সোমবার, ২০ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

রাসূলের পদ্ধতি ও আচরণ আমাদের অনুসরণ করতে হবে..ফারুক আল হাসানী



নিউজডেস্ক :: মিশরের আল আযহার ইউনিভার্সিটির দাওয়া ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. সায়্যিদ জামাল ফারুক জিবরীল মাহমুদ আল হাসানী বলেছেন, মানুষ, জীবজন্তু ও জড়পদার্থ সকল কিছুর মধ্যে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো দয়া। আল্লাহ তাআলা পরম দয়াবান। প্রিয়নবী (সা.)ও অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় যেমন দয়ালু ছিলেন তেমনি যুদ্ধাবস্থাতেও দয়ালু ছিলেন। যুদ্ধে শিশু হত্যা ও অসহায় বৃদ্ধ নারী পুরুষের প্রতি অসদাচরণ তিনি নিষেধ করেছেন। আমাদের সকলের প্রতি দয়ার ব্যবহার করতে হবে। কেননা দয়ার ব্যবহার ফিতনা ও সন্ত্রাস দূর করতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু চরমন্থী নতুন নতুন পরিভাষা আবিষ্কার করছে।

যার ফলে মানুষের মধ্যে বিভেদ ও রক্তারক্তি বাড়ছে। জেনে রাখা দরকার জঙ্গিবাদ প্রিয়নবী (সা.)-এর শিক্ষাকে কলুষিত করছে। অথচ ইসলাম তা থেকে মুক্ত। তিনি হাদীসে নববীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞানের অন্বেষণে কোনো পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। এখানে জ্ঞান বলতে কেবল কুরআন হাদীস ও ফিকহের জ্ঞান নয় বরং চিকিৎসা, প্রকৌশল, ইতিহাস, ভূগোল ইত্যাদি যে জ্ঞান মানুষের উপকারে আসে তাও অর্ন্তভুক্ত। তবে জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য উচিত হলো তিনি দুনিয়ার মর্যাদা কিংবা পদ-পদবির জন্য জ্ঞান অর্জন না করে জান্নাতের টার্গেট করবেন। যে ব্যক্তি জ্ঞানের মাধ্যমে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু চায় সে জ্ঞানের মর্যাদা বুঝতে পারেনি। তিনি আল কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পবিত্র কুরআনে খোদাভীতিকে আলিমদের গুণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং যে জ্ঞান খোদাভীতির জন্ম দেয় না তা প্রকৃত জ্ঞান নয়। আলিমদের মর্যাদা তুলে ধরে তিনি বলেন, আলিমগণ আল্লাহর রাসূলের ওয়ারিস হিসেবে নির্বাচিত। তাই তাদেরকে রাসূলের পদ্ধতি ও আচরণ অনুসরণ করতে হবে। উত্তম চরিত্রে বিভূষিত হতে হবে। সত্য কথা সুষ্পষ্টরূপে তুলে ধরতে হবে। কোনো বিভ্রান্তিকর কিংবা শত্রুতাপূর্ণ আচরণ আলিমদের জন্য শোভা পায় না। ঘৃণা থাকবে অপরাধের প্রতি কিন্তু ব্যক্তির প্রতি নয়। এমনকি কোনো ব্যক্তি কাফির বা অমুসলিম হলেও তার ব্যক্তিসত্তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করা যাবে না। আমাদের দায়িত্ব হলো হেদায়াতের কাজ করা, কারো ব্যাপারে কুফরী বা গোমরাহীর রায় দেয়া আমাদের কাজ নয়।

এসবের ফয়সালাতো আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন করবেন। আজ বুধবার (১৭.০১.২০১৮) সোবহানীঘাটস্থ হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসা কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর উদ্যোগে “বর্তমান প্রেক্ষাপটে উলামায়ে কিরামের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলীর সভাপতিত্বে ও শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা নজমুল হুদা খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সোবহানীঘাট হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম মনোওর আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্য ভাষান্তর করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ,

রাখালগন্জ সিনিয়র মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা হবিবুর রহমান, ইছামতি কামিল মাদরাসার সাবেক মুহাদ্দিছ মাওলানা শামসুল হুদা ছিরামপুরী, শাহজালাল মসজিদ কিথলী, ইউকে’র ইমাম ও খতীব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাথিউউরা সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল আলিম, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল ইসলাম, সোবহানীঘাট হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা কুতবুল আলম, আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা আজির উদ্দিন পাশা, অফিস সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিয মাওলানা নজীর আহমদ হেলাল,

মাওলানা ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূনুর রহমান লেখন, সাংগঠনিক সম্পাদক আখতার হোসাইন জাহেদ, আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাস্টার আহমদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা ফরিদ আহমদ, সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ছালেহ আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুর রহমান তাজুল, ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া সিনিয়র মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দীন আতহার, সোনাতলা আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফিজুর রহমান,

এলাহাবাদ আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবূ তাহির হোসাইন, ছাতক জালালিয়া আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল আহাদ, হাউসা আলিম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজ আহমদ, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হোসাইন আহমদ তাপাদার, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা মোহাম্মদ আলী, আল ইসলাহ নেতা মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা ছাদিকুর রহমান শিবলী, মাওলানা লুৎফুর রহমান সিরাজী, মাওলানা সৈয়দ কুতবুল আলম, মাওলানা আব্দুস সবুর প্রমুখ।