রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
চারখাই ত্রিমুখে ‘শহীদ নাহিদ চত্বর’র উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   কমলগঞ্জের ধলই চা বাগানে মস্তকবিহিন নারীর লাশ উদ্ধার  » «   ওসমানীনগরে বাস চাপায় নিহত ২ : আহত ২  » «   হাউজিং এস্টেট এসোসিয়েশনের ৫০ বছর পূতি উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত  » «   জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে ট্রাফিক চত্বর জরুরী  » «   সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন পালিত  » «   সিলেটের চেঙ্গেরখাল নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবিতে প্রতিবাদ বন্ধন  » «   ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজে হামলায় ৮ সেনা নিহত  » «   সন্ত্রাসী হামলায় আহত এসপিআই শিক্ষার্থী নাঈম  » «   ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোতোয়ালী থানার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত  » «  

সন্তান হত্যাকারীদের বিচার চাইলে দুই বাবা



সিলেটে খুন হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ ও তানিমের স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন
ডেস্ক নিউজ:: সিলেট নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে নিহত দুই ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ ও তানিমুল ইসলাম খানের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের স্বজনরা।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩ টায় নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ হত্যা মামলার বাদি ও মিয়াদের পিতা আকুল মিয়া এবং তানিমুল ইসলাম খান হত্যা মামলার বাদি তানিমের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন রাহী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এসময় তানিমের বাবা আওয়ামী লীগ নেতা ইসরাঈল খান ও ভাই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মঈনুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকুল মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন রাহী দু’টি মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা বদলির আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেন- ‘দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ সকল আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

অথচ তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহের পরও কোন সুফল মিলছে না। আসামীরা স্বাভাবিকভাবে দিনযাপন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দলীয় অনুষ্ঠান কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছে তারা। যা আমাদের স্বজন হারানো পরিবারকে মর্মাহত করেছে।’ লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- ‘এভাবে যদি একের পর এক হত্যার পর আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় তবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আমরা অবিলম্বে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে স্থানান্তরের আবেদন জানাচ্ছি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করারও আবেদন জানাচ্ছি।’ মিয়াদের পিতা আকুল মিয়া বলেন- ‘গত বছরের ১৬ অক্টোবর প্রকাশ্যে আমার ছেলেকে খুন করা হয়। পরে আমি শাহপরাণ থানায় ১০ আসামীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরোও কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করি। কিন্তু পুলিশ মাত্র ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে।

প্রায় ৫ মাস হয়ে গেলেও এখনও অন্য আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা প্রভাবশালী নেতাদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে তারা প্রতিদিনই সরব থাকছে। গ্রেফতার করা তো দূরের কথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মূল আসামীদের নাম বাদ দিয়ে মামলার চার্জশিট প্রদানের চেষ্টা করছেন। যার কারণে মূল আসামীরা রেহাই পেয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি।

তাই আমি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর কিংবা নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।’ তানিমের বন্ধু ও ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন রাহী বলেন- ‘গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যারাতে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে আমার বন্ধু তানিমুল ইসলাম খানকে। তানিমকে হারিয়ে ভয়ে তার পিতাসহ পরিবারের স্বজনরা মামলা পর্যন্ত করতে আগ্রহী হননি। পরে আমি মামলা দায়ের করেছি। মামলায় মাত্র ৪ আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ।

অন্যরা এখনও থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মিয়াদের খুনীদের মতো তারাও প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিনই তারা সরব রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছেনা। উল্টো আসামীদের রক্ষা করার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আকুল মিয়া ও রাহী বলেন- ‘আমরা মিয়াদ ও তানিমের খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি করছি। তারা দু’জন টিলাগড়ে আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির বলি হয়েছেন।

নোংরা রাজনীতির বলি যাতে আর কোন মেধাবী তরুণ না হন সে লক্ষ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি করছি। আসামীরা বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছে। যার কারণে আমরা দু’টি পরিবারই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। আমরা আমাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।’