শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ছাত্র সমাজের মধ্যে প্রকৃত আদর্শ বিলিয়ে দিতে হবে- মাহবুবুর রহমান ফরহাদ  » «   আবারো ত্রিভুবনে ১৩৯ যাত্রী নিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল মালয়েশিয়ার বিমান  » «   ১২ মাস ভিজিএফ’র চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করে প্রমাণ হয়েছে এ সরকার কৃষি বান্ধব  » «   লন্ডন সিলেট ফ্রেন্ডশীপ অর্গানাইজেশনের মুকিত কে সংবর্ধনা  » «   মৌলভীবাজারে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে  » «   নগরী থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ  » «   জ্ঞানের রাজ্যে ভ্রমণের জন্য তো কোনো পাসর্পোট ভিসা লাগেনা–প্রণবকান্তি দেব  » «   কৃষি জমি রক্ষার দাবীতে ফতেহপুরবাসীর প্রতিবাদ সভা  » «   ‘কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই’ –মির্জা ফখরুল  » «   ‘বঙ্গভূম’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন  » «  

রহস্যের ঘের শাল্লায় আটককৃত ৬৯ বস্তা চাল থানায়



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: শাল্লায় বিপুল পরিমাণ চাল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। আজ ১৩ জানুয়ারি সকালে দামপুর গ্রামের আমিনুর মিয়ার বাড়ি থেকে পুলিশ জব্দকৃত ৬৯ বস্তা চাল থানায় নিয়ে আসেন। জানা যায় গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের দামপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীর দু’পাড়ে চাল পড়ে থাকলে এলাকার জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

তখন আশপাশের লোকজন ওই চাল আটক করে শাল্লা থানায় বিষয়টি অবহিত করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত চাল জব্দ করে দামপুর গ্রামের আমিনুর মিয়ার জিম্মায় রাখেন। শনিবার থানা পুলিশ চালের মালিক না পেয়ে জব্দকৃত ওই ৬৯ বস্তা চাল থানায় আনেন। মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ চাল আটকে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে সহদেবপাশা গ্রামের মোঃ ফজল মিয়া জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় দলিল লিখক ও ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের চাউল ব্যবসায়ী মোঃ ফখরুল ইসলাম আমাকে মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থল থেকে তার চাউল মনুয়া বাজার ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে নিতে বলে।’ তিনি আরো বলেন, মোঃ ফখরুল ইসলাম ওএমএস ডিলার মনুয়া গ্রামের খালেদ মিয়ার ওএমএস’র চাউলের সাথে ওই জব্দকৃত চাউল এক সাথেই এখানে এসেছিল।

ওই ফজল মিয়া আরো জানান- ওএমএস’র ৬০ বস্তা চাল নদীর দক্ষিণপাড় হতে ওএমএস ডিলার খালেদ মিয়া এসে নিয়ে যায়। বাকী ৭৫ বস্তা চাউল নদীর উত্তরপাড় থেকে (ঘটনাস্থল) পুলিশের মাধ্যমে দামপুর গ্রামের আমিনুর মিয়া’র বাড়িতে রাখা হয়। এই ৭৫ বস্তা চাউল হতে আমিনুর মিয়াসহ তার সঙ্গীয় লোকজন ৬ বস্তা চাউল নেয়।

এবিষয়ে ওএমএস ডিলার খালেদ মিয়া আমতা আমতা করে বলেন, আমরাতো নৌকা নেই সহদেবপাশা গ্রামের ফজল বেডার। অথচ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফজল মিয়ার নৌকা মেরামতের জন্য ডাঙ্গায় তোলে রেখেছেন। তবে ফজল মিয়া বলেন, মাস খানেক পুর্বেই আমার নৌকা ঠিক করার জন্য নদীর পাড়ে তুলেছি।

আর খালেদ আর ফখরুল মিয়া শরীক হয়ে ওএমএস’র ডিলার চালায়। খালেদ মিয়া আরো জানান, গত বৃহস্পত্তিবার রাত সাড়ে ১০ টায় আমার ৬০ বস্তা চাল শাল্লা থেকে এখানে এনেছি। কিভাবে চাল এখানে এনেছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- নৌকায় এনেছি, তবে নৌকার কাউকে চিনি না। অপরিচিত নৌকায় এত চাল দিয়ে দিলেন অথচ নৌকাটি আপনি চিনেন না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন- নৌকাটি তাড়াইলের লাইনের নৌকা ছিল। এবিষয়ে ফজল মিয়া বলেন তাড়াইলের এখন কোনো নৌকা চলেনা।

এবিষয়ে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও খাদ্যগুদামের ওসিএলএসডি শাহেদুর রউফ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার টেলিফোনিক বার্তায় ঘটনার খবর পেয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফাসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ইউএনও স্যারের টেলিফোনিক নির্দেশ মোতাবেক আমরা দামপুর গ্রামের আমিনুর মিয়া বাড়ি গিয়ে ওই চাল দেখতে পাই। তাছাড়া আমিনুর মিয়া আমাদের জানান, ওই চাল থানা পুলিশ জব্দ করে তার বাড়িতে রেখেছেন।
এব্যাপারে শাল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দামপুর থেকে ৬৯ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। ওই চাল আজ শনিবার থানায় আনা হয়েছে। তবে এবিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।