেকারনে সাধারন মুসলমানদের দাবী, ্ওয়াজের লাগামীহীন তৎপরতা রায় এগিয়ে আসতে হবে ইসলামিক স্কলারদের। যেমননি রয়েছে ইসলামের নীতিতে।
এব্যাপারে যুব জমিয়ত কেন্দ্রিয় নেতা ম্ওালানা রুহুল আমীন নগরী বলেন, ইসলাম প্রচারে নির্দেশান রয়েছে, এ নির্দেশনা উপাে করে দ্বীন প্রচার অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। তাই দ্রুত সর্তক হ্ওয়া দরকার।
হযরত শাহপরান (র.) দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষক ম্ওালানা সুলেমান নুমান বলেন, ্ওয়াজ ধর্মের নামে প্রচলিত সামাজিক আদি ধারনা। কিন্তু ইসলামের আবেদন সামগ্রিক। অন্যের মৌলিক অধিকার অযাচিতভাবে হরন করে ধর্মের প্রচার ইসলামে নেই। তাই বয়ান বা ্ওয়াজ সীমিত পরিসরে, ইনডোরে করাই যুক্তিযুক্ত। পারিপার্শ্বিক অবস্থা অবশ্যই প্রকৃত দ্বীনদার বিবেচনায় না নিলে, তা ধর্ম অবমানানর শামিল হবে।
জামেয়া ইসলামিয়া কাজির বাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস শাহ মমশাহ, সময় এখন ইসলামি জাতীয় পন্ডিতদের এব্যাপারে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহন। প্রচলিত ্ওয়াজ ব্যবস্থা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকার বদলে দুরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অমুসলিমদের মধ্যে নেতিবাচক ধারনাও তৈরী হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ আন-জুমানে আল ইসলাহ কেন্দ্রিয় মহাসচিব ও ইসলামিক চিন্তাবিদ অধ্য এ.কে.এম মনোওর আলী বলেন, সময়জ্ঞান ও পারিপার্শ্বিকতা মাথায় রেখে ্ওয়াজের ব্যবস্থা করা দরকার। কারন ওয়াজের নামে আপামর মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি ইসলাম সমর্থন করে না, এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিজ্ঞদের ঐক্যমত হ্ওয়া জরুরী।