মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

নিউইয়র্কে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের ফান্ডরেজিং



সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ইউএসএ থেকে:: নিউইয়র্কে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের ফান্ডরেজিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় ম্যানহাটানের পলাশ রেষ্টুরেন্টে ইউএসএ বালাদেশী অর্গানাইজেশন ইনকের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ, বাংলা স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।

ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের সিইও ইকবাল আহমেদ মাহবুবের সভাপতিত্বে এ ফান্ডরেজিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর ২ নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট একেএম এমআর ভূইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের সভাপতি বদরুল এইচ খান, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চৌধুরী, মদীনা মসজিদের সভাপতি এডভোকেট নাসির উদ্দিন, কানেকটিকাট আওয়ামীলীগের সভাপতি জুনেদ এ খান, সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ এবং ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ছাতক সমিতির সভাপতি মো: আবদুল খালেক, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ফিরোজ শাহ।
বাংলা স্কুলের সিনিয়ার শিক্ষক কবি আশরাফ হাসান এবং স্কুলের পরিচালক মানিক আহমেদের যৌথ সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফান্ডরেজিং কমিটির সদস্য সচিব আবদুর রহিম সেলিম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফান্ডরেজিং কমিটির আহ্বায়ক মো.মনির উদ্দিন, পরিচালক প্রশাসন মো. তাজুল ইসলাম, বাংলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল রুখসানা রাজ্জাক খান, শিক্ষিকা রুনা লায়লা, সানজিদা খানম, জাকিয়া ইসলাম, মালিহা মান্নান, ব্যবসায়ী দীন ইসলাম শাহীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।
ইউএসএ বালাদেশী অর্গানাইজেশন ইনকের সভাপতি ইকবাল আহমেদ মাহবুব ফান্ডরেজিংকে সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্য সংগঠনের সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি স্কুলের কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এতে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের উন্নয়ন এবং এ প্রজন্মের সন্তানদের বাংলা শিক্ষা প্রসারের জন্য এ ফান্ডরেজিং এর উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনি জানান, বর্তমানে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের কার্যক্রমের মধ্যে শনিবার ও রোববার দুপুর ১২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত এ প্রজন্মের সন্তানদের বাংলা শিক্ষা দেয়া হয়। এছাড়া নতুন আসা ইমিগ্যান্টদের জন্য ইংরেজী শিক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে। আফটার স্কুল শিক্ষা কর্মসুচি চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি জানান, এসব কর্মসূচি পরোপুরি চালুর জন্য বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার ডলার প্রয়োজন। চেষ্টা করেও সিটি থেকে এ সংক্রান্ত কোন ফান্ড এখনো পাওয়া যায়নি। স্কুলের কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে ম্যানহাটান বাংলা সাংস্কৃতিক স্কুলের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশী তরুণ প্রজন্মের বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধনে বাংলা স্কুল নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ প্রজন্মের সন্তানদের বাংলা শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য এ উদ্যোগ ইতিহাস হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা সহজতর হবে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি টিকে থাকবে আমেরিকার জমিনে। বক্তারা এ প্রজন্মের সন্তানদের বাংলা শেখার জন্য নিজ পরিবার থেকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘরে সন্তানদের সাথে সব সময় বাংলায় কথা বলার চর্চা রাখতে হবে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা সকল অভিভাবকেরই কর্তব্য বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।