মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শাহ আরেফিন টিলায় মাটিচাঁপায় ফের তিন শ্রমিক নিহত



বিশেষ প্রতিনিধি:: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের আরেক মৃত্যুপুরী শাহ আরেফিন টিলায় পাথর উক্তোলন করতে গিয়ে ফের টিলার মাটিধ্বসে চাঁপা পড়ে বুধবার সুনামগঞ্জের তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।’ গত রবিবার রাতে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের কালাইরবাগ নামের আরেক টিলায় পাথর উক্তোলন করতে গিয়ে সুনামগঞ্জের ৫ শ্রুমক নিহত হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার টিলার মাটিধ্বসে তিন শ্রমিক নিহত হওয়ার পাশাপাশী আরো কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ শ্রমিক আহত হয়েছেন।’ নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ২ শ্রমিক।

নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জিবদারা গ্রামের মৃত নজির মিয়ার ছেলে কাঁচা মিয়া(৫৫), একই গ্রামের মৃত কবির মিয়ার ছেলে আফাজ উদ্দিন (৪০) ও নোয়াখালী গ্রামের আবদুর নুরের ছেলে জাহির হোসেন(৩৫)। ’ আহত শ্রমিকদের মধ্যে আবদুল গণি (৫৫), শাহ আলম (২৪), কুদরত আলী (২৭)

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা গেছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের শাহ আরেফিন টিলার আবদুস শুক্কুরের ছেলে বশর, ছনবাড়ির আশ্রব আলীর ছেলে নুরুল ও চিকাডহর গ্রামের বুহল আলোচিত পাথর খেকো আঞ্জু মিয়া গং অবৈধভাবে দখলকৃত শাহ আরেফিন টিলায় তাদের পাথর কোয়ারিতে বুধবার সকালে অপরিকল্পিত ভাবে পাথর উক্তোলনের জন্য শতাধিক শ্রমিক ও সর্দারকে কোয়ারিতে নামায়।

’ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কোয়ারির উপরের মাটিধ্বসে মাটিচাঁপা পড়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হয়।’ এক পর্যায়ে কৌশলে বিষয়টি ধামাচাঁপা দিতে ওই এলাকায় প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে দিনভর এমন গুজব রটিয়ে টিলা এলাকা থেকে সাধারন লোকজন অন্যান্য কোয়ারির শ্রমিক, সর্দারদের সরিয়ে দেয়া হয়।’ কিন্তু হতাহত ও শ্রমিক মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ শাহ আরেফিন টিলায় গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী টিমের সহায়তায় বিকেলে পাথর শ্রমিক কাঁচা মিয়া ও রাতে আফাজ উদ্দিন এবং জাহির হোসেনের লাশ উদ্ধার করে।’

দিনভর গুজব ছড়িয়ে লাশ গুমের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে পাথর খেকো চক্রের সদস্য সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের শাহআরেফিন টিলার নুর উদ্দিনের ছেলে সামছু ও তার আরেক সহযোগী অবৈধপাথর পরিবাহি ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী সুনামগঞ্জের ছাতকের বাহাদুরপুরের নুরুল ইসলামের ছেলে ওবায়দুল্লাহ। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুধবার দুপুরেই মুঠোফোনে কয়েকজন শ্রমিক তাড়া খেয়ে টিলা থেকে সড়ে এসে গণমাধ্যকে জানান, শাহ আরেফিন টিলায় কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ শ্রমিক মাটিচাঁপায় মারা গেছেন। লাশের সংখ্যা কম দেখাতে ও প্রশাসনিক চাঁপ সামলানোর জন্য ঘটনার পর থেকে কোয়ারি এলাকা থেকে কোয়ারির মালিক পক্ষ কৌশলে আশে পাশের কোয়ারি থেকেও গুজব ছড়িয়ে শ্রমিক ও সর্দারদের তাড়িয়ে দেয়।’
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দিলীপ কান্ত নাথ বুধবার রাত ২টায় জানান, নিহত তিন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, রাত দেড়টায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, হত্যার প্ররোচনা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ যে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের মৃত্যুপুরী ভোলাগঞ্জের কালাইরবাগ পাথর কোয়ারির গর্তে মাটিধ্বসে মাটি চাঁপায় গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় সুনামগঞ্জের ৫ পাথর শ্রমিক নিহত হন।