বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
১২ মাস ভিজিএফ’র চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করে প্রমাণ হয়েছে এ সরকার কৃষি বান্ধব  » «   লন্ডন সিলেট ফ্রেন্ডশীপ অর্গানাইজেশনের মুকিত কে সংবর্ধনা  » «   মৌলভীবাজারে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে  » «   নগরী থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ  » «   জ্ঞানের রাজ্যে ভ্রমণের জন্য তো কোনো পাসর্পোট ভিসা লাগেনা–প্রণবকান্তি দেব  » «   কৃষি জমি রক্ষার দাবীতে ফতেহপুরবাসীর প্রতিবাদ সভা  » «   ‘কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই’ –মির্জা ফখরুল  » «   ‘বঙ্গভূম’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন  » «   আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে সরব হলেন আলিয়া ভাট  » «   নূপুর বেতার ক্লাবের লোক উৎসব শুক্রবার  » «  

শেখ মুজিব বিদ্রোহী ছিলেন না, তাকে বিদ্রোহী বানিয়েছিল পাকিস্তান’



নওয়াজ শরীফের স্বীকারোক্তি

জাতীয় ডেস্ক:: বাংলাদেশের জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না। তাকে বিদ্রোহী বানিয়েছিল পাকিস্তান। একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতাকে (শেখ মুজিব) সেদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল পাকিস্তান।

এটা ছিল এক ট্র্যাজিক পরিণতি। এত বছর পর এই সত্য স্বীকার করলেন পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তিনি নিজের পরিণতির বিষয়ে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পাঞ্জাব হাউজে একদল আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনায় এ মত ব্যক্ত করেন।

তিনি এ সময় বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল বাঙালিদের। কিন্তু তাদের প্রতি আমরা সুবিচার করিনি। পাকিস্তান থেকে তাদের আমরা আলাদা করে দিয়েছি। কার্যত এজন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেন তিনি। নওয়াজ শরীফ আরো বলেছেন, বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন বিস্তারিত বিশ্লেষণ শেষে বাংলাদেশ সৃষ্টির বিষয়ে অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ ও স্পষ্ট রিপোর্ট পেশ করেছে।

কিন্তু এমনকি আমরা তা পড়েও দেখিনি। যদি আমরা এ বিষয়ে নজর দিতাম তাহলে আজকের পাকিস্তান হতো আলাদা। এখন যেভাবে রাজনৈতিক গেম খেলা হচ্ছে, তা হয়তো হতো না। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা অনলাইন ডন। এতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় অযোগ্য ঘোষণা করে। এরপর তিনি পদত্যাগ করেন। কিন্তু পাকিস্তানের কোনো স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বিচার করতে পারে না আদালত। নিজের পরিণতির বিষয়ে তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে টেনে আনেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশকে।

নওয়াজ শরীফ বলেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি নির্যাতিত। তাকে বিদ্রোহ করার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল বলে তিনি ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেন। সেই ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজের পরিণতির তুলনা করেন। নওয়াজ শরীফ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১ সালকে নিয়ে এবারই প্রথম মন্তব্য করলেন এমন নয়। পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। নিজের পরিণতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এসব ক্ষত ভুলে যেতে চাই।

এসব ক্ষতের কথা আমি সামনে আনতে চাই না, যা আমার আবেগকে বাড়িয়ে দেবে এবং তা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো না। নওয়াজ শরীফ বলেন, আমার সঙ্গে এবং পাকিস্তানের ইতিহাসে নির্বাচিত সব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যা করা হয়েছে তা সঠিক নয়। জাতির কাছে এটা কি ধরনের সেবা? তিনি বলেন, যারা পর্দার আড়ালে থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের ইতি ঘটায় বা ঘটাতে চায় তারা তাদের অপরাধ ঢাকতে চায় এবং জাতির কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করে। নওয়াজ শরীফ পাকিস্তানের গণতন্ত্রকে দুর্বল সহযোগিতা করার জন্য বিচারবিভাগকে অভিযুক্ত করেন।

এক্ষেত্রে তিনি বর্তমান ও অতীতের বিচারকদের এক করে দেখেন। তিনি বলেন, এসব বিচারপতি স্বৈরশাসকদের বৈধতা দিয়েছেন। উদ্ভাবন করেছেন অত্যাবশ্যকীয়তা বা ডকট্রিন অব নেসেসিটি। এসব স্বৈরশাসককে বলা হয়েছে, আপনি না এলে দেশ ধ্বংস হয়ে যেত। তাদের বলা হয়েছে, এটাই পাকিস্তানের সংবিধান এবং এটা আপনাদের সম্পত্তি। এর মাধ্যমে তাদের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটা এমন এক কর্তৃত্ব বা অথরিটি যা বিচারকদের নিজেদেরও ছিল না। নওয়াজ শরীফ বলেন, স্বৈরশাসকদের বলা হয়েছে, আমরাও কখনো আপনাদের কোনো প্রশ্ন করবো না, অন্য কেউই প্রশ্ন তুলবে না। আর জাতি থাকবে শান্ত। নওয়াজ শরীফ বলেন, সব মিলিয়ে জাতি একটি ত্রুটির মধ্য দিয়ে গেছে।

নওয়াজ শরীফকে গত ২৮শে জুলাই পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে অযোগ্য ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। এর সমালোচনা করেন তিনি। এর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, তিনি ও তার মেয়ে মরিয়ম সফদার জবাবদিহিতাবিষয়ক আদালতে হাজিরা দিয়েই যাচ্ছেন, কিন্তু এখনও বলা হয়নি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি। বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানেরও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, কাল্পনিক বেতনের বিষয়ে নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য করা হয়েছে। কিন্তু যারা (ইমরান খান) বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড অবলম্বন করেন তাদের ঘোষণা দেয়া হয়েছে সাদিক ও আমিন। তিনি এ সময় ইমরান খানের তৃতীয় বিয়ের গুজব নিয়ে বলেন, এসব কাহিনী এখন আপনারা শুনতে পাচ্ছেন।